Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ০৬ বৃহস্পতিবার, আগষ্ট ২০২০ | ২২ শ্রাবণ ১৪২৭ | ঢাকা, ২৫ °সে

মুক্তিযুদ্ধে ড. কামালের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৮:০৪ PM
আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৮:০৪ PM

bdmorning Image Preview


১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ড. কামাল হোসেনের ভূমিকা রহস্যজনক ছিল বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

সোমবার (১০ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণে আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ অভিযোগ তুলেন।

মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বলেন, অনেকে বলেন ড. কামাল হোসেন সংবিধান প্রণেতা। তিনি (ড. কামাল) আইনমন্ত্রী থাকাকালীন সংবিধান প্রণীত হয়েছিল। তিনি সে কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। নিঃসন্দেহে সে কৃতিত্বের অধিকারী তিনি হতেই পারেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় তার অবস্থান রহস্যজনক ছিল। আমরা সেকথা বলতে চাই না।

ড. কামালের পরিবার বাংলাদেশের সাফল্য মেনে নিতে পারছে না দাবি করে মোজাম্মেল হক বলেন, ‘তাঁর (ড. কামাল) এক মেয়ের জামাতা আছে ইহুদি, তিনিও যে সব সময় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিষোদ্‌গার করে আসছেন, তা নিশ্চয়ই জাতি জানে।’

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আরও বলেন, ‘পরিবারটিই মনে হয়, পরশু দিনের কথায় আমার ধারণা নিশ্চিত হয়েছে, পরিবারটি বোধ হয়, বাংলাদেশের অভ্যুদয়কে যেহেতু মানার ব্যাপারে তাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, আজকে সেগুলো পরিস্কার হয়ে যাচ্ছে, কী ছিল সে সময়কার ভূমিকা।’

প্রসঙ্গত, শনিবার বিএনপির সমাবেশে ড. কামাল হোসেন বলেন, এখন যারা ক্ষমতায় আছে, তাদের লাথি মেরে দেশ থেকে বের করে দিতে হবে। পদত্যাগ পদত্যাগ বললে হবে না। পদত্যাগ না করলে তাদের হাত ধরে টেনে রাস্তায় নামিয়ে দিতে হবে। সত্যিকার অর্থে আমাদের দেশের মালিকের ভূমিকায় আসতে হবে।

এ বিষেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, একজন সংবিধান প্রণেতা নিশ্চয়ই সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেন। সরকারের পতন দাবি করতে পারেন। এটা তার গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু তিনি যে শব্দগুলো ব্যবহার করেছেন সেটা আমরা আশা করিনি। যেহেতু তার জবাব দেওয়ার সুযোগ সংসদে নেই, তাই নিন্দা জানানো ছাড়া আর বেশি কথা বাড়ালাম না।

নোবেল পুরস্কারের মতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রচলনের দাবি জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী। একইসঙ্গে ইউনেস্কোতেও বঙ্গবন্ধুর নামে পুরস্কার চালুর নামে উদ্যোগ নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণায়লকে পরামর্শ দেন। এ সময় তিনি জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়কে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দেন।

মোজাম্মেল হক বলেন, লুই কানের নকশায় বলা আছে, সংসদ এলাকায় কী থাকবে, কী থাকবে না। এই এলাকায় কয়েকজনের কবর আছে, যাঁরা স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন না। একজন সেক্টর কমান্ডার ছিলেন পরবর্তীতে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে সংবিধান কাটা ছিড়া করেছিলেন তাঁরও একটি কথিত কবর আছে। হত্যাকারীরা তাঁর লাশ পুড়িয়ে দিয়েছিল। লাশের সন্ধান পাওয়া যায়নি। কার লাশ এখানে দাফন করা হয়েছে জানা নেই। তিনি নকশা বহির্ভূত কবর বা স্থাপনা অপসারণ করার জন্য স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় সভা হওয়া উচিত। কিন্তু ধর্মসভার নামে ইসলাম বিরোধী যেসব অপপ্রচার হচ্ছে সেদিকে ধর্ম ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সজাগ থাকতে হবে। অপপ্রচারকারী এসব আলেম নামধারীদের তালিকা তৈরি করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ একমাত্র দল যারা ইসলামের পৃষ্ঠপোষকতা করে এসেছে।

Bootstrap Image Preview