Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৪ সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১১ ফাল্গুন ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

রাজধানীতে ইশরাকের প্রচারে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ-গুলি, আহত ১৫

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারী ২০২০, ০৪:৫৬ PM
আপডেট: ২৬ জানুয়ারী ২০২০, ০৪:৫৬ PM

bdmorning Image Preview


ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের প্রচারণায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ইশরাকের কর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রথমে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার পরে দুই পক্ষ একে অপরের দিকে ইটের টুকরা নিক্ষেপ ও লাঠিসোঁটা দিয়ে হামলা করে। হামলার মধ্যে গুলি ছোড়ার শব্দ শোনা গেছে। আধাঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘর্ষের মধ্যে দুই গণমাধ্যম কর্মীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

রবিবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর পৌনে ১টার দিকে রাজধানীর টিকাটুলি মোড় থেকে ইশরাক হোসেন কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মিছিল করে সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজের গলিতে প্রবেশের সময় কলেজের মূল ফটকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা বলছেন, ইশরাকের মিছিল থেকে উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির সমর্থকেরা বলছেন, তারা শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে হামলা চালানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন রাজধানীর মতিঝিল ও টিকাটুলীতে নির্বাচনী প্রচার শেষে গোপীবাগের বাসায় ফিরছিলেন। ইশরাকের মিছিল যখন ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখন আওয়ামী লীগ সমর্থিক কাউন্সিলর প্রার্থী ব্যাডমিনটন মার্কার রোকন উদ্দিন আহমেদ এবং সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলর পদের প্রার্থী লাভলী চৌধুরীর কর্মীরা উপস্থিত হন ওই মোড়ে। দুই পক্ষই শ্লোগান-পাল্টা শ্লোগান দিতে থাকে। এ সময়ে হ্যান্ড মাইকেও ধানের শীষ ও নৌকা প্রতীকের স্লোগান দিতে থাকেন কর্মীরা। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। দুই পক্ষের কর্মীরা এ সময় রাস্তার পাশে থাকা চেয়ারও ছুড়ে মারেন। এর মধ্যে অন্তত ১০টি গুলির শব্দও শোনা গেছে। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে শুরু হয়ে ১টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ঢিল ছোড়াছুড়ি চলে। কয়েকটি গাড়ি এ সময় ভাঙচুরের শিকার হয়। গোপীবাগে ইশরাকের বাসার মোড়ে পুলিশ দ্রুত অবস্থান নেওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ইশরাকের কর্মী রকী, বিল্লাহ হোসেন, নাহিদ ইকবাল ফয়সাল, আরমান, মিজানুর রহমানসহ ১৪/১৫ জনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়। সময় টেলিভিশনের চিত্র সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম ও নয়াদিগন্তের প্রতিবেদক তৌহিদ ইকবাল মজুমদাম এ ঘটনায় আহত হয়েছেন।

বিনা উসকানিতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থীর ক্যাম্প থেকে বিএনপির কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন। হামলার ঘটনা নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনকে বানচাল করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ হামলা হয়েছে। আমরা হাটখোলা থেকে টিকাটুলি হয়ে আমার বাসার দিকে ফিরছিলাম জনসংযোগ শেষে। আমার বাসা থেকে আমরা মাত্র দুই মিনিট দূরে ছিলাম। আমাদের ফেরার রাস্তার পাশে একটি নির্মাণাধীন বিল্ডিং থেকে আমাদের ওপর আক্রমণ করা হয়। এই নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থীর ক্যাম্প ছিল। এই প্রার্থীর ক্যাম্প থেকে এক দল যুবক বড় বড় ইট নিয়ে আমাদের ওপর নিক্ষেপ করে। এতে সাংবাদিকদের ক্যামেরা ভেঙে যায়। কয়েকজন ক্যামেরাম্যান আহত হন। আমার একজন কর্মীকে তারা ভেতরে নিয়ে গেছে শুনে আমি তাকে উদ্ধার করতে যাই। পরে আমার গায়েও ইট লাগতে নিয়েছিল।

