Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৪ শনিবার, ডিসেম্বার ২০১৯ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

আগামী সপ্তাহ থেকে অনলাইন সংবাদ পোর্টাল নিবন্ধন শুরু: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৫:২৩ PM
আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৫:২৩ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত


আগামী সপ্তাহ থেকে অনলাইন সংবাদ পোর্টালগুলোর নিবন্ধন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে যে অনলাইন সংবাদ পোর্টালগুলো আছে, সেগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে আমরা দরখাস্ত আহ্বান করেছিলাম। এ পর্যন্ত সবমিলে ৩,৫৯৭টি দরখাস্ত জমা পড়েছে। সেগুলো তদন্ত করার জন্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগসহ আলোচনা করে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছিলাম, যত দ্রুত সম্ভব অনলাইনগুলোর তদন্ত শেষ করে তথ্য মন্ত্রণালয়কে জানানোর জন্য, যাতে আমরা নিবন্ধনের কাজটি শুরু করতে পারি।’

ড. হাছান বলেন, ‘আমাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা যে কয়েকশ’ অনলাইনের তদন্ত শেষ করেছে, তার প্রতিবেদন আজ বা কালকের মধ্যে আমাদের কাছে পাঠাবে। আমরা আগামী সপ্তাহ থেকে অনলাইনগুলোর নিবন্ধন দেয়া শুরু করবো। এ প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লাগবে কারণ সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি অনলাইনের তদন্ত শেষ করা সহজ কাজ নয় এবং কয়েকটি সংস্থা তদন্ত করছে। যে ক’টি আমরা পাবো, সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিবন্ধন দেয়া শুরু করবো।’

‘তবে ভবিষ্যতেও যেন অনলাইন সংবাদ পোর্টাল কেউ করতে পারে, সেজন্য আমরা পরবর্তীতে আবার দরখাস্ত আহ্বান করবো, কারণ এখানে যে অনলাইনগুলো আছে সেগুলোতেই তো এ মাধ্যম শেষ হয়ে যেতে পারেনা’ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পত্রিকা যেমন যে কেউ যে কোন সময় বের করতে পারে, ভবিষ্যতে তেমনি অনলাইনও বের করতে পারে। কিন্তু ভবিষ্যতে অনলাইন পোর্টাল চালু করতে হলে একটি প্রক্রিয়ায় অনুমতির মাধ্যমের করতে হবে। পত্রিকা বের করতে চাইলে যেমন নামের ছাড়পত্র নিতে হয়, অনলাইনের ক্ষেত্রেও একটি প্রক্রিয়া অবলম্বন করে বের করতে হবে। আইপি টিভি, আইপি রেডিও’র জন্যও আমরা দরখাস্ত আহ্বান করেছিলাম। এ ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সবাইকেই রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।’

এসময় টেলিভিশনে ডাবিং করা বিদেশি সিরিয়াল প্রচারকে নিয়মনীতির আওতায় আনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন টেলিভিশনে যে ডাবিং করা বিদেশি সিরিয়াল প্রচার করা হয়, সেগুলোর জন্য অনুমতি নেবার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে এবং অনুমতির জন্য দরখাস্ত পড়েছে অনেকগুলো। এগুলো একটা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে যাওয়া প্রয়োজন। দুই-তিন ঘন্টার একটি ছবি যেমন মুক্তি পেতে হলে সেন্সর বোর্ড হয়ে আসতে হয়, তেমনি এসব সিরিয়াল, যেগুলোর কোনোটা ৫০, কোনোটা ৩০ পর্ব -আবার প্রতিটি পর্ব হচ্ছে এক বা আধঘন্টার পর্ব, অর্থাৎ একটি ছবি হয় দুই-তিন ঘন্টা আর এগুলো একেকটা চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ ঘন্টা, সুতরাং এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া অনুমোদন দেয়া সমীচিন নয়।

ড. হাছান জানান, সে লক্ষ্যে আমরা একটি বাছাই কমিটি গঠন করেছি এবং ইতোমধ্যে, গত ২৭ নভেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রচার) এর নেতৃত্বে এ কমিটিতে বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, বিশিষ্ট নাট্যজন সারা যাকের, এটকো, ডিরেক্টরস গিল্ড, অভিনয় শিল্পী সংঘের একজন করে প্রতিনিধি, বিটিভি ও জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের টিভি-২ শাখার উপসচিব রয়েছেন।

