Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ০১ বৃহস্পতিবার, অক্টোবার ২০২০ | ১৬ আশ্বিন ১৪২৭ | ঢাকা, ২৫ °সে

দেশ উন্নত হচ্ছে, মানুষ প্রতিদিন মুরগির মাংস দিয়ে ভাত খেতে পারছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৪:৫৪ PM
আপডেট: ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৪:৫৪ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত


বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার দিকে ইঙ্গিত করে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছেন, ‘বাংলাদেশ দিন দিন উন্নত হচ্ছে। সবজি উৎপাদনে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ চতুর্থ স্থানে রয়েছে। তাছাড়া দেশে চাহিদার তুলনায় অধিক মাছ রয়েছে। এখন মানুষ প্রতিদিনই মুরগির মাংস দিয়ে ভাত খেতে পারছে যা আগে শুধু ঘরে মেহমান আসলে খাওয়া যেতো।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার এফাআইডিবি ভবনে অংশগ্রহণমূলক বহুখাতভিত্তিক বার্ষিক পুষ্টি কর্মপরিকল্পনা ২০১৯-২০ এর উদ্বোধনী কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের সার্বিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরতে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭৩ বছর, যা আমাদের পাশের রাষ্ট্র ভারত থেকেও বেশি। তাছাড়া এশিয়ার মধ্যে শ্রীলংকা, মালদ্বীপ থেকেও আমাদের গড় আয়ু বেশি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এক সময় আমাদের খাদ্যের অভাব ছিল। হাওরের মানুষ হিসেবে ৪০ বছর আগে ডেফ, ক্ষিরা, আলু খেয়ে বাঁচতাম। সারা দেশের মতোই এখন আর সেই জায়গায় নেই আমরা। আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দারিদ্র্যকে বিদায় করেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘জঙ্গিবাদী ও সম্প্রদায়িক গোষ্ঠী আমাদের অগ্রযাত্রায় বাধা দিতে চায়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ভণ্ডুল করতে চায়। আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করেই সকলকে সমান মর্যাদা দিয়ে এগিয়ে যাব।’

মন্ত্রী বলেন, ‘পুষ্টির সঙ্গে বিশুদ্ধ পানিও আমাদের প্রয়োজন। আমাদের বদ্ধ হাওর এলাকায় এক সময় কলেরা হতো। একবার কলেরায় আমার ভাই-বোন মারা যায়। আমার মা তখন ভয়ে আমাকে নিয়ে নানা বাড়ি চলে যেতেন। আমি তখন সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছি। নিরাপদ পানির অভাবে মানুষ মারা যেতো। আমরা এখন নিরাপদ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করেছি। প্রধানমন্ত্রী হাওরের জন্য ৫০০ কোটি টাকার পানি ও স্যানিটেশন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তেলগ্যাস নেই। কিন্তু মানুষের মতো শ্রেষ্ঠ সম্পদ আছে। ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ বিদেশে পরিশ্রম করে আমাদের দেশ বদলে দিচ্ছেন। আমাদের সরকার মানুষের পরিশ্রমের ফসলকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন করছি। আমাদের নেত্রী ৭৩ বছর বয়সেও রাতদিন পরিশ্রম করে বাংলাদেশকে সম্মান ও মর্যাদায় নিয়ে যেতে কাজ করছেন। তিনি চান নিজস্ব পরিচয়ে বাঙালি বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াক।’

এমএ মান্নান বলেন, ‘কর্ণফুলী নদীতে আমরা একটি টানেল করছি যা আমাদের যাতায়াত ব্যবস্থাকে ত্বরান্বিত করবে। আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা যমুনা নদীর উত্তর দিকে আরেকটি টানেল তৈরি করার। যাতে আমাদের কুড়িগ্রাম-জামালপুরের মানুষের উপকার হবে। আমরা বিশ্বের বড় বড় দেশের মতো উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছি। পদ্মা-যমুনার মতো বড় বড় নদীতে আমরা আর সেতু নির্মাণ করবো না। কর্ণফুলী নদীর মতো পদ্মা-যমুনা নদীতে টানেল তৈরি হবে।’

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের সভাপতিত্বে ও বিটিভির উপস্থাপক ফাহমিদা তৃষার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কেয়ার বাংলাদেশের স্বাস্থ্য কর্মসূচির পরিচালক ডা. মো. ইখতিয়ার উদ্দিন খন্দকার, জাতীয় পুষ্টি সেবার লাইন ডিরেক্টর ডা. এসএম মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদের মহা-পরিচালক ডা. মো. শাহ নেওয়াজ, কেয়ার প্রতিনিধি ডা. ক্রিস্ট রয় প্রমুখ।

Bootstrap Image Preview