Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৩ শুক্রবার, ডিসেম্বার ২০১৯ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

সংসদে দাঁড়িয়ে করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে রাঙ্গা বললেন, তিনদিন যাবত জ্বরে ভুগছি

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:২০ PM
আপডেট: ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:২০ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত


গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠানোর মাধ্যমে নূর হোসেনের কাছে ক্ষমা চাওয়ার পর এবার জাতীয় সংসদে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা। সাবেক এই স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যদি কোনো রকমের ভুল করে থাকি তার জন্য ক্ষমা চাচ্ছি, নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি। আমার কোনো ভুল ত্রুটি হলে সবাই আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।’

বুধবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ২৭৪ বিধিতে নিজের কৈফিয়ত দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব।

মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, “জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ একটি গণতন্ত্র দিবস পালন নিয়ে আমাদের একটা সংক্ষিপ্ত পরিসরে অনুষ্ঠান ছিল। একই দিনে নূর হোসেনের দিবস নিয়ে একটি আলোচনা ছিল। পুরান ঢাকা থেকে আমাদের কিছু লোক আসার সময় নূর হোসেন চত্বরে তাদের গালাগালি করা হয়। বলা হয়,‘এরশাদের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে’। এসব কিছু কথাবার্তা শোনার পর আমাদের অফিসে এসে তারা আমাদের বলেন। আমি দলের মহাসচিব হিসেবে তাদের শান্ত থাকতে বলি।”

তার এ বক্তব্যের সময় সংসদে উপস্থিত অনেক এমপি হৈ-হুল্লোড় করতে থাকেন।

উত্তেজিত এমপিদের উদ্দেশে রাঙ্গা বলেন, ‘কোনো মন্তব্য করার আগে আমার কথাটা শুনুন।’ এ সময় সংসদে সভাপতিত্বে থাকা স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য, আপনি বলতে থাকুন, আপনি বলুন।’

এরপর রাঙ্গা বলেন, ‘আমাদের সাবেক সিনিয়র মন্ত্রী মহোদয় সংসদে এই নিয়ে আলোচনা করেছেন। আমার স্থানীয় সরকারের সাবেক সিনিয়র মন্ত্রীও আলোচনা করেছেন মঙ্গলবার সংসদে। আমি মনে করি, তারা আমাকে শাসন করেছেন। আমি এটা ভুল করেছি এবং ভুল করার জন্য আমি তার (নূর হোসেন) পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। এমনকি বিবৃতিও দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, এরশাদ গুলি করে মারুন বা না মারুন, এটি সত্য যে নূর হোসেন মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে আমি চিঠি দিয়েছি।

তিনি বলেন, আমি মন্ত্রী থাকা অবস্থায় সংসদে ৩৭ বার প্রশ্নের জবাব দিয়েছি। সে সময় অসংখ্যবার আমি জাতির পিতাকে নিয়ে কথা বলেছি। এ সময় ‘জয় বাংলা’ বলেছি। তাই জাতির পিতা নিয়ে আমার যদি কোনো রকমের ভুল হয়ে থাকে তার জন্য আমি ক্ষমা চাচ্ছি, নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি।

স্পিকারকে উদ্দেশ করে জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, মাননীয় স্পিকার, আমরা মহাজোটের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন করেছি ২০১৪ সালে। আমি মন্ত্রী থাকা অবস্থায় দিনরাত পরিবহন সেক্টর সচল রাখার জন্য কাজ করেছি। আমি প্রধানমন্ত্রীকে ‘দুর্নীতিবাজ’ বা ‘সন্ত্রাসবাদ’ বলিনি। আমি বলেছি, এই সময়ে বিশ্বজিৎ হত্যা হয়েছে। তারও বিচার হয়েছে। আমি যেটা বলেছি, তাহলো ১৯৯০ সালের পর যখন খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসলেন, তখন কৃষকদের হত্যা করা হয়েছিল। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়েছিল সে সময়ের বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য। বিদেশ থেকে সেই সময় অস্ত্র নিয়ে আসা হয়েছে বাংলাদেশে। এই কথাগুলো কিন্তু আমি বলেছি। এর রেকর্ড রয়েছে। এরপরও আমি নিঃস্বার্থভাবে ক্ষমা চাচ্ছি। যদি কোনো ভুল করে থাকি অবশ্যই আমি তাদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।

তিনি বলেন, ‘সংসদে আমার কলিগ আছেন, তারাও এটা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, হয়তো আমার দল ক্ষমতায় আসলেও আমি মন্ত্রী হতে পারতাম না। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে মন্ত্রী করেছেন। তিনি আমাকে অনেক ভালোবাসতেন। আমি মনে করি, সেই সম্পর্ক উনার সঙ্গে আমার থাকবে। আমি এখানে কাউকে কটাক্ষ করে কিছু বলতে চাই না। সব দোষ আমার ঘাড়ে নিচ্ছি। আমার হয়তো ভুলত্রুটি হতে পারে।’

নিজ ভুলের জন্য সবাইকে ক্ষমা করে দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তিনদিন যাবত জ্বরে ভুগছি। তাই দুদিন আমি সংসদে আসতে পারিনি। আমি কালকে সংসদে আসলে কালকেই জবাব দিতে পারতাম। তারপরও আমি বিশ্বাস করি, নূর হোসেন মৃত্যুবরণ করেছেন। আমরা গুলি করি কিংবা এরশাদ সাহেব গুলি করে মারুক কিংবা না মারুক- এটা তো সত্য তিনি মারা গেছেন। আমি তার পরিবারের কাছে পত্র দিয়ে ক্ষমা চেয়েছি। সুতরাং আমি মনে করি, এখানকার মাননীয় মন্ত্রী, এমপিরা আমার কোনো ভুলত্রুটি হলে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।’

Bootstrap Image Preview