এখন থেকে কোনো টেলিভিশনে বিদেশি কোনো সিরিয়াল যদি প্রচার করতে হয়, তাহলে এই কমিটির কাছে দরখাস্ত করার পর এই কমিটি দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে, আমাদের নতুন প্রজন্মের মনন তৈরিতে বা আমাদের সমাজে এই সিরিয়াল কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলছে কিনা, বিষয়গুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অনুমোদন দেবে, বলেন তথ্যমন্ত্রী।

ড. হাছান আরও বলেন, ‘মোবাইল কোম্পানি নানা ধরণের ভিডিও কনটেন্ট আপলোড করে ইউটিউব বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়ছে আবার সেখানে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে, সেখানেও তারা ব্যবসা করছে, এটির লাইসেন্স তাদেরকে দেওয়া হয়নি। তাদেরকে মোবাইল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করার লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। এটি বন্ধ করার জন্যে ইতোমধ্যে আমরা টেলিযোগাযোগ বিভাগকে চিঠি দিয়েছে, দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আমরা আন্ত:মন্ত্রণালয় সভায় বিষয়গুলো আলোচনা করেছি। এ ধরনের চলমানগুলোর বিষয়ে বিটিআরসি সিদ্ধান্ত নেবে। এটিকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে আমরা বদ্ধপরিকর। কারণ যে কেউ চাইলেই লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা করতে পারে না।’

 

অনলাইন পত্রিকার ভিডিও কনটেন্ট এবং টিভি চ্যানেলগুলোর অনলাইন চালাতেও অনুমতি লাগবে বলেও জানান ড. হাছান। তিনি বলেন, ‘এগুলো নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি। সব একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হবে। কারণ যিনি যেটার লাইসেন্স পেয়েছেন সেটার বাইরে যেতে পারবেন না। এবং শুধু পত্রিকাগুলো যে অনলাইনে ভিডিও কন্টেন্ট করছে তাই নয়, টেলিভিশনগুলোও আবার অনলাইন চালু করেছে। সেটিরও অনুমতি এখন পর্যন্ত নেই। সুতরাং সবকিছুকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনার জন্যেই আমরা প্রক্রিয়া শুরু করেছি। আপনারা দেখেছেন ইতিমধ্যেই অনেক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ধীরে ধীরে এই ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।’

 

ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেল প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইউটিউব, ফেসবুকসহ সবার সঙ্গে আলোচনা করেছি যে তাদের মাধ্যম ব্যবহার করে যে ব্যবসা হচ্ছে বা বিজ্ঞাপন যাচ্ছে সেগুলোর ওপর শুল্ক ধার্যের বিষয়টা আসবে, আমরা এনবিআরের সাথেও কথা বলেছি। কেউ যদি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে করে, সেক্ষেত্রে অবশ্যই দেশের আইন মেনেই করতে হবে।’

অনলাইন গণমাধ্যমের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে একদশকের বেশি সময় ধরে এবং এখানে আগে কোনো শৃঙ্খলা ছিল না। এটি করতে কিছুদিন সময় লাগে। তবে আপনারা দেখেছেন, যেগুলো একযুগে হয়নি, অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে সেগুলো আমরা করতে সক্ষম হয়েছি। যত দ্রুত সম্ভব আমরা পুরো শৃঙ্খলা আনার জন্য কাজ করছি।’

সাংবাদিকরা পরিবহন ও জ্বালানি খাতে ধর্মঘটের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্সণ করলে ড. হাছান বলেন, ‘ধর্মঘট তো বাংলাদেশে প্রথম হচ্ছে না, উন্নত রাষ্ট্রগুলোতেও ধর্মঘট হয়। তবে নানা অজুহাত-ছলছুতায় ধর্মঘট করার হুমকি বা ধর্মঘটে যাওয়া, এগুলোর পেছনে কোনো ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে কিনা সেটি নিশ্চয়ই সরকার খতিয়ে দেখবে।’

Bootstrap Image Preview