Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১০ মঙ্গলবার, ডিসেম্বার ২০১৯ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

পাঁচ মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২৩%

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:৫৯ AM
আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:৫৯ AM

bdmorning Image Preview


বৈধ পথে পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর নগদ প্রণোদনা দেয়ার সুফল মিলতে শুরু করেছে। এতে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আসার হার বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের নভেম্বর মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ১৫৫ কোটি ৫২ লাখ ডলার।

এটি গত অর্থবছরের নভেম্বরের তুলনায় প্রায় ৩১ শতাংশ বেশি। আর চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর এই পাঁচ মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একক মাস হিসেবে গত নভেম্বরে ১৫৫ কোটি ৫২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। আগের বছরের একই মাসে এসেছিল ১১৮ কোটি ডলার। এ হিসাবে একই মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৭ কোটি ৫২ লাখ ডলার বা ৩১ শতাংশ বেশি। অবশ্য আগের মাস অক্টোবরে রেমিট্যান্স আসে ১৬৪ কোটি ডলার।

ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আহরণ বাড়াতে চলতি অর্থবছর থেকে ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। কোনো ঝামেলা ছাড়াই সুবিধাভোগীরা প্রণোদনার অর্থ পাচ্ছেন। সম্প্রতি এক সার্কুলারে ডলার ভিন্ন অন্য মুদ্রায় দেড় লাখ টাকার সমপরিমাণ অর্থ পাঠালেও প্রণোদনা পেতে কাগজ লাগবে না বলে স্পষ্টীকরণ করা হয়েছে। একবারে এর চেয়ে বেশি অর্থ পাঠালে অবশ্য কাগজপত্র দিতে হবে এবং এগুলো জমার সময়সীমা পাঁচ দিন থেকে বাড়িয়ে ১৫ দিন করা হয়েছে। এর সঙ্গে দেশে ডলারের বিপরীতে টাকার দাম বাড়ায় আগের চেয়ে বেশি অর্থ পাচ্ছেন প্রবাসীদের সুবিধাভোগীরা। এ কারণে রেমিট্যান্স বেড়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে, রপ্তানিকারকদের সুবিধা দিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও ডলারের দর কিছুটা বাড়াচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার প্রতি ডলার ১০ পয়সা বাড়িয়ে সাড়ে ৮৪ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এর আগে গত মাসের মাঝামাঝি বাড়ানো হয় ৫ পয়সা। গত এক বছরে প্রতি ডলারে বেড়েছে এক টাকা। এ সুফলও পাচ্ছেন প্রবাসীরা। এতে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়ছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসের মধ্যে জুলাইয়ে ১৫৯ কোটি ৭৭ লাখ, আগস্টে ১৪৮ কোটি ২৮ লাখ, সেপ্টেম্বরে ১৪৬ কোটি ৮৪ লাখ, অক্টোবরে ১৬৩ কোটি ৯৬ লাখ মার্কিন ডলার এবং নভেম্বর ১৪৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে।

সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে দেশে রেমিট্যান্স আসে ১৩১ কোটি ৭০ লাখ ডলার, আগস্টে ১৪১ কোটি ১০ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ১১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার, অক্টোবরে ১২৩ কোটি ৯১ লাখ ডলার এবং নভেম্বর মাসে ১১৮ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠায়। অর্থ্যাৎ গত অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-১৮ থেকে নভেম্বর-১৮) দেশে রেমিট্যান্সে আসার পরিমাণ ছিল ৬২৬ কোটি ৪৪ লাখ মার্কিন ডলার। চলতি (২০১৯-২০) অর্থবছরের একই সময়ের (জুলাই-১৯ থেকে নভেম্বর-১৯) সময়ে দেশে রেমিট্যান্স আসে ৭৬৫.৯৫ লাখ মার্কিন ডলার।

গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে (জুলাই-১৮ থেকে জুন-১৯) পর্যন্ত সময়ে প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১ হাজার ৬৪১ কোটি ৯৬ লাখ মার্কিন ডলার। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। এর আগে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা ১ হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৯ সালের প্রথম থেকেই বাড়ছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা রেকর্ড পরিমাণ ১৫৯ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠায়। এরপর ফেব্রুয়ারিতে ১৩১ কোটি ৭৭ লাখ ডলার, মার্চে ১৪৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার, এপ্রিলে ১৪৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার, মে মাসে ১৭৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং জুনে ১৩৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে দেশে।

Bootstrap Image Preview