Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৩ শনিবার, নভেম্বার ২০১৯ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

আমাদেরও যেন এক জোকারের খুব প্রয়োজন!

নিয়াজ শুভ
বিডিমর্নিং ডট কম
প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর ২০১৯, ০৫:৪২ PM
আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০১৯, ০৫:৪৬ PM

bdmorning Image Preview


মিতালী রায়।।

২ ঘণ্টা ২ মিনিটের “জোকার” চলচ্চিত্রের সম্পূর্ণ কাহিনী বিন্যাসের আলোকপাতে আজ চলচ্চিত্রটির নান্দনিক ভাষা এবং নির্মাণ সম্পর্কে আলোচনা করতে চলেছি। আমার জ্ঞানের স্বল্প পরিধি দিয়ে যতটুকু সম্ভব আমি চেষ্টা করছি।

পরিচালক টড ফিলিপস নিজেই ছিলেন চিত্রনাট্য রচনায়, সাথে ছিলেন স্কট সিলভার; যিনি “দ্যা ফাইটার”(২০১০) চলচ্চিত্রের যৌথ রচয়িতা হিসেবে অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিলেন। পরিচালক টড ফিলিপস ২০০৬ সালের মকুমেন্টারি “বোরাত” এর গল্পের যৌথ রচয়িতা হিসেবে অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিলেন। টড ফিলিপসের পরিচালিত চলচ্চিত্র গুলোর মধ্যে রয়েছে “দ্যা হ্যাংওভার” ট্রিলজি, “ওয়ার ডগ”, “ওল্ড স্কুল” ইত্যাদি। বোঝাই যাচ্ছে যথেষ্ট হাতপাকিয়েই “জোকার” নিয়ে কাজ শুরু করেছেন টড।

ডিসি কমিক্সের সুপার ভিলেইন হিসেবে খ্যাত এই চরিত্রটি পরিচালক টড ফিলিপস এবং অভিনেতা জোয়াকিন ফিনিক্সের জাদুতে আমার কাছে কোনভাবেই আর ভিলেন নেই। একটা সময় মনে হয়েছে গোথাম শহরের মতন  আমাদেরও যেন এক জোকারের খুব প্রয়োজন!

জোয়াকিন ফিনিক্সের অভিনয়ের ভক্ত আমি বেশ আগে থেকেই। “দ্যা মাস্টার”, “ওয়াক দ্যা লাইন”, “গ্ল্যাডিয়েটর” খ্যাত এই গুণী অভিনেতা ৩ বার মনোনয়ন পেয়েছেন অস্কারে। ফিনিক্সের এক অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে। প্রতিটি চরিত্র তিনি একটি গবেষণার বিষয় হিসেবে নিয়ে থাকেন। তিনি ২৪ কেজি ওজন কমিয়েছেন আর্থার ফ্লেক(জোকার)  চরিত্রটির জন্য। দীর্ঘদিন তিনি প্যাথলজিক্যাল লাফটার বা পিবিএ আক্রান্ত রোগীদের পর্যবেক্ষণ করেছেন। যারা ছবিটি দেখেছেন বা দেখবেন আশাকরি তারা খুঁজে পাবেন ফিনিক্সের এই পর্যবেক্ষণের সার্থকতা। রবার্ট ডি নিরো অভিনয় করেছেন মারে ফ্র্যাঙ্কলিন চরিত্রে।

মার্টিন স্করসেজির নির্মাণ কৌশলের বেশ মিল খুঁজে পেয়েছি অনেক দৃশ্যায়নে। একটি লেখাও পড়লাম আজ যেখানে পরিচালক টড নিজেই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। চরিত্রের হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরনের পরিবর্তন, মানসিক কষ্ট, সমাজের অনিয়মকে নিয়ম বানিয়ে ফেলা আর তাই সাধারণ মানুষের উপর চাপিয়ে দেয়া; ঠিক এই রকম এক অবস্থান থেকেই স্বাভাবিক একজন সাধারণ মানুষ সমাজে জোকার হয়ে ওঠে।

