Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৩ বুধবার, নভেম্বার ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

বাবা হয়ে সন্তানকে হত্যা, এই দেশের মানুষের মাঝে কী বিকৃত মানসিকতা: প্রধানমন্ত্রী

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০৭:৫০ PM
আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০৭:৫০ PM

bdmorning Image Preview


যারা শিশু নির্যাতন বা শিশু হত্যা করবে তাদের কঠোর থেকে কঠোরতর সাজা অবশ্যই পেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। শেখ রাসেলের ৫৪তম জন্মদিন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

একাত্তর ও পঁচাত্তরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের বিচার হবে না। এ আইন করে খুনিদের বিচারের হাত থেকে মুক্ত করে পুরস্কৃত করা হয়েছিল। আমি যখন দেশে ফিরে আসি তখন মামলা করতে চেয়েছিলাম। আমাকে বলা হলো মামলা করা যাবে না। অর্থাৎ আমি আমার মায়ের হত্যার বিচার পাবো না, আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার পাবো না। আমার বাবার হত্যার বিচার পাবো না।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা কিছুদিন ধরে দেখছি যে, শিশুদের ওপর অমানবিক অত্যাচার। এই যে সমাজে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। সেই সময় যদি শিশু হত্যাকারী, নারী হত্যাকারী বিচার করা হতো তাহলে অন্তত মানুষের ভেতরে একটা ভয় থাকতো। এই ধরনের মানসিকতা গড়ে উঠতো না।

তিনি বলেন, কী আর্শ্চয ঘটনা, অদ্ভুত ব্যাপার। বাবা হয়ে সন্তানকে হত্যা করে অন্যকে ফাঁসানোর জন্য। কী বিকৃত মানসিকতা এই দেশের মানুষের মাঝে। আমরা চাই আর কোনো শিশু যেন এই ধরনের হত্যার শিকার না হয়। প্রত্যেকটা শিশু যেন সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্যায়-অবিচার কখনই বরদাস্ত করা হবে না। কাজেই আজকে যারা শিশু নির্যাতন বা শিশু হত্যা করবে তাদের কঠোর থেকে কঠোরতর সাজা অবশ্যই পেতে হবে।

শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি মনে করি, সব শিশুদের মধ্যে একটা সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে। নিজেকে কখনও ছোট মনে করবে না। নিজেকে কতটা বিকশিত করতে পারো সেটাই হচ্ছে সব থেকে বড় শক্তি। আর সততার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারলে সেটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় শক্তি।

তিনি বলেন, আজকে রাসেল আমাদের মাঝে নেই। আমরা রাসেলকে হারিয়েছি। আজকে রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের মাধ্যমে আমি হাজারো রাসেলকে দেখতে পেয়েছি। আমি চাইবো খেলাধুলা, সংস্কৃতি সর্বক্ষেত্রে আমাদের শিশুরা অংশগ্রহণ করবে, সমাজের যে খারাপ দিকটা সেদিক থেকে দূরে থাকবে। যেমন- মাদক, নানা ধরনের অপকর্ম, এগুলা যেন কেউ না করে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক থেকে সবাইকে দূরে থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরেকটি বিষয় হচ্ছে সততার সঙ্গে জীবনযাপন করা। কারও একটা বড় গাড়ি আছে দেখে আমারও লাগবে, কারও একটা সুন্দর দামি কাপড় আছে বলে আমারও লাগবে এসব চিন্তা যেন মাথায় না আসে। নিজেকে কখনও ছোট মনে করবে না, এটা আমার একটা অনুরোধ থাকবে। কেউ কখনও নিজেকে ছোট মনে করবে না।

তিনি বলেন, শুধু নিজে খাবো, নিজে পাবো, নিজে করবো সেটা না, কতটুকু আমার আশপাশের শিশুদের দিতে পারি, কতটুকু তাদের জন্য করতে পারি, কতটুকু তাদের পাশে দাঁড়াতে পারি, তারপরও দরকার হলে নিজের খাবার ভাগ করে খাবো, কারণ এটা বঙ্গবন্ধু করতেন। তিনি একটা দরিদ্র মানুষ দেখলে, দরিদ্র শিশু হলে নিজের খাবার ভাগ করে খেতেন, নিজের বই খাতা দিয়ে দিতেন, কাপড়-চোপড় দিয়ে দিতেন। আমার দাদি কিন্তু কোনোদিন এ ব্যাপারে নিষেধ করেন নাই। ঠিক সেই গুণটি রাসেলের মধ্যেও ছিল। গ্রামে গেলেই দরিদ্র শিশুদের যে কিছু দিতে হবে সেটা সবসময় চিন্তা করত। আমি চাই, রাসেল নামে সংগঠনে সব শিশুর মধ্যে এটা থাকতে হবে।

Bootstrap Image Preview