Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৭ রবিবার, নভেম্বার ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

রাস্তায় সন্তান প্রসব করলেন মা, জানেন না কে তার সন্তানের বাবা

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০১৯, ০৭:৩৫ PM
আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০১৯, ০৭:৩৫ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত ছবি


রাস্তায় সন্তান প্রসব করা এক নারী ও তার নবজাতকের স্বজনদের খুঁজে পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছে পুলিশ। নেত্রকোনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে এ সংবাদ সম্মেলন করেন পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সি। 

পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সি বলেন, গত ১৫ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার সাাহতপুর বাজার এলাকার পেরি গ্রামের রাস্তায় সন্তান প্রসব করেন মানসিক প্রতিবন্ধী এক নারী। ওই সময় স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে নবজাতক ও মাকে প্রথমে কেন্দুয়া ও পরে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নবজাতকের নাম রাখা হয় ‘জয়িতা’।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম আশরাফুল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর-সার্কেল) ফখরুজ্জামান জুয়েল ও এএসপি আল-আমিন প্রমুখ।

মা ও নবজাতককে দুই নারী কনস্টেবল দিয়ে পাহারাসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করে পুলিশ। মানসিক প্রতিবন্ধী নারী তার নাম-পরিচয় কিছুই বলতে পারছেন না।

স্থানীয়রা জানান, কেন্দুয়া উপজেলার আঠারোবাড়ি সড়কের ফেরির মোড় এলাকায় ১৫ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে অজ্ঞাত প্রতিবন্ধী নারী পেটের ব্যথা নিয়ে দোকানে পানি খেতে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই পেটের ব্যথায় ছটফট করতে থাকেন তিনি। ফেরির মোড় এলাকার জাহিদ হাসান জনির দোকানের সামনে ওই সময় একটি কন্যাসন্তান জন্ম দেন প্রতিবন্ধী ওই নারী।

দোকানদার জাহিদ হাসান জনি বলেন, ওই নারী আমার দোকানে এসে পানি খেতে চান। পানি দিলে খেয়ে চলে যান। এ সময় পরনে একটি ওড়না পেঁচানো ছিল তার। দোকানে পানি খেয়ে কিছু দূর যেতেই সন্তান প্রসব করেন ওই নারী।

এ ঘটনার পর আমার মাকে ডেকে এনে দেখাই। পরে শিশু ও মায়ের সেবা করেন আমার মা। এরপর সিএনজি ভাড়া করে ওই নারীকে আদমপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করাই। কেন্দুয়া হাসপাতালে ভর্তির পর ওসি রাশেদুজ্জামান শিশুটি এবং তার মায়ের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।

পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সি বলেন, মা এবং নবজাতককে দুজন নারী কনস্টেবল দিয়ে সার্বক্ষণিক দেখভালের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মা শিশু সুস্থ। শিশুটির মা মানসিক ভারসাম্যহীন। তিনি সন্তানকে ফেলে দিতে পারেন। মেরেও ফেলতে পারেন। এ অবস্থায় তার পরিচয় জানা জরুরি। নবজাতককে অনেকেই নিতে আগ্রহী। কিন্তু মায়ের দিক বিবেচনা করে আমরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা করছি। যদি তাদের স্বজনদের খুঁজে পাই তাদের হাতে মা ও শিশুকে তুলে দেয়া হবে।

Bootstrap Image Preview