গুলিবর্ষণের ঘটনার ব্যাপারে ইশরাক বলেন, গণসংযোগ ও প্রচারণায় ব্যস্ত বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা গুলিবর্ষণ করেছে বলে আওয়ামী লীগের অভিযোগের বিষয়ে ইশরাক বলেন, আমরা গুলি করবো কেন? বিএনপি নেতাকর্মীরা নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন। আমরা মিছিল করছিলাম। তারা গুলিবর্ষণ করেছে। জনগণ আওয়ামী লীগের কথা বিশ্বাস করে না। এই সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের হাতেই অস্ত্র আছে। এটা সবাই জানে। বিনা উসকানিতে হামলা চালানো হলো। তবে এ হামলায় মামলা করে জনগণের মনোবল দুর্বল করা যাবে না। ১ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমে আমরা এর জবাব দেব।

ইশরাক আরও বলেন, ‘গোপীবাগে আমার দাদার বাড়ি। আমার পৈতৃক বাড়িতে আসছিলাম। তখনই হামলা চালানো হলো। আমার কি আমার নিজের বাসায় আসতেও পুলিশের অনুমতি নিতে হবে?’

তিনি বলেন, এই হামলার উদ্দেশ্য বিএনপিকে মাঠছাড়া করা, নির্বাচন বানচাল করা। তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে থাকবে। এই হামলার ব্যাপারে মামলা করা হবে।

বিএনপির জনপ্রিয়তায় ‘ঈর্ষান্বিত’ হয়েই এ হামলা চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইশরাক।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী রোকন উদ্দিন আহমেদ পাল্টা অভিযোগ এনে বলেন, আমরা ক্যম্পের ভিতরে ছিলাম। হঠাৎ ইশরাকের লোকজন আমাদের নির্বাচনী ক্যম্পের দরজা ভেঙে আমাদের ওপর হামলা করে। এ সময় ইশরাকের লোকজন আট রাউন্ড গুলি ছোড়ে, তাদের হামলায় আমাদের লোকজন আহত হয়েছে। মেয়র প্রার্থী নিজেই সঙ্গে থাকা বন্দুক দিয়ে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি করেন। এতে এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হন। আমাদের কেউ হামলায় ছিল না। এছাড়া ইটপাটকেলের আঘাতে আরো কয়েকজন আহত হলে তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইশরাক হোসেন যে এ সময় প্রচারণা চালাবেন তা পুলিশকে জানানো হয়নি। আগে জানতে পারলে তারা নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থা নিতে পারতেন।

কিছু কিছু পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে ইশরাক বলেন, গণসংযোগের তথ্য জানিয়ে পুলিশের কাছে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা চাওয়া হলেও পুলিশ নিরাপত্তা দেয়নি। কিছু কিছু পুলিশ দায়সারা ভাবে কাজ করছে। তারা আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীদের মত আচরণ করছে।

হামলার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করার বিষয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, এর আগেও হামলার বিষয়ে ইসিতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল, ইসি (নির্বাচন কমিশন) কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তাছাড়া বিএনপির এক কাউন্সিলর প্রার্থীর উপর ইতোঃপূর্বে হামলার বিষয়ে অভিযোগ করা হলেও নির্বাচন কমিশন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

ওয়ারী থানার ডিউটি অফিসার শিলা আকতার বলেন, তারা ৯৯৯ থেকে প্রথম সংঘর্ষের খবর পান। এরপর সেখানে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয় এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ওয়ারী থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) সুদীপ কুমার সাহা বলেন, ইশরাক হোসেনের এই এলাকায় নির্বাচনী প্রচারের কথা ছিল বিকাল ৫টায়। সে অনুযায়ী পুলিশকে তারা একটি চিঠিও দিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে তারা দুপুর ১টায় ওই এলাকায় নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন, যা পুলিশকে জানাননি। ফলে পুলিশের কোনো প্রস্তুতি ছিল না। ইশরাক হোসেন টিকাটুলি উইমেন্স কলেজের কাছে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী রোকন উদ্দিনের নির্বাচনী ক্যাম্পের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় উত্তেজনা বাড়ে। এ সময় দুই পক্ষের কথা কাটাকাটি থেকে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হন।

Bootstrap Image Preview