Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৫ রবিবার, অক্টোবার ২০২০ | ৯ কার্তিক ১৪২৭ | ঢাকা, ২৫ °সে

বরগুনা-২: ফাঁকা মাঠে আ.লীগ, পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি

ইমরান হোসাইন, পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২২ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৭:৩৮ PM
আপডেট: ২২ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৭:৩৮ PM

bdmorning Image Preview


বরগুনা-২ (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে বর্তমান সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমনকে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বিশিষ্ট আইনজ্ঞ এ্যাড. খন্দকার মাহবুব হোসেনকে।ফলে আসনটি ধরে রাখতে চাইছে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে আসন পুনরুদ্ধারে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে বিএনপি।

আসনটি এক সময়ে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও পরপর দুবার আওয়ামী লীগের দখলে থাকায় আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। ২০১৩ সালের ২৬ জুলাই আওয়ামী লীগের দলীয় সংসদ সদস্য গোলাম সবুর টুলুর মৃত্যুতে ২৮ জুলাই বরগুনা-২ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এরপর উপ-নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে শওকত হাচানুর রহমান রিমন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে দশম সংসদ নির্বাচনে জয়ী হন রিমন। এবারও তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়।

দলীয় প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই রিমন নেতাকর্মীদের নিয়ে লিফলেট বিতরণ, রিকশায় গান-বাজনা করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকটা ফাঁকা মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন নেতাকর্মীরা। প্রতিদিন তিনি বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক নিয়ে গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। অন্যদিকে আসন ফিরে পেতে প্রচারণায় নেমেছেন বিএনপির প্রার্থী এ্যাড. খন্দকার মাহবুব হোসেন। তবে তার অভিযোগ তার প্রচারণায় বাধা দেয়া হচ্ছে।

এ দিকে স্থানীয়ভাবে বিএনপি এখানে দুভাগে বিভক্ত। এর এক ভাগের নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মণি। দল থেকে প্রাথমিক নুরুল ইসলাম মণি ও এ্যাড. খন্দকার মাহবুবকে মনোনয়ন দেয়া হয়। তবে চূড়ান্ত মনোনয়ন পান খন্দকার মাহবুব হোসেন। বর্তমানে তার পক্ষে কিছু কর্মী মাঠে নেমেছেন। তাছাড়া হামলা ও মামলার ভয়েও আছেন অনেকে। বিভক্তি রয়ে গেছে তৃণমূল পর্যায়ে। আসনটি পুনরুদ্ধারে সাবেক তিন বারের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মণির দরকার ছিল বলে মনে করেন তার সর্মাথকরা। বিএনপির দলীয় সূত্র বলছে নূরুল ইসলাম মণির অনুসারীদের সাথে খন্দকার মাহবুব হোসেন যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। অচিরেই সব ভেদাভেদ ভূলে ধানের শীষের পক্ষে এক সাথে কাজ করবেন তারা।

এ আসনে আওয়ামী লীগ ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ছারাও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরু (হাতপাখা)। জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী মিজানুর রহমান (লাঙ্গোল), ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ থেকে জাকির হোসেন (টেলিভিশন) ও ইসলামী ঐক্যজোট থেকে বশির উদ্দিন বিশ্বাস (মিনার) প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। আসনটিতে কিছুটা সক্রিয় রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরু। তিনি গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণা ব্যস্ত সময় পার করছেন। যদিও বরাবর মূল লড়াই হয়েছে নৌকা ও ধানের শীষে। 

খন্দকার মাহবুব হোসেন জানান, সুষ্ঠ নির্বাচন হলে তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন। আমরা তৃণমূল জনগণ ও তরুন ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। পাথরঘাটা-বামনা-বেতগীর উন্নয়নে যেসব সমস্যা আছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করব। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী তার প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। 

আওয়ামী লীগের প্রার্থী শওকত হাচানুর রহমান রিমন বলেন, জনগণের কাছে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ তুলে ধরছি। এলাকার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। গত ১০ বছরে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। অথচ বিএনপির সময়ে কোনো উন্নয়ন হয়নি। ফলে আবারো এখানে আওয়ামী লীগকেই বেছে নেবে মানুষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যাতে আসনটি উপহার দিতে পারি, সে চেষ্টা করে যাচ্ছি।

Bootstrap Image Preview