Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ০৪ শনিবার, জুলাই ২০২০ | ২০ আষাঢ় ১৪২৭ | ঢাকা, ২৫ °সে

কুড়িগ্রামে বাড়ছে শীতের তীব্রতা

মোঃ মনিরুজ্জামান, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:৫৪ AM
আপডেট: ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:৫৪ AM

bdmorning Image Preview


কুড়িগ্রাম জেলা নিম্ন হিমালয় ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জেলা দার্জেলিং এর নিকটবর্তী হওয়ায় দেশের অন্যান্য জেলার চেয়ে এ জেলায় শীতের প্রকোপ থাকে অনেক বেশী। কিন্তু বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর এখনো তেমন শীত লক্ষ্য করা যায় নি। তবে দেশের যে কোন জেলার থেকে এ জেলায় কিছুটা বেশী শীত পড়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই।

বিশেষ করে রাতে শীতের তীব্রতা থাকে অনেক বেশী। গত সপ্তাহের আগে টানা দু'দিন গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হওয়ার কারণে  এর ভয়াবহতা ছিল বেশী। সে সময় কুয়াশা কম থাকলেও শীতের তীব্রতা ছিল বেশী। বর্তমানে কুয়াশা ও শীত সমানভাবে পড়ে যাচ্ছে। এতে অনেক এলাকায় দুপুরের আগে সূর্যের দেখা মিলছে না।

বয়োজ্যেষ্ঠরা বলছেন, পৌষের মাত্র ১০ দিন যাচ্ছে। এখনো পুরো মাঘ মাস আছে। মাঘে অনেক শীত পড়ে। গ্রামে প্রবাদ আছে যে, মাঘের শীতে নাকি বাঘের দাঁত নড়ে।

জেলার নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম সদর, ফুলবাড়ি, ভূরুঙ্গামারী ও রাজারহাট উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাটগুলোতে শীতের কারণে সকালে লোকজনের চলাচল থাকে তুলনামূলক কম। বিকেল বেলাতেও সূর্যাস্তের পূর্ব থেকে রাস্তাঘাট ফাঁকা হতে শুরু করে। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রচারণার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদেরকে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করতে দেখা যায়। এক্ষেত্রে ভোট প্রার্থীরা গ্রামগঞ্জের চায়ের দোকানকেই বেছে নিয়েছেন। জমে উঠেছে বিভিন্ন হাটবাজারের চায়ের দোকানগুলোর ভোটের আড্ডা।

অনেক এলাকায় শীত উপেক্ষা করে কাজে যোগ দিতে পারছেন না এক শ্রেণির মানুষ। এদের মধ্যে জেলে, মাঝি, কৃষক অন্যতম। এলাকার গুণীজনরা মনে করেন পিছিয়ে পড়া এ জনগোষ্ঠীর অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে শীতের প্রকোপ। এর কারণে শীতকালে বয়স্ক ও শিশুরা মারাত্মকভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভোগে।

শীতের কারণে বয়স্ক ও শিশুদের রোগ-বালাই বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে এ সংক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সিভিল সার্জন অফিসের একটি দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইয়নিয়নের ডিপের হাট গ্রামের জেলে আলিমুদ্দিন বলেন, তিনদিন থাকি জামো জামো করি মাছত (মাছ ধরতে) যাইতে পারি না। ছওয়া পাওয়া নিয়া বিপদত আছি।

ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আমির আলী জানান, শীতে লোকজন কাজে আসতে চায়না। এতে অতিরিক্ত মজুরী দিতে হয়। এখন অতিরিক্ত মজুরী দিয়েও লোক পাওয়া যায় না।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের মরাটারী গ্রামের রিক্সাচালক আজিজার জানান, এখন তো একদিন না গেইলেও পরের দিন কাজত যাইতে পারছি; শীত বাড়লে যে কি হবে?

শীতার্ত ছিন্নমূল মানুষের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাসপাতাল, ফুটপাত, বিভিন্ন শেড এবং রেলস্টেশনে আশ্রয় নেয়া শতাধিক ছিন্নমূল মানুষের মাঝে গভীর রাতে গিয়ে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। সে সময় জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন নিজ হাতে ওইসব মানুষের মাঝে এ কম্বল বিতরণ করেছিলেন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এ বছর ৯টি উপজেলায় ছিন্নমূল মানুষের জন্য ৪১ হাজার কম্বল বরাদ্দ রয়েছে। 

এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও সেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলার চর ও নদীভাঙ্গন এলাকার ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা সদরের এক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, সরকার থেকে যেসব শীতবস্ত্র পাওয়া যায় তা চাহিদার চেয়ে অনেক কম। এছাড়া যথাযথভাবে এগুলো বিতরণ হচ্ছে কি না তাও ভেবে দেখা দরকার।

তিনি বলেন, মঙ্গাখ্যাত ও নদীভাঙ্গন এলাকার বিভিন্ন চরাঞ্চলের ছিন্নমূল মানুষের কথা চিন্তা করে দেশের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও বিত্তবানরা এগিয়ে আসুক এটাই আশা করি।

 

Bootstrap Image Preview