Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৬ শনিবার, নভেম্বার ২০১৯ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

অমিতের উস্কানিতেই আরবারকে পিটিয়ে মারে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা!

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৭:০৩ PM
আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৭:০৩ PM

bdmorning Image Preview


বুয়েট শিক্ষার্থী আরবার ফাহাদকে (২২) পিটিয়ে হত্যার পেছনে সবচেয়ে বেশি উস্কানি ছিলো বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-আইনবিষয়ক সম্পাদক অমিত সাহার। গত ৬ অক্টোবর রাতে আবরারকে হত্যার বেশ কিছুদিন আগে থেকেই তাকে ‘শিবির’ আখ্যা দিয়ে আবরারকে ‘শিক্ষা’ দেয়া দরকার বলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উস্কানি দিতে থাকেন অমিত।

গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একাধিক কর্মকর্তা এসব তথ্য দিয়েছেন। তাদের দেয়া তথ্য অনুসারে, বুয়েট শেরে বাংলা হলের ছাত্রলীগের গোপন ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ এসবিএইচএসএল (শেরে বাংলা হল ছাত্রলীগ)-এ অমিত সাহা দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্র আবরারের ব্যাপারে এমন কথা বলতে থাকলে নেতাকর্মীরা হিংস্রভাবাপন্ন হয়ে ওঠেন।

‘আবরারকে একজন শিবির’ উল্লেখ করে ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে অমিত লেখেন, আবরার সবসময় সরকারবিরোধী কথাবার্তা বলে, তাকে ‘শিক্ষা’ দেয়া উচিত।

সেই গ্রুপে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন লেখেন, ‘সেভেন্টিনের আবরার ফাহাদ। মেরে হল থেকে বের করে দিবি দ্রুত। এর আগেও বলেছিলাম। তোদের তো দেখি বিগার নাই। শিবির চেক দিতে বলেছিলাম। দুই দিন টাইম দিলাম।’ এই কথায় সম্মতি জানায় ম্যাসেঞ্জার গ্রুপের কয়েকজন।

এসব কথার প্রেক্ষিতে গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় আবরারকে তার রুম ১০১১ থেকে ডেকে আনা হয় ২০১১ রুমে। সেখানে শিবির সন্দেহে তাকে অকল্পনীয় নির্যাতন করে বুয়েট ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

উস্কানির জেরে মদ্যপ অবস্থায় আরেক ছাত্রলীগ নেতা অনিক সরকার অন্তত দু দফায় ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে আবরারকে শতাধিক বার পেটান। ‘দেখ শিবির কিভাবে পেটাতে হয়’ বলে আবরারের প্রায় নিস্তেজ শরীরেও একের পর এক আঘাত করেন তিনি।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রথম দফা জিজ্ঞাসাবাদে অনেক তথ্য লুকিয়েছিলেন। এজন্য পরে আরেক দফা রিমান্ড নেয়া হয়। আবরার হত্যায় প্রযুক্তিগতভাবে কলকাঠি নেড়েছেন অমিত।

অমিতকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেন তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর। অন্যরা তার কথায় উৎসাহিত হন। আর জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ২০ জনের সবাই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর আবরার হত্যার ঘটনায় তার পিতা মো. বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এজাহারভুক্ত ১৯ আসামির মধ্যে ১৬ জন এবং এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততা আছে সন্দেহে আরো ৫ জকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এজাহারভুক্ত তিন আসামি মো. মোর্শেদ, মো. জিসান ও মো. তানিমকে এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদে ৬ জন এ হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তারা হলেন মেফতাহুল ইসলাম জিওন, অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মোজাহিদুর রহমান, মেহেদী হাসান রবিন ও মনিরুজ্জামান মনির।

Bootstrap Image Preview