Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৫ রবিবার, ডিসেম্বার ২০১৯ | ১ পৌষ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

ঘুমের ওষুধের কাজ করে কাঁচা পেঁয়াজ

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ০২:২৮ PM
আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ০২:২৮ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত


রান্নাঘরে এক কোণে পড়ে থাকা পেঁয়াজের সাথে পরিচয় আছে কি আপনার? হাসি পাচ্ছে বুঝি? কে না চেনে পেঁয়াজের মত দরকারি রান্নার উপকরণটিকে! অন্যদিকে বাজারে আগুন ছড়িয়েছে এই পেঁয়াজই। তবে পেঁয়াজের স্বাস্থ্যগুণও কম না।পেঁয়াজ ছাড়া যে রোজদিনকার রান্নাই হয়ে উঠে না। কিন্তু পেঁয়াজ কি শুধুমাত্র রান্নার স্বাদ বাড়াতেই ব্যবহৃত হয়? না বৈকি! একটি বড় পেঁয়াজে ৮৬.৮ শতাংশ পানি, ১.২ শতাংশ প্রোটিন, ১১.৬ শতাংশ শর্করা জাতীয় পদার্থ, ০.১৮ শতাংশ ক্যালসিয়াম, ০.০৪ শতাংশ ফসফরাস ও ০.৭ শতাংশ লোহা থাকে। এছাড়া পেঁয়াজে ভিটামিন এ, বি ও সি আছে। এটি ফলিক এসিডের খুব ভালো উৎস। এছাড়া এতে সালফার, ক্রোমিয়াম ও আছে। তাই পেঁয়াজের আছে নানান গুণ। আছে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতাও।   তবে চলুন জেনে নেই, পেঁয়াজের পুষ্টিগুণ ও এর বিবিধ উপকারিতা সম্পর্কে।

(১) ঠাণ্ডা-কাশিতে সেরা ঘরোয়া চিকিৎসা ও প্রতিকারক হচ্ছে পেঁয়াজের রস। শ্লেষ্মা বা কফ  কমাতে পেঁয়াজে থাকা তেল সাহায্য  করে।

(২) কোলেস্টেরল নিয়ে চিন্তায় আছেন? আর চিন্তা নেই। কারণ, পেঁয়াজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সালফার, তন্তু, পটাসিয়াম, ভিটামিন-বি এবং ভিটামিন-সি। এসকল উপাদান সমূহ দেহের চর্বি, কোলেস্টেরল এবং সোডিয়াম-এর পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে।

(৩) অনিদ্রাকে বিদায় জানাতে কাঁচা পেঁয়াজ খেয়েই দেখুন। নিয়মিত খাবার অভ্যাস করলে, ঘুমের সমস্যা অবশ্যই দূর হবে।

(৪) কানের ব্যথায় পেঁয়াজের রস অনেক কার্যকরী। পেঁয়াজ এসেনশিয়াল  অয়েল সমৃদ্ধ। এই অয়েল কানের ব্যথা দূর করে দেয় যাদুর মতই। কিভাবে ব্যাবহার করবেন? পেঁয়াজ টুকরো চুলায় সেঁকে বা সেদ্ধ করে তা থেকে  রস বের করে নিন। এই রস কুসুম গরম অবস্থায় কানে লাগালে ব্যথায় আরাম পাবেন।

(৫) চারপাশের দূষিত পরিবেশের কারণে চুল পড়া সমস্যা হু হু করে বাড়ছেই। চুল পড়া রোধ করার জন্য মাথায় পেঁয়াজের রস ব্যবহার করুন। এটি পেঁয়াজের সব থেকে বড় সুবিধা। অকালে চুল পাকছে? পেঁয়াজ  চুল পাকার সমস্যাও রোধ করে। পেঁয়াজের রস নিয়মিত ব্যবহারে নতুন চুলও গজাবে।

(৬) ত্বকে কালো দাগ বুঝি? মন খারাপের দিন শেষ! জানেন কি ত্বকের কাল দাগ দূর করার জন্য পেঁয়াজ কতটা কাজ করে? পেঁয়াজ ও হলুদের রস একসাথে মিশিয়ে লাগিয়ে রাখুন। কালো দাগ সব মিলিয়ে যাবে।

কিন্তু যাদের স্কিনে এলার্জির সমস্যা আছে, তাদের স্কিনে অতিরিক্ত পেঁয়াজ ব্যবহার থেকে বিরত থাকাটাই শ্রেয়।

(৭) পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক সালফার যৌগ আছে যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আর সালফারে রয়েছে  এমিনো এসিড।এই এমিনো এসিড গুলোকে মিথিওনাইন ও সিস্টাইন বলা হয়। এই উপাদানগুলো শরীরকে বিভিন্ন টক্সিন থেকে মুক্তি দেয়। এমন কি এগুলো শরীর থেকে সীসা, আর্সেনিক ও ক্যাডমিয়াম বর্জন করে। পেঁয়াজ ভিটামিন সি এর উৎস যা শরীরকে বিশুদ্ধ করে।

(৮) অ্যান্টি-বায়োটিক, অ্যান্টি-সেপ্টিক, অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল এবং বায়ুরোধক উপাদানে সমৃদ্ধ পেঁয়াজ রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।

(৯) হিট স্ট্রোকে পেঁয়াজ ম্যাজিকের মত কাজ করে। হিট স্ট্রোক হলে যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব কাঁচা পেঁয়াজের রসের সাথে চিনির মিছরি  মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। পেঁয়াজ ঠাণ্ডা হওয়ায় এর রস পায়ের পাতায় ঘষলেও বেশ উপকার পাওয়া যায়।

(১০) জন্ডিসের জন্য একটি পেঁয়াজের এক-চতুর্থাংশ সারা রাত লেবুর রসে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন সকালে  এই পানি খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

সুতরাং বুঝতেই পারছেন, পেঁয়াজ শুধু ভেষজ গুণেই সমৃদ্ধ নয়। এর আছে গৃহস্থালীর কাজে চমকপ্রদ গুণও। তবে অতিরিক্ত কোনকিছুই সুখকর নয়। তাই যাই করবেন, পরিমিত করবেন। অতিরিক্ত পেঁয়াজ খাওয়া ও ব্যবহার করা কিন্তু কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা, রক্তে সুগার লেভেল কমানো, ত্বকের জ্বালা-পোড়া ও এলার্জি ইত্যাদির সূচনা ঘটাতে পারে। এজন্য যতটুকু সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে প্রয়োজন, ঠিক ততটুকুই পেঁয়াজই খান। ভালো কিছু পেতে গিয়ে খারাপ যেন না হয় সেদিকটাতেও নজর রাখা চাই।

Bootstrap Image Preview