Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৩ শুক্রবার, ডিসেম্বার ২০১৯ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

আমাদের কষ্টগুলো এক, কোথাও প্রেম ভালোবাসা নেই: গুলতেকিনকে বিয়ে প্রসঙ্গে আফতাব

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:৩৫ PM
আপডেট: ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:৩৫ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত


প্রায় ৭ বছরের দীর্ঘ বন্ধুত্তের পর অবশেষে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সাবেক স্ত্রী গুলতেকিন আহমেদ। সম্প্রতি তিনি বিয়ে করেছেন আফতাব আহমেদকে।

গুলতেকিন-আফতাবের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা পারিবারিকভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। আফতাব আহমেদ পেশায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োজিত আছেন। এছাড়াও কবি এবং লেখক হিসেবে তার বিশেষ পরিচিতি রয়েছে।

জানা যায়, তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। ধীরে ধীরে তাদের এই বন্ধুত্ত প্রেমে রূপান্তরিত হয়। অবশেষে গত অক্টোবরের শেষের দিকে তারা পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

গত ৫ নভেম্বর আফতাব আহমেদ তার ফেসবুকে ইংরেজিতে যে স্ট্যাটাস দেন যার অর্থ হলো- ‘তিনি আমাকে তার সামনে বসালেন এবং আমার হাতে হাত রেখে বললেন’, ‘প্রত্যেকেরই মৃত্যুর স্বাদ পেতে হবে। কিন্তু আমি তোমাকে ছেড়ে যেতে চাই না। আমি নিঃশ্বাস নিতে চাই। তবে নিশ্চিত নই ভবিষ্যৎ কোন নিয়তিতে গাঁথা।’ আফতাব আহমেদ জবাবে বললেন, আমি চেষ্টা করব তোমাকে বাঁচাতে কিন্তু তোমাকে বিয়ে করা ছাড়া এটা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’ এ সময় একটু বিরতি নিয়ে গুলতেকিন বললেন, তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে? এবং আমি অনুমান করতে পারি, আমরা দুজনেই কোনো কারণ ছাড়া এক সঙ্গে হতে পারব না।

তার পারিবারিক নিকট আত্মীয়দেরকে গুলতেকিন বলেছেন, আফতাব আহমেদ মনের দিক থেকে একজন সুন্দর মানুষ, তার মানবিক মন তাকে জয় করেছে।

এর আগে প্রয়াত কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্রকার হুমায়ূন আহমেদের প্রাক্তন স্ত্রী গুলতেকিন খান। হঠাৎ করে মেহের আফরোজ শাওনকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় ভালোবেসে সংসার পাতা হুমায়ূন-গুলতেকিন দম্পতির। তারপর থেকেই একেবারে আড়ালে চলে যান গুলতেকিন।

সন্তানদের আকড়ে নিরবে নিভৃতে জীবন কাটিয়েছেন তিনি। ভালোবেসে বাঁধা ঘর ভেঙে যাওয়ার দু:খ নিয়ে কাটিয়ে দিয়েছেন অনেকগুলো শীত-বসন্ত। নিরবতা কাটিয়ে কয়েক বছর আগে তিনি আলোচনায় আসেন কবিতার বই লিখে। এরপর নিয়ম করে লেখালেখি করছেন তিনি।

তবে সবার মনেই কৌতুহল মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে কী ভাবছেন তার ছেলেমেয়েরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, বিয়েটা ছিলো সবার সম্মতিক্রমেই। গুলতেকিন তার সন্তানদের পূর্ণ সমর্থন পেয়েছেন নতুন করে জীবনটা শুরু করার জন্য।

একটি গণমাধ্যমে হুমায়ূন আহমেদ ও গুলতেকিন খানের বড় ছেলে নুহাশ মায়ের বিয়ে নিয়ে নিজের মতামতও দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘মা শক্ত হাতে আমাদের বড় করেছেন।

কখনো কোনো অভাব বুঝতে দেয়নি। মা সবসময়ই আমাদের কাছে আইডল। মা যখন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তখন আমার কোনো দু:খবোধ ছিল না। বরং আমি অনেক খুশি হয়েছি।

আমি মায়ের সঙ্গেই ছিলাম এ ব্যাপারে। তাদের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাচ্ছি। আমি নিজে থেকে মায়ের বিয়ে দিয়েছি। আর এটা লুকানোর কিছু নেই। সামনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানও হবে। এটা নারীদের জন্য নতুন একটা দ্বার উম্মোচন হলো বলতে পারেন।’