মার্টিন স্করসেজির “ট্যাক্সি ড্রাইভার”(১৯৭৬) চলচ্চিত্রের ট্র্যাভিস বিকল চরিত্রটি যা রবার্ট ডি নিরো অভিনয় করেছিলেন তার সাথে বেশ মিল পেয়েছি টড ফিলিপসের আর্থার ফ্লেক(জোকার)  চরিত্রের সাথে। ট্র্যাভিস বিকল এবং আর্থার ফ্লেক(জোকার)  দুজনেই সমাজের বানোয়াট নিয়ম এবং মানবিকগুণ হারিয়ে ফেলা মানুষের আচরণের শিকার।

“জোকার” চলচ্চিত্রের সম্পাদনা করেছেন জেফ গ্রোথ যিনি এর আগেও কাজ করেছেন টড ফিলিপসের সাথে তার “ওয়ার ডগ” , “দ্যা হ্যাংওভার -৩” চলচ্চিত্রে। খুব সহজ এবং বেশ লিনিয়ার পদ্ধতিতে চলেছে সম্পাদনা। কাহিনীকে আরো সহজবোদ্ধ করার জন্য কিছুটা নন-লিনিয়ার কারা হয়েছে। তবে আমি বেশ চিন্তাতেই ছিলাম প্রথম পর্যায়ে। কারণ এতো দুর্দান্ত শুরু দেখে মনে হচ্ছিল শেষটা এতটা দুর্দান্ত নাও হতে পারে(অনেক চলচ্চিত্র দেখে আমি এই হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলাম); কিন্তু শেষ রক্ষা খুব চমৎকার ভাবেই বা বলা যেতে পারে অসাধারনভাবেই হয়েছে। খুব সাধারণ ভাবে এক অসাধারণ গল্প বলেছেন নির্মাতা।

“জোকার” চলচ্চিত্রের একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়,তা হলো দেয়াল ঘড়ি। আর্থার ফ্লেকের(জোকার) জীবনের বিশেষ দুটি মুহূর্তের সময় পিছনের দেয়াল ঘড়ির সময় সব ক্ষেত্রে ছিল ১১:১১। প্রথম যখন আর্থার ফ্লেক তার থেরাপিস্টের সাথে কথা বলে তখন তার পিছনের দেয়াল ঘড়িতে ১১:১১। আবার যখন আর্থার ফ্লেক তার চাকরী হারানোর পর অফিস থেকে বের হবার সময় যে দেয়াল ঘড়িটি ভেঙ্গে ফেল ১১:১১। অবশ্য ধারণা করা হয় মারে ফ্র্যাঙ্কলিনকে (রবার্ট ডি নিরো) গুলি করবার সময়ও ১১:১১। কারণ আর্থার ফ্লেক(জোকার) যখন গ্রিন রুমে বসে ছিল তখন ঘড়িতে দেখনো হয় ১০:৪০। ঠিক ১১ টায় শোতে প্রবেশ করে আর্থার ফ্লেকের(জোকার), তাহলে গুলি করার সময় হয় ১১:১১। তবে এই বিষয়টিকে পরিচালক টড ফিলিপস সম্পূর্ণ আকস্মিক ঘটনা হিসেবেই বলছেন।  

প্রডাকশন ডিজাইনে ছিলেন মার্ক ফ্রেডবার্গ , পোশাকে ছিলেন মার্ক ব্রিজ যিনি "দ্যা আর্টিস্ট" এবং "ফ্যান্টম থ্রেড” চলচ্চিত্রে জন্য দুবার জিতেছেন অস্কার। চলচ্চিত্রের শব্দ, পোশাক, সাজ, লোকেশন, সেট সমস্ত বিষয়গুলো মিলেই সার্থক গল্প সাজাতে পারে সেটাই আমি আবারো দেখেছি “জোকার” চলচ্চিত্রে।

আমিও শেষ করতে চাই “জোকার” চলচ্চিত্রের শেষ ডায়লগ দিয়ে। যেটা গোথাম এজাইলামে থাকা ফিনিক্স (জোকার) মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলার সময় বলেছিলেন।

“You wouldn’t get it”  

জোকার যেন আমাদের সবাইকে বলে গেল যে কষ্ট বা অবস্থার মধ্যে দিয়ে তার আজ এই পরিণতি তা কখনই এই সমাজ বুঝবেনা বা মানবেনা। সে সবসময়ই এই সমাজের সুপারভিলেন হয়েই থাকবে।

Bootstrap Image Preview