Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ৩০ বুধবার, সেপ্টেম্বার ২০২০ | ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ | ঢাকা, ২৫ °সে

নারায়ণগঞ্জে অপহৃত স্বামীর কঙ্গাল ফেরত চেয়েও পেলেন না স্ত্রী

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ১১:৪৪ AM
আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ১১:৪৪ AM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত


‘আমি তাদের বলেছি আমার স্বামীকে জীবিত অথবা মৃতদেহটাই আমাদের কাছে ফিরিয়ে দাও। আর যদি মৃতদেহ দিতে না পারো তার কঙ্কালটা আমাকে দাও আমি তাই নিয়ে অনেক দূরে চলে যাবো। কিন্তু তারা আমাদের কোনো কিছু দিয়েই সান্ত্বনা দিচ্ছে না।’ নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেনকে অপহরণ ও গুমের ৫ বছর আগামীকাল বৃহস্পতিবার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ইসমাইলের স্ত্রী জোসনা বেগম কথাগুলো বলেন।

হতভাগ্য এই গৃহবধূ বলেন, ‘একজন মানুষকে যখন অপহরণ করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রমাণ পেয়েছে তাহলে তার সন্ধান কেনো পাচ্ছে না। আমি আমার স্বামীকে চাই’।

তিনি বলেন, অপহরণ ও গুমের ৫ বছর কীভাবে যে পার করেছি তা আল্লাহ জানে। যাদের সন্দেহ করেছি তারা অপহরণের পর থেকে আমাকে ও আমার ছেলেকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। আমার ছেলেকে হত্যায় ব্যর্থ হয়ে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করেছে।

২০১৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী এলাকা থেকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের মুখে ইসমাইলকে অপহরণ করে। আজও ইসমাইলের অপেক্ষায় স্ত্রী সন্তানসহ তার পরিবারের লোকজন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। একের পর এক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তেও ইসমাইলের কোনো সন্ধান পায়নি তার পরিবার। বর্তমানে মামলাটি পুলিশের অপরাধ বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করছে।

বাদী পক্ষের আইনজীবী শাহ মাজহারুল জানান, কাঁচপুর কুতুবপুর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন ২০১৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী এলাকা থেকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের অস্ত্রের মুখে অপহরণ হয়।

এ ঘটনায় কুতুবপুর এলাকার মোশারফ হোসেন, নাছির উদ্দিন, কাইয়ুম, মামুন, সেলিম ও কাউছারের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পূর্বশত্রুতার জের ধরে তারা অপহরণ করতে পারে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

ইসমাইল হোসেন অপহরণ মামলাটি প্রথমে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ তদন্ত করেছিল। পরে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে গত বছরের ৩০ আগস্ট প্রতিবেদন দাখিল করেছে।

প্রতিবেদনে অপহরণ হয়েছে দাবি করা হলেও আসামিদের জড়িত থাকার প্রমাণ পায়নি। এ চার্জশিটের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি প্রদান করেন অপহৃতের ছোট ভাই আব্দুল মান্নান। নারাজি আবেদন শুনানী শেষে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার বাদী আব্দুল মান্নান পরিবর্তন ডটকমকে জানান, মামলা দায়েরের কয়েক দিন পর সিদ্ধিরগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার প্রধান আসামি ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত নূর হোসেনের মাধ্যমে তৎকালীন আদমজীনগর র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক তারেক মোহাম্মদ সাঈদ মুক্তিপণ হিসেবে দুই কোটি টাকা দাবি করেন। তাদের কাছে আমার ভাই ইসমাইল রয়েছে তার প্রমাণ হিসেবে এক সোর্সকে দিয়ে একটি চিরকুট পাঠান তারেক সাঈদ। এরপর এক কোটি টাকা নিয়ে যাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে আজও ইসমাইলকে ফেরত দেয়নি।

Bootstrap Image Preview