Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৪ শনিবার, ডিসেম্বার ২০১৯ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

ডা. মনসুর খলিল: দেশের জন্য ফিরিয়ে দিয়েছেন বিদেশের লোভনীয় প্রস্তাব, করেননি বিয়েও

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৮:০৭ PM
আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৮:০৭ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত


মার্কিন চিকিৎসক দম্পতি নিয়ে তো অলরেডি পিএইচডি করে ফেলেছেন সবাই! এবার আসুন দেখি অধ্যাপক ডা. মনসুর খলিল সম্পর্কে আমরা কতটা জানি?

মনসুর খলিল স্যারের বাবা ছিলেন তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। ১৯৬১ সালের ৫ ডিসেম্বর রাওয়ালপিন্ডি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন দেশের এই মেধাবী সন্তান।

মেট্রিক ও ইন্টারে দুটোতেই ৪ বিষয়ে স্টার মার্কসহ সম্মিলিত মেধাতালিকায় ১৫তম স্থান দখল করে সফলতার স্বাক্ষর রেখে চান্স পান ঢাকা মেডিকেল কলেজে। কিন্তু আরেক কিংবদন্তী সহোদর অধ্যাপক ডা. মহসিন খলিলের টানে এসে ভর্তি হন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে। মেধার কারণে পুরো মেডিকেল কলেজে সবাই এক নামে চিনে মনসুর খলিলকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত ১ম পেশাগত পরীক্ষায় প্রথম, ২য় ও ৩য় পেশাগত পরীক্ষায় দ্বিতীয় এবং ৪র্থ বা ফাইনাল পেশাগত পরীক্ষায় আবারও প্রথম স্থান দখল করে রেকর্ড মার্কস নিয়ে এমবিবিএস পাস করেন। তুখোড় মেধাবী এই চিকিৎসক ৮ম বিসিএসেও সর্বোচ্চ মার্কস পেয়ে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। তৎকালীন আইপিজিএমআর (বর্তমান বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে এনাটমিতে থিসিস করেন রেকর্ড মার্কস সহকারে, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হতে এনিম্যাল সায়েন্সেও এমস করেন।

এছাড়া ফরেন্সিক মেডিসিন নিয়েও তিনি পড়াশোনা করেন। এক পর্যায়ে জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করতে যান, সেখানেও ইতিহাস সৃষ্টি করে স্পেশাল রিকমেন্ডেশন পান।

গবেষণার জন্য ভুরি ভুরি অফার, উন্নত বিশ্বের একশো একটা লোভনীয় প্রস্তাব পায়ে ঠেলে সরকারি বেতনের টাকায় হাজার হাজার চিকিৎসকের ভিত্তি গড়ে দিতে দেশে ফিরে আসলেন নীরবে নিভৃতে।

দুইটা শার্ট, দুইটা প্যান্ট, একটা চৌকি, একটা সাধারণ চেয়ার টেবিলে তার একাকী সংসার, বিয়েটা পর্যন্ত করেননি। দেশের আনাচে কানাচে মেডিকেল কলেজে চিকিৎসক গড়ার অক্লান্ত পরিশ্রমে মনোনিবেশ করেন।

জীবনের অন্তিম পর্যায়ে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হয়ে এক হাতে একটি সরকারি মেডিকেল দাঁড় করিয়ে দিয়ে গেলেন, শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের নির্জন এক কেবিনে।

মৃত্যুর পর তার ব্যাংক একাউন্টে দুই হাজার টাকা পাওয়া যায়। কই একটা জাতীয় দৈনিকেও তো তাঁর ত্যাগ তিতিক্ষা, অনাড়ম্বর জীবন যাপন, ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি শিক্ষক হিসেবে নিবেদন, জীবনদর্শন- জীবনাচরণ নিয়ে একটা নিউজও তো ছাপা হলো না।

এরকম শত শত চিকিৎসক দেশের আনাচে-কানাচে নীরবে নিভৃতে মানবসেবা করে যাচ্ছেন, মফস্বল শহরে বসে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গড়ার কারখানা পরিচালনা করছেন, কই তাদের নিয়ে তো কোনদিন কোন হৈচৈ হতে দেখি না।

আর আজকে খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত করার উদ্দেশ্য নিয়ে, ইউরোপ-আমেরিকার ক্যাথলিক চার্চের অর্থায়নে এক দম্পতি মানবসেবা করে যাচ্ছেন, সেটা সবাই মাথায় নিয়ে লাফাচ্ছেন। উনাদের মানবসেবাকে আমি অবজ্ঞা করতে পারি না, কিন্তু সেই সাথে আমাদের শিক্ষক চিকিৎসকদের নিরলস শ্রম-ত্যাগ-তিতীক্ষাকে অবহেলা সহ্য করতে পারি না।

সাদা চামড়া দেখলেই আমাদের আবেগ উথলে পড়ে, আর নিজেদের লোকদের প্রশংসা করতে, তাদের কাজকে এপ্রিশিয়েট করতে আমাদের অনেক বাঁধে।

লেখকঃ ওয়াহিদ হৃদয়, শিক্ষার্থী, প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ

Bootstrap Image Preview