Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৪ শনিবার, ডিসেম্বার ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

কুমারিত্ব প্রমানে বাজারে এলো ‘আই ভার্জিন পিল’

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ১২:০৫ PM
আপডেট: ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ১২:০৫ PM

bdmorning Image Preview


কারো সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন না করলেও নানা কারণে নারীদের কুমারিত্ব হারিয়ে যেতে পারে। তবে, সমাজে এখনো বহু মানুষ রয়েছে, যারা বিয়ের পর স্ত্রীর কুমারিত্ব নিয়ে পড়ে থাকেন। সেই ধারণাকে পুঁজি করে কুমারিত্বের প্রমাণ দিতে বাজারে ছাড়া হয়েছে পণ্য।

নাম তার ‘আই ভার্জিন পিল’। অনলাইনে এক ক্লিকেই মিলছে অ্যামাজনের সাইটে। সঙ্গে রয়েছে অনেকগুলো ‘আশ্বাসবাণী’। কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। প্রয়োজন পড়ে না কোনো কাটাছেঁড়ার। অজ্ঞান করারও প্রয়োজন নেই। স্রেফ এক পিলেই শরীরে জমে যাবে পরিমাণ মতো থকথকে ‘নকল’ রক্ত। 

এই পিল ব্যবহারে শারীরিক মিলনের পর পাওয়া যাবে কুমারিত্বের ‘প্রয়োজনীয়’ প্রমাণ। আবার তাতে চলছে অফারও! অ্যামাজনের এই পণ্য বিক্রির খবর জানতে পেরেই প্রতিবাদে সরব হয়েছেন নানা ক্ষেত্রের বিশিষ্ট মানুষজন। বিরোধিতায় পিছিয়ে নেই আমজনতাও।

প্রথম শারীরিক মিলনের রাতে মেয়েটিকে রক্তাক্ত হতেই হবে— এ সংস্কার শুধুই তৃতীয় বিশ্বের নয়, বরং অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশই এই ‘ট্যাবু’ বহন করে এসেছে যুগের পর যুগ। কখনো সরাসরি, কখনো ভিন্নপথে। বিভিন্ন সময়ে নানা ধর্মীয় ভাবাবেগ ও কুসংস্কারকে শিখণ্ডী করে এমন প্রথাকে ‘নিয়ম’ বলে দেগে দিয়েছে সমাজের একাংশ। 

ভারতেও প্রত্যন্ত নানা অঞ্চলে তো বটেই, শহুরে জনজাতিরও কারো কারো মনের অন্দরে ঘাপটি মেরে ছিল এমন বর্বর প্রমাণ দেওয়ার খেলা। সেই খেলা যে অতীতে হারিয়ে যায়নি, তা-ই কি প্রমাণ করছে অ্যামাজনের এমন পণ্যের কেনাবেচা? এসব নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে অ্যামাজনের বিরুদ্ধে।

সাহিত্যিক তিলোত্তমা মজুমদার বলেন, নারীদের ছোট করতে সমাজের চাপিয়ে দেওয়া, লালন করা নানা খেলার প্রসঙ্গ তো বাদই দিলাম, এ তো রীতিমতো মিথ্যাচার! প্রতারণা! অবিশ্বাস ও মিথ্যাচার দিয়ে সম্পর্ক শুরুর হদিশই তো দিচ্ছে এই পিল! কুমারিত্বের প্রয়োজন আছে কি না তা নিয়ে বলার পাশাপাশি এই প্রতারণার দিকটিই বা উড়িয়ে দিই কী করে‍! মেয়েটি বিশ্বাস করছে, কুমারী না হলে ভালোবাসা কমবে! ছেলেটি ভাবছে, কুমারী হয়ে ধরা দেওয়াই ভালোবাসার প্রাথমিক শর্ত!

তিলোত্তমার কথায়, এই দুই ধারণার ওপর নির্ভর করেই ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাটি যদি তাদের পিল বাজারে আনে, আর তার ব্যবহারও হু হু করে বাড়ে, তা হলে এই সমাজকে যে তার আন্দোলনকে ফের কেঁচে গণ্ডুষ করতে হবে তা বেশ বোঝা যায়। দু’জন ব্যক্তিমানুষের এক জন অন্যের আস্থা অর্জন করছে এক অন্যায়, আদিম ও অপ্রয়োজনীয় প্রথা দিয়ে, আর অন্য জন সেই বর্বর প্রথা দিয়েই নিক্তিতে মেপে মেয়েটির ‘খুঁতহীন’ শরীরকে গ্রহণ করছে— এই পিল তো সেই আচরণকেই মান্যতা দিচ্ছে!

তিনি আরো বলেন, কুমারিত্ব? এই হাইমেন এমন একটা জিনিস যা একটা বয়সের পরে যে কোনো কারণে ফেটে যেতে পারে। যৌন সংসর্গে কুমারিত্বের মতো অপ্রয়োজনীয় ও ভিত্তিহীন বিষয়ের সঙ্গে প্রেম, ভালোবাসা গুলিয়ে ফেলার মতো ভুল আজও এই সমাজ করে ভাবলে কষ্ট হয়। অসহায়ও লাগে। অবশ্য এমন ভাবনায় সমাজের তথাকথিত শিক্ষিত সমাজের প্রতিনিধিরা থাকলেও আমি অবাক হব না!

তবে শুধু সামাজিক অন্ধকারই নয়, শিক্ষার বণ্টনের অভাব ও পুঁথিগত শিক্ষার বাইরে পা ফেলতে না পেরে, উদার হতে না পারা মানসিকতাও এমন পণ্যের কেনাবেচা বাড়ায় বলে মত তিলোত্তমার। সঙ্গে তিনি দায়ী করছেন মেয়েদের আত্মবিশ্বাসের অভাবকেও। কারণ, দিনের শেষে এই পণ্য কিন্তু মেয়েরাই কিনবেন কিংবা বাড়ির পুরুষ সদস্যটি কিনে দেবেন মেয়েদের, তাদের প্রয়োজনে।

Bootstrap Image Preview