Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২২ শুক্রবার, নভেম্বার ২০১৯ | ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

অনৈতিক দৃশ্য গোপনে ধারণ করে কাজ আদায়ে বাধ্য করতেন জি কে শামীম

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০১:২১ PM
আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০১:২১ PM

bdmorning Image Preview


যুবলীগের সমবায় সম্পাদক হিসেবে পরিচয়দানকারী জি কে শামীমের পূর্ণ নাম এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম। নারায়ণগঞ্জ শাখা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতিও তিনি। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর যুবদলের সহ-সম্পাদক ছিলেন। বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, এফডিআর, মদ ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দেহরক্ষীসহ জি কে শামীমকে সম্প্রতি গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর একে একে বেরিয়ে আসছে তার অপরাধের নানা তথ্য।। জি কে শামীমের ১০ সহযোগীকে খুঁজছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। ১০ জন যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারে সেদিকেও নজর রাখছে র‌্যাব-পুলিশ। সবকটি স্থল, সমুদ্র ও বিমানবন্দরে থাকছে বিশেষ নজরদারি।

তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, জি কে শামীম নিজের জিকে বি অ্যান্ড কোম্পানির নামে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার কাজ নিলেও আরও ৫টি কোম্পানির নামে অন্তত আরও ২০ হাজার কোটি টাকার টেন্ডার বাগিয়ে নিয়েছেন। ওই কোম্পানিগুলোতেও তার রয়েছে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ শেয়ার। কোম্পানিগুলোর মধ্যে হলো, জামাল কনস্ট্রাকটিং লি., পদ্মা কনস্ট্রাকশন, মজিদ অ্যান্ড সন্স, হাসান অ্যান্ড সন্স, পায়েল কনস্ট্রাকশন।

সূত্র জানায়, গণপূর্তসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দরপত্র আহ্বান করার পরপরই জি কে শামীমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সজল এসবের মনিটরিং শুরু করতেন। কোন কোম্পানি টেন্ডারে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিত সেগুলোর মালিককে হুমকি দিত সজল। পরে জি কের আরেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী রণক ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তাদের নীরব হুমকি সমেত বিভিন্ন কৌশলে ম্যানেজ করত। সঙ্গে থাকত রানা মোল্লা, জন, মিলন, সজল, দিদার, রনি, বাবু, মিল্টন। তবে জি কে শামীমের অনুপস্থিতিতে সবকিছুর সমন্বয় করতেন তার বড় ভাই নাসিম।

এ ছাড়া, নিকেতনে থাকা জি কে শামীমের ৭/৮টি ফ্ল্যাটে মাঝেমধ্যে আসর বসত বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বড় বড় প্রকৌশলীর। ওইসব ফ্ল্যাটে থাকত সব ধরনের মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা। গোপন ক্যামেরায় আপত্তিকর দৃশ্য ধারণ করে পরবর্তীতে জি কের পক্ষে কাজ করতে বাধ্য করা হতো তাদের।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম গণমাধ্যমকে বলেন, জি কে শামীম আমাদের কাছে ৯ দিনের রিমান্ডে ছিলেন। ওই সময় আমরা বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি। এখন সেগুলোর যাচাই-বাছাই চলছে। তবে যাদেরই সম্পৃক্তরা পাওয়া যাবে তাদেরই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবে ক্যাসিনো-জুয়াবিরোধী অভিযানের মধ্যে গত ২০ সেপ্টেম্বর গুলশানের নিকেতনে শামীমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে তার সাত দেহরক্ষীসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়।

Bootstrap Image Preview