এদিকে সদ্য বিবাহিত যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কবি আফতাব আহমদ গণমাধ্যমকে এক কথায় বলেন, ‘আমরা বিয়ে করেছি এটি সত্যি। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে জানানো হয়নি। তবে আপনারা জেনেছেন কিছুদিন পরে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গুলতেকিনের সঙ্গে বিয়ের খবর গোপন কিছু নয়। তবে বিষয়টি একান্ত ব্যক্তিগত। এই খবরটি অনেকের সম্মানের সাথে জড়িত। সাংবাদিকরা সেটুকু মাথায় রাখলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকবো।’

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা কবে হলো—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘‘গুলতেকিন স্ট্যাটাস দিয়েছিল ২৫ অক্টোবর। লিখেছিল, ‘এবার বাতাস উঠুক, তুফান ছুটুক’। ওটা আমাদের বিয়ের একঘণ্টা পরে দেওয়া স্ট্যাটাস। অনেকেই বোঝেননি বিষয়টি। লাইনটা রবীন্দ্রনাথের এবং এরপরই যে লাইন আসে তা হলো, ‘আমাদের যাত্রা হলো শুরু, তোমায় করি নমস্কার’। আর ৫ নভেম্বর আমি একটি স্ট্যাটাস দিই কীভাবে আমরা এক হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সেটি নিয়ে। আর এই সিদ্ধান্ত কিন্তু গত আগস্ট মাসের।’’

কিন্তু সরাসরি বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ না করে সোশ্যাল মিডিয়ায় কেন এই কাব্যময়তা? জবাবে এই কবি বলেন, ‘এটা একেবারেই আমাদের ব্যক্তিগত বিষয়। নিজেদের মতো করেই এগিয়েছি। তবে এখন যেহেতু বিষয়টি আপনারা জানতে চাইছেন, তাই বলছি।’

কবে থেকে দুজনার সখ্য, কীভাবে পরিচয়—এমন প্রশ্নের জবাবে আফতাব বলেন, ‘২০১৩ সালের আগে আমি তাকে চিনতামই না। আমরা দুজনেই ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ছিলাম। কিন্তু আমি বেশ আগে পাস করে বেরিয়েছি। গুলতেকিনের লেখাপড়ায় বাধাগ্রস্ততার কারণে আমাদের বিভাগকেন্দ্রিক সাক্ষাৎ হয়নি। এরমধ্যে আমিও নানা কাজে দেশের বাইরে ছিলাম। ২০০৩-০৪ সালে সে যখন নানা চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল তখন সেগুলো আমার কানে এসেছে। কিন্তু সেটা ওই পর্যন্তই। ২০১৩ সালে আমাদের সরাসরি পরিচয় হয়। এরপর দীর্ঘ সময় আমাদের মধ্যে অনেক গল্প ভাগাভাগি হয়। তবে সেসব গল্প পরে কখনও বলবো। এখন নয়।’

একসাথে হওয়ার গল্প কোনও একদিন পাঠকের হাতে আসবে উল্লেখ করে তিনি নিজেই বলেন, ‘আমাদের কষ্টগুলো একইরকম। কোনও একদিন সেসব লিখবো। আমি না লিখলেও গুলতেকিনকে থামানো যাবে না। এটা অনেকটা উপন্যাসের মতো গল্প। আমাদের চারপাশে এত দুঃসময়, আশপাশে সুসংবাদ দেখবেন না। কোথাও প্রেম ভালোবাসা নেই। সে জন্যই বিয়ের খবরটা নিয়ে কথা হচ্ছে।’
 

দুজনার মধ্যে কাজের যোগাযোগ বিষয়ে বলতে গিয়ে এই কবি বলেন, ‘আমরা ২০১৭ সালে মধুরেণ নামে একটি কবিতার বই করেছি দুজনে মিলে। তাম্রলিপি থেকে প্রকাশিত। সেই সময় আমাদের এই একসাথে কাজ একসাথে ভাবার জায়গাগুলো তৈরি হতে থাকে। গুলতেকিন লেখালেখি নিয়ে যতটা সিরিয়াস, আমি ঠিক ততটাই আলসে। ফলে একরকম জোর করেই আমার কাছ থেকে কাজ বের করেছে সে। তার প্রথম বই আর আমার দ্বিতীয়টি একইসাথে বের হয়।’

প্রসঙ্গত, গত অক্টোবরের শেষের দিকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কবি আফতাব আহমেদকে বিয়ে করেন গুলতেকিন। আফতাব আহমেদের সঙ্গে তার ব্যারিস্টার স্ত্রীর বিচ্ছেদ ঘটে ১০ বছর আগে। তাদের একমাত্র সন্তান লন্ডনে লেখাপড়া করছেন।

অন্যদিকে হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে গুলতেকিনের বিচ্ছেদ হয় ২০০৩ এ। তাদের এক ছেলে ও তিন মেয়ে। হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর সাত বছর পর বিয়ে করলেন তিনি।

Bootstrap Image Preview