Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ০৯ রবিবার, আগষ্ট ২০২০ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭ | ঢাকা, ২৫ °সে

পর্যটন সেবা দিতে রানার 'রান বাংলাদেশ' কি থেমে যাবে?

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর ২০১৮, ০৩:১৯ PM
আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০১৮, ০৪:১৩ PM

bdmorning Image Preview
ছবি: বিডিমর্নিং


আরিফ চৌধুরী শুভ।।

দেশের পর্যটনখাতে সবচেয়ে বেশি আয় আসে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প থেকে। গত বছর ঈদের পরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার মতো আয় হয়েছে এই খাত থেকে। তাই এই শিল্প নিয়ে অনেকের অনেক স্বপ্ন ও পরিকল্পনা দৃশ্যমান। অথচ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ, উদ্যোগ, সহায়তা ও তথ্যের অভাবে পর্যটনের সম্ভাবনাময় এই খাতটি এখনো নানা অবহেলার শিকার।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত পুরোটাই দখল হয়ে যাচ্ছে একটি পরিকল্পিত শক্তিশালী চক্রের হাতে। সারাদেশের পর্যটনখাতগুলোর অবস্থাটাও যেন অনেকটা একই রকম। এইসবে আজ শুধু আক্ষেপ নয়, ব্যর্থতাটাও আমাদের প্রশাসনকে স্বীকার করতে হবে। এই সকল পর্যটন এলাকায় সৌন্দর্য্যের নানা উপাদান থাকলেও কার্যত তা নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন কারণে। কিন্তু উদ্যোগটা নেবে কে?

প্রকৃতির অপার সৌন্দয্য দিয়ে ঘিরে রেখেছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকতের শহর কক্সবাজারকে। সবুজ পাহাড়, পাহাড়ের বুক ছুঁয়ে বয়ে যাওয়া ঝর্ণা, বিশাল সমুদ্রের মাঝখানে ছোট ছোট দ্বীপকে ছবিয়াল যেমন আটকে রাখে ক্যামেরার ল্যান্সে, তেমনি এই সব দৃষ্টিনন্দন দৃশ্যে যে কেউ খুব সহজেই আকৃষ্ট হতে পারে। প্রকৃতির এই রুপকে কাজে লাগিয়ে পর্যটকবান্ধব কক্সবাজার গড়ে তোলার দাবি এখনই। কিন্তু সাধারণের এই দাবি পূরণ করবে কে? দায়টাও কার? তবে এখন যদি নজর দেওয়া না হয়, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে তা ঠিক করা খুবই কঠিন হয়ে যাবে।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে শুরু করে সেন্টমার্টিন দ্বীপ পযন্ত অপার সম্ভাবনার স্থানগুলো মুখ থুবড়ে পড়েছে এরই মধ্যে। অনুউন্নত রাস্তাঘাটে ভোগান্তির সাথে চলছে অপরিকল্পিতভাবে স্থাপনা নির্মার্ণের প্রতিযোগিতা। তাছাড়া পর্যটকদের সাথে ব্যবসায়ীদের অসৌজন্যমূলক আচরণ, অনিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ নানা কারণে কক্সবাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে এইসব স্থানে ঘুরতে আসা পর্যটকরা।

তবে বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কিছু। কক্সবাজারে আবাসনের সংকট নেই, কিন্তু আছে অনিয়ম ও অরাজগতা। হোটেল মোটেল সব জায়গাতেই এই অরাজগতা। ভুক্তভোগিরা বিচার দিবে কোথায়? অতিরিক্তি ভাড়া আদায় করাসহ নানা কারণে মানুষকে উভয়সংকটে পড়তে হয় প্রায়ই। এ যেন এখন বড্ড বাস্তবতা।

পর্যটকবান্ধব কক্সবাজার গড়ে তোলার জন্যে স্বপ্নবাজ মানুষের সংখ্যাও কম নয়। ছবিওয়ালা থেকে শুরু করে সৃষ্টিশীল বহু মানুষ কক্সবাজারকে নিয়ে পরিকল্পনা করে বার বার ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু ব্যর্থ হতে চায় না ‘রান বাংলাদেশ’। সারাদেশের মানুষকে ডিজিটাল পর্যটন সুবিধা দিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে ২০১৫ সালে বেসরকারি সংগঠন ‘রান বাংলাদেশ’ যাত্রা শুরু করে।

‘রান বাংলাদেশে’র প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ রানা সিরাজগঞ্জ থেকে কক্সবাজারের টেকনাফে ঘুরতে এসে ভোগান্তির শিকার হন রানা। উপলব্ধি করতে থাকেন পর্যটকদের হয়রানির কথা। তারপর থেকেই ভাবতে থাকেন কক্সবাজারের এই সৌন্দর্যকে কিভাবে পর্যটকদের কাছে খুব সহজেই পরিচিত করা যায়, পর্যটকদের কিভাবে সেবা দেওয়া যায়। জীবনের অনেক কিছু বিসর্জন দিয়ে নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে  পর্যটকদের জন্যে তার অনন্য উদ্যোগ ‘রান বাংলাদেশ’ এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে।

কিভাবে কাজ করবে রান বাংলাদেশ?

