Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ৩০ সোমবার, মার্চ ২০২০ | ১৫ চৈত্র ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

বাংলাদেশে ভ্রমণ 'নিষিদ্ধ'

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ মার্চ ২০২০, ০৮:৫৪ PM
আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২০, ০৮:৫৪ PM

bdmorning Image Preview


দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সংক্রমণ রোধে ও জনসমাগম এড়াতে মঙ্গলবার থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এ সুযোগে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করতে পারে মানুষ। এ আশঙ্কায় কক্সবাজার, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, খাগড়াছড়ি, কুমিল্লা ও কুয়াকাটাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ও নিরুৎসাহিত করেছে প্রশাসন।

কক্সবাজার: করোনাভাইরাসকে কেন্দ্র করে পর্যটন শহর কক্সবাজারে পর্যটক আগমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাব কমাতে সরকার সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে কিছু কিছু অতি উৎসাহী পরিবারের লোকজন দেশের বিভিন্ন পর্যটন স্পট ঘুরতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। যে কারণে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন বলেন, সরকার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে বাসায় বসে থাকার জন্য। পাশাপাশি শিশুদের করোনাভাইরাস থেকে যতটুকু সম্ভব মুক্ত রাখার জন্য। কিন্তু লোকজন সরকারের এই মহৎ উদ্যোগের প্রতি সমর্থন না জানিয়ে দেশে দেশে ঘুরতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাই বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে পর্যটক আগমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এ দিকে এমনিতেই ভরা মৌসুমেও অনেকটা পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। পাশাপাশি আগামী ২৬ মার্চের বন্ধের সময়কে কেন্দ্র পর্যটন শহরের চার শতাধিক হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউজসহ কটেজগুলোতে সবক'টি রুম কয়েকমাস আগে বুকিং হয়ে যায়। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে করোনাভাইরাসের প্রভাবকে কেন্দ্র করে বুকিং বাতিলের হিড়িক পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অবস্থায় বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বলে জানালেন হোটেল ব্যবসায়ীরা।

কলাতলীর মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে হোটেল কক্ষের বুকিং কমে গেছে। পাশাপাশি কয়েকমাস পূর্বে যে বুকিংগুলো ছিল তাও অনেকটা বাতিল হয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এখন পর্যটনের ভরা মৌসুম। অন্যান্য বছর এই সময়ে পর্যটকে ভরা থাকলেও, এবারের চিত্র ভিন্ন। করোনাভাইরাসের প্রভাবে কক্সবাজারে আসা অনেকটা বন্ধ করে দিয়েছেন পর্যটকরা। এই অবস্থা চলতে থাকলে পর্যটন ব্যবসায়ীরা যেমন ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন ঠিক তেমনি সরকারও বিশাল অংকের রাজস্ব হারাবে।

বুধবার বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতস্থ লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট, ডায়াবেটিক পয়েন্ট, হিমছড়িসহ কলাতলীর আরও কয়েকটি পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, খুবই স্বল্পসংখ্যক পর্যটক সৈকতের বালিয়াড়িতে ঘোরাফেরা করছেন। সৈকতের বালিয়াড়িতে খালি পড়ে আছে কিটকটগুলো। হকার ও ফটোগ্রাফাররা বেকার সময় পার করছেন।

সৈকতের কিটকট ব্যবসায়ী মো. হাসান বলেন, চলতি মাস থেকে সৈকতে পর্যটক আসা কমে গেছে। যেখানে সৈকতের একেকটি পয়েন্টে ৪০-৫০টি কিটকট (ছাতা) থাকার পরও পর্যটকদের বসার জন্য জায়গা দিতে পারতাম না। সেখানে এখন এই কিটকটগুলো খালি পড়ে আছে। আর ব্যবসাও হচ্ছে না।

পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বছরের মধ্য নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত কক্সবাজারে ভরা পর্যটন মৌসুম। এ সময়ে পর্যটকদের আনাগোনায় মুখরিত থাকে সমুদ্র সৈকতসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন পর্যটন স্পট। প্রতিদিনই কক্সবাজারে আগমন ঘটে অন্তত ৫০ হাজারেরও বেশি পর্যটকের। কিন্তু গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া রোগী শনাক্তের পর থেকে ভরা মৌসুমেও কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকের ঢলে ভাটা পড়েছে।

এ ছাড়া বর্তমানে কক্সবাজারে বিদেশ ফেরত ৫ জন করোনাভাইরাসের আশঙ্কায় কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে বলে জানালেন সিভিল সার্জন।

কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, করোনাভাইরাসের আশঙ্কায় কক্সবাজারে পাঁচ বিদেশ ফেরত ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তবে সরকারি বিধিনিষেধ থাকার কারণে এর বাইরে আমার (সিভিল সার্জন) পক্ষে কিছু বলা সম্ভব না।

এ দিকে করোনাভাইরাস সম্পর্কে পর্যটকরা যাতে সচেতনতা অবলম্বন করে চলাফেরা করেন এবং বর্তমান সময়ে যেন বাসাবাড়ি ছেড়ে কক্সবাজার বেড়াতে না আসে সে জন্য হোটেল-মোটেল কর্তৃপক্ষসহ পর্যটন শিল্প-সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।

চট্টগ্রাম : পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে অহেতুক জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ নির্দেশনা বলবৎ থাকবে বলে জানা গেছে।

বুধবার বিকালে পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান এই আদেশ দেন।

আদেশে বলা হয়, সারা বিশ্বে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে জনসমাবেশসহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় তা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। এই কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে লোকসমাগমে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়ি ভ্রমণে বিদেশি পর্যটকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন। একইসঙ্গে দেশি পর্যটকদের খাগড়াছড়িতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাস যেহেতু সংক্রামক তাই দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে এই সময়ে যাতে পর্যটকরা খাগড়াছড়িতে না আসে। জনস্বার্থে এবং নিজেদের সঙ্গে আপাতত ভ্রমণ থেকে বিরত থাকায় উত্তম। আর বিদেশি পর্যটকদের আমরা খাগড়াছড়ি ভ্রমণের অনুমতি আপাতত দিচ্ছি না।

এদিকে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় জেলা প্রশাসককে আহ্বায়ক ও সিভিল সার্জনকে সদস্য সচিব করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় জাতীয় কমিটির নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করবে।

কুমিল্লা: কুমিল্লার নগরউদ্যান এবং শিশু পার্কসহ সরকারি-বেসরকারি সব বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। এছাড়া জেলার প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান শালবন বিহার ও কোটবাড়ী যাদুঘরসহ জেলার সব দর্শনীয় স্থানগুলোতেও প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লার কোটবাড়ী ময়নামতি জাদুঘর ও শালবন বিহারের কাস্টোডিয়ান মো. হাফিজুর রহমান জানান, কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে জেলার সব প্রত্নতাত্ত্বিক দর্শনীয় স্থানগুলো মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কুমিল্লা কোটাবাড়ীর শালবন বিহার, কোটবাড়ী যাদুঘর, রূপবান মূড়া, ইটাখোলা মূড়া।

এদিকে নগরউদ্যান ও শিশু পার্কসহ বেশ কয়েকটি বিনোদনকেন্দ্রও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জনসমাগম এড়াতে কুমিল্লা নগরীর ঈদগাহ মাঠের ফটকেও তালা দিয়ে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু।

তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস যাতে না ছড়ায় সেজন্য জনসমাগম হয়, এমন জায়গাগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রকোপ কমলে এসব স্থান পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।

এছাড়াও কুমিল্লার আউটার স্টেডিয়ামে চলমান বাণিজ্য মেলাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। খেলার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় ঈদগাহে তরুণদের সমাগমের ওপরেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব স্থান বন্ধ থাকবে বলে জানান কুমিল্লা জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর।

তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনসমাগম হয় কুমিল্লার এমন দর্শনীয় স্থান, নগর উদ্যান, শিশু পার্কসহ সব সরকারি-বেসরকারি বিনোদনকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়াও কুমিল্লা আউটার স্টেডিয়ামে চলমান বাণিজ্য মেলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ঈদগাহে তরুণদের খেলার ওপরেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনসমাগম কমানোর জন্য স্থানগুলো সাময়িক বন্ধ রাখার নিদের্শ দেওয়া হলেও, ভাইরাসের প্রকোপ কমলে আবারও খুলে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

পটুয়াখালী: করোনাভাইরাস প্রতিরোধে পর্যটন শহর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এছাড়াও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রয়োজন ব্যতিত সকল হোটেল-মোটেল বন্ধ ঘোষণা করা হবে বলে পটুয়াখালী ট্যুরিস্ট পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম।

বুধবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের উদ্দেশে মাইকিংয়ের মাধ্যমে অবগত করছি। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে।

Bootstrap Image Preview