Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৫ রবিবার, ডিসেম্বার ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

‘ফোক ফেস্টের’ পর্দা উঠছে আজ

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ০২:৩০ PM
আপডেট: ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ০২:৩০ PM

bdmorning Image Preview


লোকসংগীত বাঙালি জাতির সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যে হাজার বছর ধরে প্রবহমান। সংগীতের এ ধারায় মিশে আছে জীবনের গভীর দর্শন, আধ্যাত্মিকতা, প্রেম আর মাটির ঘ্রাণ। লোকগানের সুর-সুধা বিশ্বদরবারে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে সান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০১৫ সাল থেকে প্রতি বছর হচ্ছে এশিয়ার সবচেয়ে বড় লোকসংগীতের অনুষ্ঠান ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট’। এ বছর হতে যাচ্ছে উৎসবের পঞ্চম আসর।

গত চার বছরের পরিক্রমায় সংগীতপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট’। আজ থেকে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে লোকগানের এ আয়োজন। সন্ধ্যা ৬টায় উদ্বোধন হবে এ উৎসবের। চলবে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দর্শক উপভোগ করবেন দেশ-বিদেশের সেরা লোকসংগীতশিল্পীদের শেকড় সন্ধানী গান। এবারের আসরে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬টি দেশ থেকে ২০০ জনের বেশি লোকশিল্পী ও কলাকুশলী জড়ো হচ্ছেন একই মঞ্চে।

আজ প্রথম দিন মঞ্চে থাকবে ‘প্রেমা ও ভাবনা নৃত্য দল’। যে দলের ২০০৭ সালে শুদ্ধ নৃত্যচর্চার মাধ্যমে নাচের ভুবনে আগমন। বাংলাদেশের জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার শামীমা হোসাইন প্রেমার হাত ধরে এই নৃত্যদলের যাত্রা। প্রথম থেকেই ভাবনা নৃত্যদল বিভিন্ন নৃত্য আঙ্গিকের মাধ্যমে নজরুল ও রবীন্দ্রনাথকে মঞ্চে নিয়ে আসতে চায়। এ ছাড়াও ভাবনা নৃত্যদল বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য, রায়বেশে এবং আধুনিক ধারার নাচ পরিবেশন করে থাকে। ইতোমধ্যে তারা ‘ভানুসিংহের পদাবলি’, ‘শকুন্তলা’, ‘পাপমোচন’ প্রভৃতি পরিবেশন করেছেন। এরপরই মঞ্চে উঠবেন জর্জিয়ান ফোক ব্যান্ড শেভেনেবুরেবি। এ ব্যান্ড যাত্রা করে ২০০১ সালে।

বিভিন্ন ধরনের ফোক ইনস্ট্রুমেন্টের সমন্বয়ে ভিন্নধর্মী সংগীতায়োজন তাদের গানের প্রধান বৈশিষ্ট্য। গান গাওয়ার পাশাপাশি ব্যান্ডটি জর্জিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ফোকগান সংগ্রহ করে থাকে। শেভেনেবুরেবি জর্জিয়ান ফোক সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বড় বড় কনসার্টে গান করেছেন তারা। তাদের পরিবেশনা মুগ্ধ করতে পারে উপস্থিত দর্শককে। জর্জিয়ান ফোকব্যান্ডের পরিবেশনার পর দর্শকের সামনে আসবেন বাংলার বাউলগানের অনন্য শিল্পী, গীতিকার ও সুরকার শাহ্ আলম সরকার। যিনি পারিবারিকভাবেই বাউলগানের সঙ্গে যুক্ত।

শাহ্ আলম সরকার মনে করেন, গান নিয়ে জানার বা শেখার কোনো শেষ নেই। তাই তিনি এখনো গান নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। সংগীত জীবনে তার ৬৫০টিরও বেশি অ্যালবাম বের হয়েছে। তার লেখা ও সুর করা অসংখ্য গানে কণ্ঠ দিয়েছেন গুণী শিল্পী মমতাজ বেগম। শাহ্ আলম সরকার বিভিন্ন আসরে পালাগান পরিবেশন করে থাকেন। এরপর সবশেষে মঞ্চে উঠবেন ভারতের দালের মেহেন্দি। যার জন্ম ১৯৬৭ সালে বিহারের পাটনায়। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে পাঞ্জাবি ভাঙড়া গান দিয়ে সারা ভারতে ঝড় তোলেন। ১৯৯৫ সালে তার প্রথম অ্যালবাম ‘বোলো তা রা রা রা...’ প্রায় ২০ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়, যা কি না একটি রেকর্ড।

প্রায় তিন দশকের ক্যারিয়ারে শ্রোতাদের অসংখ্য হিট গান উপহার দিয়েছেন তিনি, পাশাপাশি সুখ্যাতি পেয়েছেন বলিউডে প্লেব্যাক করেও। ‘দ্য কিং অব ভাঙড়া’ দালের মেহেন্দির কণ্ঠে পাঞ্জাবি ভাঙড়া গান সীমানা পেরিয়ে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তার পরিবেশনার মধ্য দিয়েই শেষ হবে ফোক ফেস্টের প্রথম দিন।

Bootstrap Image Preview