রানা প্রথমে টেকনাফ কক্সবাজারের অসংখ্য সুন্দর ছবি ক্যামেরায় বন্দী করতে থাকেন। একটি ইউটিউব চ্যানেলও খোলেন। নিজের তোলা ছবিগুলো দিয়ে ভিডিও বানিয়ে আপলোড করতে থাকেন ইউটিউবে। সাড়া পড়ে যায় আস্তে আস্তে।এই কাজের জন্য ভালো ক্যামেরা ও পর্যটন এলাকায় এইসব কাজ করতে নিজের সুরক্ষার প্রয়োজনীয় সহায়তার দরকার থাকলেও কর্তা ব্যক্তিদের ধারে ধারে ঘুরেও তা পাননি। পরে ব্যাংক লোন করে কিনে নিলেন ক্যামেরা। কষ্ট হয়েছে কিন্তু হাল ছাড়েনি রানা। চেষ্টাই ছিল তার সাফল্যের একমাত্র অবলম্বন।

ইউটিউবে তার ভিডিও ভাইরাল হতে থাকে। পর্যটন আকৃষ্টকারী এইসব ভিডিও নজরে পড়ে বর্তমান  সরকারের  তথ্য  প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের। ডাক পড়ে রানার। খুশি হয়ে রানা ছুটে আসেন মন্ত্রণালয়ে। তাকে দেওয়া হয় অনুপ্রেরণা ও পাশে থাকার প্রত্যয়।

মন্ত্রীর অনুপ্রেরণা নিয়ে রানা আবার কাজে মন দেন। আইডিয়াগুলো গুছিয়ে ‘ওয়ান স্টপ’ সার্ভিস প্ল্যান তৈরি করেন। অনলাইনে ‘ওয়ান স্টপ’ সার্ভিস প্ল্যানটি বাস্তবায়নের জন্যে জমা দেন রানা। রানাকে ‘রান বাংলাদেশ’ এগিয়ে নেওয়ার জন্যে আইসিটি মন্ত্রণালয় থেকে সহায়তা বাবদ ৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সহযোগিতা করা হয়। কিন্তু এতবড় একটি আইডিয়া বাস্তবায়নের জন্যে এই অর্থ খুবই নগন্য। এজেন্যে রানা পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চাচ্ছেন। কারণ রানার আইডিয়াটি পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাথে সরাসরি সম্পর্কর্কীত। রানার বিশ্বাস এই সহযোগিতা পেলে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এবং রানার স্বপ্ন ‘ডিজিটাল ট্যুরিজম’ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। জনগনের দৌরগোড়ায় পৌঁছাবে এই সেবা।

স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে রানার ‘ওয়ান স্টপ’ সার্ভিস বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে সহজভাবে সেবা দিবে বলে রানার দাবি। এই সেবা শুরু হবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে। ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে রান বাংলাদেশের মাধ্যমে মানুষ জানতে পারবে দেশের ভ্রমণ সম্পকির্ত বিভিন্ন প্যাকেজ ও পছন্দের ভ্রমণস্থান সম্পর্কে। কষ্ট হবে না সৈকতে ঘুরতে গিয়ে নানা বিড়ম্বনার। থাকবে না বাড়তি ঝামেলারও। সাধ্যের মধ্যে সবকিছু দেখেই নিরাপদ ভ্রমণে বের হতে পারবে মানুষ।

রানার অনন্য কাজ বিচ ফটোগ্রাফির জন্য মন্ত্রীর কাছ থেকে রানা সম্মাননা স্মারক পেয়েছেন। কিন্তু রানা সম্মাননা চান না। রানা চান তার স্বপ্নের পূর্ণ বাস্তবায়ন। রানার দরকার অর্থনৈতিকও প্রযুক্তিগত সহায়তা। আইসিটি মন্ত্রণালয়কে পাশে পেলেও পর্যটনমন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা রানা এখনো পাননি। রানার আইডিয়া সহযোগিতা করবে সরকারকে। বাস্তবায়ন হলে এগিয়ে যাবে দেশ।

নি:স্বার্থভাবে এত কাজ করেও রানা বর্তমানে অভাব অনটনের জীবন পার করছেন। বেঁচে থাকার জন্যে রানার ক্যামেরা আজও তোলে সমুদ্রের নান্দনিক মনোমুগ্ধকর ছবি আর ইউটিউবে আপলোড হয় সেই সব ছবির ভিডিও। সবই ঠিক আছে, কিন্তু রানার মনে অজানা শঙ্কা, অর্থাভাবে তার স্বপ্নটা কি থেমে যাবে?

রানার বিশ্বাস রান বাংলাদেশ দাঁড়াতে পারলে এটি হবে ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্যে একটি অনন্য উদাহরণ। রানার স্বপ্ন সত্যি হবে, না কি থেমে যাবে তা আমরা বলতে পারি না। তবে রানারা বাংলাদেশকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছে সেটি কখনো থামবে না।

Bootstrap Image Preview