Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১২ রবিবার, জুলাই ২০২০ | ২৭ আষাঢ় ১৪২৭ | ঢাকা, ২৫ °সে

ইউটিউব দেখে স্কোয়াশ চাষে লাভবান নওগাঁর সৌরভ

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারী ২০২০, ০১:৩৮ PM
আপডেট: ১৭ জানুয়ারী ২০২০, ০১:৩৮ PM

bdmorning Image Preview


ইউটিউবে দেখেই পরীক্ষামূলক বিদেশি সবজি স্কোয়াশ চাষে ভালো ফলন পেয়ে সফল স্কোয়াশ চাষি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন নওগাঁর রাণীনগরের বেকার যুবক সৌরভ খন্দকার।

স্কোয়াশ অনেকটা বাঙ্গির মতো দেখতে ও মিষ্টি কুমড়ার স্বাদে পুষ্টিকর অস্ট্রেলিয়ান একটি সবজি। স্কোয়াশ উপজেলায় প্রথমবারের মতো চাষ হলেও বাজারে এর চাহিদা ও দাম ভালো হয়েছে। সবজি হিসেবে এই এলাকায় স্কোয়াশ নতুন হওয়ায় এর চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে স্কোয়াশ দেখতে ক্ষেত স্থানীয় অন্যান্য ফসল ও সবজি চাষিরা সৌরভের কাছে আসতে শুরু করেছেন।   

জানা গেছে, উপজেলা সদরের সিম্বা গ্রামের আবু রায়হান খন্দকারের ছেলে সৌরভ খন্দকার বেশ কিছুদিন আগে মোবাইল ফোনে ইউটিউবে স্কোয়াশ চাষের একটি প্রতিবেদন দেখেন। এটা দেখেই উৎসাহিত হয়ে ওঠেন। বগুড়া জেলা শহরের একটি দোকান থেকে একশত গ্রাম বীজ কিনে বাড়ির উঠোনে বীজতলা প্রস্তুত করে বপণ করেন। এক সপ্তাহের মধ্যে স্কোয়াশের চারা রোপণের উপযোগী হলে প্রায় তিন কাঠা পৈতৃক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে চারা রোপণের প্রায় ৩৫ দিনের মধ্যেই গাছে দুই-তিনটি করে স্কোয়াশ ফল ধরতে শুরু করে। স্কোয়াশের ওজন প্রায় আধা কেজি থেকে এক কেজি হতেই স্থানীয় বাজারে বিক্রি শুরু করেন চাষি সৌরভ। বর্তমানে বাজারে স্কোয়াশ ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। 

তিন কাঠা জমিতে পরিচর্যা, বীজসার ক্রয়সহ এখন পর্যন্ত সৌরভের প্রায় তিন থেকে চারশত টাকা খরচ হয়েছে। তার স্কোয়াশ ক্ষেতে প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি গাছ রয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে নিবিড় পরিচর্যা ও কোনো রোগবালাই না হওয়ায় স্বল্প খরচে ভালো ফলন পেয়ে লাভবান হয়েছেন সৌরভ। অন্যান্য কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তিনি বেকারত্ব দূর করে স্বাভলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। আগামীতে এর চাষের পরিধি আরো বৃদ্ধির আশা করছেন সৌরভ।   

কৃষি আফিস বলছে স্কোয়াশ মূলত একটি শীতকালীন সবজি। এটি মিষ্টি কুমড়ার  মতো সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। বেলে, দোআঁশ মাটিতে স্কোয়াশ চাষ ভালো হয়। প্রতিটি স্কোয়াশ গাছে রোপণের পর থেকে প্রায় আড়াই মাসে ১৪ থেকে ১৫টির মতো ফল ধরে। 

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, সৌরভের স্কোয়াশ ক্ষেত খুব ভালো হয়েছে। ফলনও আশানুরুপ। আমাদের পক্ষ থেকে যথাযথ দিক নির্দেশনা, সময় মত সঠিক পরিচর্যাসহ বিভিন্ন  পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এই এলাকায় সবজিটি নতুন হলেও বাজারে চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় তিনি লাভবান হবেন তিনি এমনটাই আশা করছি আমরা।

Bootstrap Image Preview