Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ০৯ রবিবার, আগষ্ট ২০২০ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭ | ঢাকা, ২৫ °সে

পলাশবাড়িতে স্মার্ট কার্ড বিতরণে দুর্নীতির অভিযোগ

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০১৮, ০৪:৩৮ AM
আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০১৮, ০৪:৩৮ AM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে স্মার্ট কার্ড বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে গেছে কিন্তু ফটোকপি আছে, কিংবা নতুন ভোটারদের ক্ষেত্রে স্লিপ হারিয়ে তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উপজেলা নির্বাচন অফিসারের উপস্থিতিতেই এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি অভিযোগ করেন স্মার্ট কার্ড নিতে আসা ভুক্তভোগীরা।

 

নির্বাচন কমিশনের নিয়মানুযায়ী, যাদের পরিচয়পত্র হারিয়ে গেছে তাদের চালান ফরমের মাধ্যমে নির্ধারিত কোডে ৩৪৫ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে ভেন্যু থেকে স্মার্ট কার্ড গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া নতুন ভোটারদের স্লিপ হারিয়ে গেলে তাদের ১২৫ টাকা ব্যাংকে জমা দিতে হবে। কিন্তু পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে স্মার্ট কার্ড বিতরণে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। সেখানে ওই পরিষদের উদ্যোক্তা মো. জিয়াউর রহমান নানা অজুহাত দেখিয়ে পরিচয় পত্র হারিয়ে যাওয়া প্রতি ব্যক্তির কাছ থেকে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা করে আদায় করছেন এবং নতুন ভোটার যারা এখনও পরিচয়পত্র পায়নি তাদের স্লিপ হারিয়ে যাওয়ায় তাদের কাছ থেকে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে।

স্মার্ট কার্ড বিতরণের সময় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে স্মার্ট কার্ড বিতরণের কার্যক্রম চলছে। পুরুষ ও মহিলা দু’টি লাইনে সারিবদ্ধভাবে দাড়িয়ে স্মার্ট কার্ড নিচ্ছেন। ইউনিয়ন পরিষদের সামনে কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থাকলে দ্বিতীয় তলায় উদ্যোক্তার রুমের সামনে বেশ কিছু মানুষের ভিড় লক্ষ করা যায়।

এসময় কয়েকজনের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, যাদের ভোটার স্লিপ ও জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে গেছে তাদের কাছ থেকে টাকা জমা নিয়ে স্মার্ট কার্ড দেয়া হচ্ছে। এমন কথা শুনে উদ্যোক্তার অফিস রুমে গিয়ে দেখা যায় সেখানে টাকা লেনদেনের হচ্ছে। ১৫ থেকে ২০ জন পুরষ ও মহিলা হাতে টাকা নিয়ে দাড়িয়ে আছে যাদের স্লিপ ও পরিচয়পত্র হারিয়ে গেছে।

চালান ফরমের টাকা জমা দেয়ার কথা থাকলেও তারা কেন উদ্যোক্তাকে টাকা জমা দিচ্ছেন এবং টাকা জমার কোন রশিদ দিচ্ছেন কি না তা জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্যামপুর গ্রামের কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, আমাদের পরিচয়পত্র হারিয়ে গেছে। পরিচয়পত্র ছাড়া স্মার্ট কার্ড দিচ্ছে না। আমরা পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাচন অফিসার শাহীনুর আলমকে অতিরিক্ত টাকা গ্রহণের বিষয়ে অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। পরে চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি উদ্যোক্তা জিয়াউরের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। তাই আমরা উদ্যোক্তার কাছে এসে টাকা জমা দিচ্ছি। তবে আমাদেরকে টাকা জমা দেওয়ার কোন রশিদ দেওয়া হচ্ছে না।

উদ্যোক্তা মো. জিয়াউর রহমান অতিরিক্ত টাকা গ্রহণের কথা অস্বীকার করে বলেন, ব্যাংকে টাকা জমা দানের ভোগান্তি কমানোর জন্য পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাচন অফিসার শাহীনুর আলমের অনুমতি সাপেক্ষে টাকা গ্রহণ করা হচ্ছে। এসব টাকা একসঙ্গে ব্যাংকে জমা দেয়া হবে এবং সবাইকে ডেকে স্মার্ট কার্ড প্রদান করা হবে।

মহদীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. তৌহিদুল ইসলাম মণ্ডল অতিরিক্ত টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অনেক বয়স্ক মানুষ আছে যারা পরিচয়পত্র হারিয়ে ফেলেছেন তাদের এবং অনেক দূর থেকে আসা সাধারণ মানুষের যাতে কষ্ট করে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে গিয়ে হয়রানির স্বীকার না হতে হয় সেদিক বিবেচনা করে পরিষদে টাকা নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরে সবার টাকা একসাথে ব্যাংকে জমা দিয়ে স্মার্ট কার্ড প্রদান করা হবে।

তবে মহদীপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে স্মার্ট কার্ড বিতরণে টাকা লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাচন অফিসার শাহীনুর আলম তা অস্বীকার করেন। ওই পরিষদের উদ্যোক্তা মো. জিয়াউর রহমান পরিচয় পত্র হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং নতুন ভোটার কাছ থেকে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা করে আদায়ের বিষয়ে অভিযোগ করা হলে তিনি কোন কথা না বলে ভেন্যু ত্যাগ করে চলে যান।

জেলা নির্বাচন অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেন, ভেন্যুতে নগদ টাকা নেয়ার কোন প্রশ্নই আসে না। টাকা লেনদেনের জন্য ব্যাংক আছে। কেউ যদি টাকা নিয়ে থাকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Bootstrap Image Preview