Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২১ বৃহস্পতিবার, নভেম্বার ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

ফ্লু'র নতুন প্রতিষেধক আবিষ্কার : এক ঢিলে সব পাখি!

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০১৯, ১১:২৩ AM
আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০১৯, ১১:২৩ AM

bdmorning Image Preview


ইনফ্লুয়েঞ্জার ব্যাপারে নতুন করে জানার কিছু নেই। আপনিও নিশ্চয় ইনফ্লুয়েঞ্জা কী সেটা জানেন। কিন্তু, ইনফ্লুয়েঞ্জা কিন্তু শুধু একটা রকমের নয়। এর অনেক শাখা-প্রশাখা রয়েছে। ইনফ্লুয়েঞ্জা মোট দুইরকমের। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস স্ট্রেইন এ এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস স্ট্রেইন বি। এদের প্রত্যেকের আছে আবার নিজস্ব কয়েক রকমের প্রকারভেদ। আর এতোদিন ধরে এই সবগুলো রকমের ইনফ্লুয়েঞ্জাকেই হারানোর চেষ্টা করছিলেন গবেষকেরা।

এবার নিউ ইয়র্কের একদল গবেষক জানিয়েছেন যে, তাদের আবিষ্কৃত পদ্ধতি ভাইরাস দূর করতে বেশ সহায়ক। আর এটি কার্যকরী হলে পরবর্তীতে সব রকমের ফ্লু-কে হারিয়ে দেওয়াও সম্ভব হবে এই পদ্ধতিতে।

একমাত্র প্রতিষেধক : কতটা সম্ভব?

সম্প্রতি গবেষকেরা হেমাগগ্লুটিনইন নামক একটি প্রোটিন নিয়ে কাজ করছেন। এটি ফ্লু ভাইরাসের উপরিভাগে বিদ্যমান থাকে। এর মাধ্যমেই কোন ভাইরাস মানুষকে আক্রমণ করে এবং তার কোষকে প্রভাবিত করে। এই হেমাগগ্লুটিনইনে মোট দুইটি উপাদান রয়েছে। একটি হলো মাথা এবং অন্যটি স্টক।

একেক ভাইরাসের মাথা একেকরকম হলেও এদের স্টকে ভিন্নতা কম থাকে। এই তথ্যের ওপরে ভিত্তি করে হেমাগগ্লুটিনইনের স্টককে প্রভাবিত করতে পারে এমন একটি উপাদান তৈরি করার চেষ্টা করছেন গবেষকেরা, কাজ করছেন চিমেরিক হেমাগগ্লুটিনইনের নিয়ে। স্বাস্থ্যবান কিছু মানুষের শরীরে এই ব্যাপারটি প্রয়োগ করে নিশ্চিত হয়েছেন তারা যে, একটিমাত্র চিমেরিক হেমাগগ্লুটিনইন কয়েক রকমের ভাইরাসকে হারিয়ে দিতে এবং ফ্লু থেকে মানুষকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

এই গবেষণার মাধ্যমেই অনেকে ইতোমধ্যে বুঝতে পেরেছেন যে, খুব বেশি সময় বাকি নেই যখন শুধু একটি প্রতিষেধকের মাধ্যমে সব ধরণের ফ্লু ও ভাইরাস থেকে দূরে থাকা যাবে। চিকিৎসকেরা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। এতোদিন কখনো সঠিক উদ্যোগের অভাবে, কখনো অর্থনৈতিক কারণে এগোতে পারেননি গবেষকেরা।

তবে ভালো খবর হলো এই যে, খুব দ্রুতই এই কাজের জন্য আর্থিকভাবে সাহায্য পাচ্ছে গবেষক দল। আর সেটা হলেই খুব দ্রুত এগিয়ে চলবে গবেষণার কাজ। আর যত দ্রুত কাজটি শেষ হবে, তত দ্রুত পৃথিবীর বর্তমান বাসিন্দা এবং ভবিষ্যৎ বাসিন্দারা সুরক্ষিত থাকবে নানাবিধ অসুস্থতা থেকে।

তবে পরীক্ষাটি এখনো চলছে। বর্তমানে যেমনটা অনুমান করা হচ্ছে, এর ভবিষ্যত ফলাফল হয়তো এমনটা হবে না। তবে ফলাফল যেটাই হোক না কেন, সেটার পুরো ফলাফল ২০১৯ সালের শেষের দিকে প্রকাশিত হবে বলে জানানো হয়েছে। খুব বেশিদিন নেই। দ্রুতই আমরা জেনে যাবো আমাদের শরীরের নানাবিধ অসুস্থতা, ফ্লু ও ভাইরাসজনিত সমস্যাগুলো দূর করার উপায়।

২০১০ সালে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ইনফ্লুয়েঞ্জার শিকার হন ৯.৩ থেকে ৪৯ মিলিয়ন মানুষ। তাই, ব্যাপারটিকে ছোট করে দেখার কিছু নেই। চিকিৎসকেরা যে চেষ্টা চালাচ্ছেন, সেটা যদি সত্যিই কার্যকরী হয়, তাহলে এর সুফল শুধু আপনি নন, উপভোগ করবে পুরো পৃথিবী।

অনেক অসুস্থতাকে হারিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে আমাদের পক্ষে। অপেক্ষা করছেন গবেষক ও চিকিৎসকেরা কবে ইনফ্লুয়েঞ্জাকে পুরোপুরি হারিয়ে দেওয়া যাবে। তাদের সাথে এবার চলুন অপেক্ষা করি আমরাও!

Bootstrap Image Preview