Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২১ বৃহস্পতিবার, নভেম্বার ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

নদীর ইলিশে পূর্ণ মাছের বাজার, দামও কম

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বর ২০১৯, ০৪:১৭ PM
আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০১৯, ০৪:১৭ PM

bdmorning Image Preview


ইলিশের মাছের প্রধান প্রজনন মৌসুম ঘিরে নদী ও সাগরে ইলিশ শিকারে টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা ছিল। যে নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে ৩০ অক্টোবর রাত ১২টায়। এরপরই জেলেরা ইলিশ শিকারের নেমে পড়েন। গত চারদিন ধরে বাজারে ইলিশ আসছে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরপরই  পদ্মা নদীর আশে পাশের বাজারসহ আড়ত গুলোতে  ইলিশ উঠতে শুরু করেছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ‘প্রজননক্ষম ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচি’ বাস্তবায়নে ইলিশ মাছের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে মৎস্য বিভাগ গত ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন নদীতে ইলিশ মাছ শিকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।  এ সময় সারা দেশে ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, মজুত, বিক্রি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়।  গতকাল শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় ডিমওয়ালা প্রচুর ইলিশ বাজারে উঠেছে। দামও ছিল সাধ্যের মধ্যে।

নদীর ইলিশে বাজার সয়লাভ হলেও এখনো সাগরের ইলিশ তেমন আসেনি। চরদুয়ানী থেকে মাছ বিক্রি করতে আসা শহীদুল  বলেন, বলেশ্বরে জেলেদের জালে ধারা পড়ছে প্রচুর ইলিশ। তারা এসব মাছ বিক্রি করতে আসছেন এখানে। এসব মাছের মধ্যে ডিমওয়ালা ইলিশ বেশি।

খুলনা, চাদপুর , রাজবাড়ী সহ দেশের অনান্য ইলিশ প্রধান বাজার এখন ক্ষুদ্র-পাইকারী ব্যবসায়ী, জেলে ও ক্রেতাদের হাঁকডাকে সরগরম।

গতকাল সকালে দৌলতদিয়ায় ইলিশের বাজারে দেখা যায়, টার্মিনালসংলগ্ন বাজারে অনেক মানুষের সমাগম। ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে এবং দামও তুলনামূলক কম। তবে অধিকাংশ ইলিশের পেটে ডিম রয়েছে। আগের থেকে প্রায় অর্ধেক দামে কিনতে পারছেন ক্রেতারা।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছোট আকারের ইলিশ ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায়, মাঝারি আকারের ইলিশ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, ১ কেজি ওজনের কাছাকাছি ইলিশ ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা ও কেজির ওপরের ইলিশ ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি আড়তদারের ঘরের সামনে বড় ঝুড়ি বা ডালার ওপর ঢেলে ইলিশের ডাক হাঁকছেন বিক্রেতারা।

ফেরিঘাটের বিকল্প সড়কের পাশে শুধু আশপাশের মানুষ নয়, গাড়ি ও মোটরসাইকেল নিয়ে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ দৌলতদিয়ায় ইলিশ কিনতে এসেছেন। ফরিদপুরের ঈশান গোপালপুর থেকে পদ্মার ইলিশ কিনতে এসেছেন স্কুলশিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, পদ্মার ইলিশ সবার পছন্দ। কিন্তু অতি উচ্চ দাম থাকায় সহজে কেনা হয় না। এখন কিছুটা দাম কম হওয়ায় কিনতে এসেছেন।বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্ষুদ্রব্যবসায়ী ও জেলেরা পাইকারি বাজারে ইলিশ নিয়ে আসতে শুরু করেন। ফলে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ীদের হাঁকডাক, শ্রমিকদের কর্মব্যস্তায় মুখরিত হয়ে ওঠে পাইকারি এ বাজারটি। আর একসঙ্গে প্রচুর মাছের দেখা পেয়ে মহাখুশি জেলে থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। ইলিশের সরবরাহ অনেক বেশি থাকায় দামও মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। আর দাম কম হওয়ায় খুশি সব শ্রেণীর ক্রেতারা।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় থেকে এসেছেন মোতালেব হোসেন। তিনি বলেন, ‘সকালে শ্যালককে সঙ্গে করে দৌলতদিয়া ঘাটে এসেছি ইলিশ কিনতে। ২টি আড়তঘর থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার ইলিশ কিনেছি। এই ইলিশ অন্য সময়ে প্রায় দ্বিগুণ দামে কিনতে হতো।’

মাগুরা থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে গাড়ি থামিয়ে ইলিশ মাছ কিনছিলেন সাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা আরও বাড়ানো দরকার ছিল। প্রতিটি ইলিশের পেটভর্তি ডিম রয়েছে। আরও ১৫ দিন থাকতে পারলে হয়তো এসব ইলিশের পেটে ডিম থাকত না।

ইলিশের পাইকারি বিক্রেতা মাসুদ মোল্লা বলেন, নিষেধাজ্ঞার পরদিন বৃহস্পতিবার কিছু ইলিশ উঠেছিল। ওই দিন দামও ছিল কিছুটা বেশি। তবে শুক্রবার বেশি পরিমাণে ইলিশ সরবরাহ হওয়ায় দাম আগের দিনের থেকে একটু কম যাচ্ছে। তিনি প্রায় দুই মণ ইলিশ কিনেছেন।

বাজারে এত ইলিশ আসা প্রসঙ্গে কয়েক জেলে বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় অনেক জেলে লুকিয়ে মাছ ধরেছেন। ওই সব মাছ গ্রামের বিভিন্ন স্থানে বরফজাত করে পেটিতে মজুত করে লুকিয়ে রেখেছিলেন। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরই ওই সব ইলিশ বাজারে আসতে শুরু করেছে। এ ছাড়া নদী থেকে জেলেরা ধরে সরাসরিও বাজারে নিয়ে আসছেন। ইলিশের এই সরগরম বাজার হয়তো তিন-চার দিন থাকতে পারে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রেজাউল শরীফ বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় ৯৯টি মামলা দায়ের করে ৭৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

Bootstrap Image Preview