Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২১ বৃহস্পতিবার, নভেম্বার ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

নিষেধাজ্ঞা শেষে ফের ইলিশ ধরতে সমুদ্রে যাচ্ছে জেলেরা

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৩৫ AM
আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৩৫ AM

bdmorning Image Preview


ইলিশ ধরার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেরা সমুদ্রযাত্রা শুরু করেছেন। ৯ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে গতকাল মঙ্গলবার (৩০ অক্টোবর) রাত ১২টায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়।

উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় তিন লাখ জেলে ফের দেড়শ দিনের জন্য এই যাত্রায় অংশ নিচ্ছেন। বরগুনা অঞ্চলের জেলেরা রওনা দিয়েছেন গভীর সাগরে। খুলনা অঞ্চলের জেলেরা সুন্দরবন সংলগ্ন আলোর কোলসহ আশপাশ চর এলাকায় ইলিশ মাছ শিকার করবেন। সমুদ্র থেকে মাছ সংগ্রহ করে চরে এসে তা শুঁটকি করা হবে। আর বিভিন্ন এলাকার মহাজনরাও জেলেদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাজা মাছ সংগ্রহ করে স্থানীয় আড়তে হাজির করবেন। এভাবেই চলবে ২০২০ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত।   

জানা যায়, খুলনা জেলার ডুমুরিয়ায় সাতশ’, পাইকগাছার হিতামপুর গ্রামে কপোতাক্ষ নদীর পাড়ের ১৫০ এর অধিক জেলে এই যাত্রায় অংশ নিচ্ছেন।

ডুমুরিয়ার ইলিশ শিকারি জেলে অনিক মন্ডল বলেন, ’২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে চরম সংকটের মধ্যে দিনাতিপাত করতে হয়েছে। এই অবস্থার মধ্যেও ধার দেনা করে সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছি।’

পাইগাছার রনি বিশ্বাস বলেন, ‘নৌকা তৈরি, দড়ি বানানো, তেলের ড্রাম প্রস্তুত ও বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করছি। প্রয়োজনীয় লোকও ঠিক করেছি। মার্চ মাস পর্যন্ত সাগরে অবস্থান করবো। তাই নিজ ও পরিবারের খরচ সামলে নিতে মহাজনের কাছ থেকে দাদন (ঋণ) নিতে হয়েছে।’

বিষয়টি নিয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা মৎস্য অফিসার মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘অক্টোবর মাসের ৯ তারিখ থেকে শুরু হওয়া ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা ৩০ অক্টোবর রাত ১২টায় শেষ হয়েছে। এখন আর জেলেদের ইলিশ আহরণে বাধা নেই। জেলেরা উৎসবমুখর পরিবেশে সাগরে যাত্রা করছে।’

সমুদ্রে মাছ শিকারে যাওয়া বরগুনার জেলেরা জানান, অবরোধের আগের দিন অক্টোবরের ৮ তারিখে সাগর থেকে ফিরে আসেন তারা। পরের দিন বাড়িতে চলে যান। এই দীর্ঘ অবসর ট্রলার ও জাল মেরামতের পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গেই কাটিয়েছেন। তাদের প্রত্যেকের ট্রলারে মোট ১৭ থেকে ২০ জন জেলে। সবাই সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে মহাজনের আড়তে ফিরেছেন। কেউ কেউ গভীর রাতেই  সমুদ্রে রওনা দিয়েছেন। আবার কেউ সকাল থেকে রওনা হয়ে যাবেন।

র‌্যাবের অভিযানে জলদস্যু নির্মূল হলেও আবারও নতুন করে মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে দস্যুরা জানিয়ে জেলে মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘তাই সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি অনুরোধ থাকবে জলদস্যু নির্মূলে গভীর সমুদ্রে র‌্যাব ক্যাম্প স্থাপন করা হোক।’

এ ব্যাপারে ‘জলদস্যু নির্মূলে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে’ জানিয়ে বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন,  ‘বিভিন্ন সময় র‌্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী অভিযান চালিয়ে জলদস্যুদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসে। জেলেরা যাতে নির্বিঘে ইলিশ শিকার করতে পারে, সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট রয়েছে।’

Bootstrap Image Preview