Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ০৯ রবিবার, আগষ্ট ২০২০ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭ | ঢাকা, ২৫ °সে

ইয়াবা সম্রাজ্ঞী ইডেন ডি’সিলভা পুলিশের জালে আটক

মশিউর রহমান জারিফ
সাব এডিটর
প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০২:৪৬ PM
আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০২:৫০ PM

bdmorning Image Preview


ইয়াবা সুন্দরী হিসাবে পরিচিত ইডেন ডি’সিলভাকে গ্রেফতারের পর উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোর রাতে একটি বাড়ি থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেছে গুলশান থানা পুলিশ। বর্তমানে তাকে মাদক মামলায় জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মাদকের সঙ্গে তার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা থাকলেও চুরির মামলায় তাকে গ্রেফতার করেছে গুলশান থানা পুলিশ।

১৯ বছর বয়সী ইডেন ডি’সিলভা অনেকের কাছে রামিসা সিমরান নামেও পরিচিত। অনেকে তাকে ইয়াবা সুন্দরী নামেও ডাকেন। ভার্চুয়াল জগতে তার ইয়াবা সেবনের ছবিও রয়েছে। তিনি থাকেন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়।

জানা যায়, দীর্ঘদিন হতে মাদক ব্যবসা ও প্রতিতাবৃত্তি করে আসছে ইডেন ডি’সিলভা। সিলভা দীর্ঘদিন হতে একটি মাদকসিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় হেরোইন, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বিক্রি করে আসছে। এই ব্যবসা হতে সে লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছে। এছাড়া গুলশানে বিভিন্ন জায়গায় বাসা ভাড়া নিয়ে সে পতিতাবৃত্তি করে আসছে। এই ইয়াবা সুন্দরী প্রেমের জালে ফাসিয়ে অনেক ব্যক্তির কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

পুলিশের কাছে অভিযোগ রয়েছে, পুরান ঢাকার এক সংসদ সদস্যের ছেলে এই ইয়াবা সুন্দরীর প্রেমের জালে অনেক কিছু হারিয়েছেন এবং মাদকের খপ্পড়ে পড়েছেন বলেও পুলিশের কাছে অভিযোগ এসেছে।

চুরির মামলার বিবরণীতে জানা যায়, গুলশানের এক ধনাঢ্য পরিবারের সঙ্গে গত বছর জুলাই মাসে ইডেন ডি’সিলভার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সুবাদে তিনি বিভিন্ন সময় ওই পরিবারে যাওয়া আসা করতেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে ওই বাসা থেকে তিন লাখ টাকা মূল্যের একটি ডায়মন্ডের আংটি হারিয়ে যায়। এরপর মার্চ মাসে ২৮ লাখ টাকা মূল্যের সুইজারল্যান্ডের তৈরি হাবলট ব্র্যান্ডের ঘড়িও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

আরও অভিযোগ করে লেখা হয়েছে, মামলার বিবাদী বিভিন্ন সময়ে ব্যবহারের কথা বলে অনেক মূল্যমান ব্র্যান্ডের জুতা, কাপড়-চোপড় ইত্যাদি নিয়ে আর ফেরত দেয়নি। যার আনুমানিক মূল্য পাঁচ লাখ টাকা। সব মিলে ৩৬ লাখ টাকার মালামাল ‘লুণ্ঠন’ করা হয়েছে বলে মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

শেষাংশে বাদী উল্লেখ করেছেন, বর্ণিত বিবাদী একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে গুলশান ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক করে সু-কৌশলে মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নিয়ে যায়। তাদের থেকে আমার মালামাল ফেরত চাইলে আমাকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

মামলার বাদি জানান, ঘড়ি সম্পর্কে ইডেন ডি’সিলভাকে একদিন জিজ্ঞেস করলে তিনি অস্বীকার করেন। পরে গুলশানের বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে ইডেন ডি’সিলভার হাতে ঘড়িটি তিনি দেখতে পান। এ বিষয়ে তখন জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, ঘড়িটি ব্যবহার করার জন্য নিয়েছিল পরে ফেরত দিয়ে দেবে।

মামলায় ইডেন ডি’সিলভা ও নিশাত মিমের নাম উল্লেখ করা হলেও পুলিশ শুধুমাত্র ইডেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন।

এ ব্যাপারে মামলাটির তদন্ত অফিসার গুলশান থানার এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শুক্রবার ভোর ৫টায় গুলশান ১৭ নম্বর সড়ক থেকে তাকে গ্রেফতারের পর পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। পরে তাকে কোর্টে পাঠিয়ে রিমান্ডের জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু রিমান্ড নামুঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর তাকে কোর্টে তোলা হবে এবং আমরা আবারও রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে রেখেছি।

তিনি বলেন, ইডেন ডি’সিলভা খুব চতুর। কোনো কিছুই সহজে স্বীকার করতে চাচ্ছেন না। সে যেসব জিনিসপত্র নিয়েছে সেগুলো উদ্ধার করার চেষ্টা করছি।

মামলার তদন্ত অফিসার আরও জানান, গুলশানে প্রায় সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সে আসে। সারারাত বিভিন্ন জাগায় সময় কাটায়। রাজধানীর বিভিন্ন থানায় তার নামে মামলা রয়েছে। মামলার নথিগুলো আমরা শিগগির সংগ্রহ করবো।

প্রসঙ্গত, রাজধানীর গুলশান, বনানী ও মিরপুরসহ একাধিক থানায় এই ইয়াবা সুন্দরীর নামে মামলা ও জিডি রয়েছে। তার চক্রের বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলেও ইডেন ডি সিলভা বরাবরই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাগালের বাইরে থেকে গেছেন। অবশেষে শুক্রবার পুলিশের জালে সে গ্রেফতার হয়।

Bootstrap Image Preview