Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৫ রবিবার, ডিসেম্বার ২০১৯ | ১ পৌষ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

মা গুলতেকিনের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন নুহাশ

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ০৬:৩১ PM
আপডেট: ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ০৬:৪৫ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত


প্রায় ৭ বছরের দীর্ঘ বন্ধুত্তের পর অবশেষে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সাবেক স্ত্রী গুলতেকিন আহমেদ। সম্প্রতি তিনি বিয়ে করেছেন আফতাব আহমেদকে।

গুলতেকিন-আফতাবের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা পারিবারিকভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। আফতাব আহমেদ পেশায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োজিত আছেন। এছাড়াও কবি এবং লেখক হিসেবে তার বিশেষ পরিচিতি রয়েছে।

জানা যায়, তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। ধীরে ধীরে তাদের এই বন্ধুত্ত প্রেমে রূপান্তরিত হয়। অবশেষে গত অক্টোবরের শেষের দিকে তারা পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

গত ৫ নভেম্বর আফতাব আহমেদ তার ফেসবুকে ইংরেজিতে যে স্ট্যাটাস দেন যার অর্থ হলো- ‘তিনি আমাকে তার সামনে বসালেন এবং আমার হাতে হাত রেখে বললেন’, ‘প্রত্যেকেরই মৃত্যুর স্বাদ পেতে হবে। কিন্তু আমি তোমাকে ছেড়ে যেতে চাই না। আমি নিঃশ্বাস নিতে চাই। তবে নিশ্চিত নই ভবিষ্যৎ কোন নিয়তিতে গাঁথা।’ আফতাব আহমেদ জবাবে বললেন, আমি চেষ্টা করব তোমাকে বাঁচাতে কিন্তু তোমাকে বিয়ে করা ছাড়া এটা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’ এ সময় একটু বিরতি নিয়ে গুলতেকিন বললেন, তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে? এবং আমি অনুমান করতে পারি, আমরা দুজনেই কোনো কারণ ছাড়া এক সঙ্গে হতে পারব না।

তার পারিবারিক নিকট আত্মীয়দেরকে গুলতেকিন বলেছেন, আফতাব আহমেদ মনের দিক থেকে একজন সুন্দর মানুষ, তার মানবিক মন তাকে জয় করেছে।

এর আগে প্রয়াত কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্রকার হুমায়ূন আহমেদের প্রাক্তন স্ত্রী গুলতেকিন খান। হঠাৎ করে মেহের আফরোজ শাওনকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় ভালোবেসে সংসার পাতা হুমায়ূন-গুলতেকিন দম্পতির। তারপর থেকেই একেবারে আড়ালে চলে যান গুলতেকিন।

সন্তানদের আকড়ে নিরবে নিভৃতে জীবন কাটিয়েছেন তিনি। ভালোবেসে বাঁধা ঘর ভেঙে যাওয়ার দু:খ নিয়ে কাটিয়ে দিয়েছেন অনেকগুলো শীত-বসন্ত। নিরবতা কাটিয়ে কয়েক বছর আগে তিনি আলোচনায় আসেন কবিতার বই লিখে। এরপর নিয়ম করে লেখালেখি করছেন তিনি।

তবে সবার মনেই কৌতুহল মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে কী ভাবছেন তার ছেলেমেয়েরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, বিয়েটা ছিলো সবার সম্মতিক্রমেই। গুলতেকিন তার সন্তানদের পূর্ণ সমর্থন পেয়েছেন নতুন করে জীবনটা শুরু করার জন্য।

একটি গণমাধ্যমে হুমায়ূন আহমেদ ও গুলতেকিন খানের বড় ছেলে নুহাশ মায়ের বিয়ে নিয়ে নিজের মতামতও দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘মা শক্ত হাতে আমাদের বড় করেছেন।

কখনো কোনো অভাব বুঝতে দেয়নি। মা সবসময়ই আমাদের কাছে আইডল। মা যখন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তখন আমার কোনো দু:খবোধ ছিল না। বরং আমি অনেক খুশি হয়েছি।

আমি মায়ের সঙ্গেই ছিলাম এ ব্যাপারে। তাদের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাচ্ছি। আমি নিজে থেকে মায়ের বিয়ে দিয়েছি। আর এটা লুকানোর কিছু নেই। সামনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানও হবে। এটা নারীদের জন্য নতুন একটা দ্বার উম্মোচন হলো বলতে পারেন।’

প্রসঙ্গত, গত অক্টোবরের শেষের দিকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কবি আফতাব আহমেদকে বিয়ে করেন গুলতেকিন। আফতাব আহমেদের সঙ্গে তার ব্যারিস্টার স্ত্রীর বিচ্ছেদ ঘটে ১০ বছর আগে। তাদের একমাত্র সন্তান লন্ডনে লেখাপড়া করছেন।

অন্যদিকে হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে গুলতেকিনের বিচ্ছেদ হয় ২০০৩ এ। তাদের এক ছেলে ও তিন মেয়ে। হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর সাত বছর পর বিয়ে করলেন তিনি।

Bootstrap Image Preview