Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২২ শুক্রবার, নভেম্বার ২০১৯ | ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

সিরিয়ায় তুর্কি অভিযান বন্ধের আহ্বান ন্যাটোর

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০১৯, ১২:৪৬ PM
আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০১৯, ১২:৪৬ PM

bdmorning Image Preview


মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে তুরস্কের চলমান অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত চার শতাধিক কুর্দি সেনা নিহতের খবর পাওয়া গেছে। তাছাড়া আহত হয়েছে বাহিনীর আরও কমপক্ষে হাজার খানেক সদস্য। শুক্রবার (১১ অক্টোবর) তুর্কি জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। 

তুর্কি সেনাদের চলমান এই অভিযান অবিলম্বে বন্ধের জন্য দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে উত্তর আটলান্টিক দেশগুলোর সামরিকজোট ন্যাটো। 

সূত্রের বরাতে করা প্রতিবেদনে গণমাধ্যম ‘ভয়েস অব আমেরিকা’ জানায়, গত শুক্রবার (১১ অক্টোবর) তুরস্কে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ন্যাটোর মহাসচিব ইয়েন্স স্টোলটেনবার্গ অবিলম্বে এই হামলা বন্ধের আহ্বান জানান। তুরস্ককে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, ‘এবারের বহিঃআক্রমণের ফলে সেখানে ‘সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী’র আরও বেশি উত্থান হতে পারে। তাই আঙ্কারার উচিত এখনই এই সংঘাত বন্ধ করা।’

ইস্তানবুলে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলু ক্যাভুসোগলুর সঙ্গে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ন্যাটোর মহাসচিব বলেন, ‘নিরাপত্তা ইস্যুতে সিরিয়ায় কুর্দি সেনাদের নিয়ে তুরস্কের উদ্বেগ থাকাটা সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত। তবুও ইসলামিক স্টেট আইএসসহ অঞ্চলটির সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে পূর্বের অভিযানে যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে, তা এই আক্রমণের ফলে আরও বেশি ‘বিপর্যস্ত’ হতে পারে।’

পরে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেছেন, ‘বর্তমানে তুরস্ক যে হুমকির সম্মুখীন হয়েছে তার বিরুদ্ধে ন্যাটোর কাছ থেকে এখনো পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংহতি আশা করছে আঙ্কারা।’ এর আগে একইদিন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছিলেন, ‘যে যাই বলুক না কেন, আমরা কোনো অবস্থাতে এটা (সামরিক অভিযান) বন্ধ করতে পারব না।’

এ দিকে অবিলম্বে এই সেনা অভিযান বন্ধ করার জন্য তুর্কি প্রশাসনকে এরই মধ্যে অনুরোধ জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ দেশ ইরান। তাছাড়া তুরস্কের এই আগ্রাসন ভালোভাবে নিচ্ছে না ভারত, ইতালির মতো বহু দেশ। এমনকি সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। তবে এশিয়ার মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র পাকিস্তানের সমর্থন কিন্তু তুর্কি প্রশাসনের প্রতিই আছে।

এত কিছুর পরও এরদোগান কিন্তু একরোখা। নিজের টুইট পোস্টে ‘পিস স্প্রিং’ (শান্তির বসন্ত) আনার কথা উল্লেখ করে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থানরত কুর্দিবাহিনীর বিরুদ্ধে সেনা অভিযান শুরু করেছেন তিনি।

কোনো দেশের পরোয়া না করে গত শুক্রবার (১১ অক্টোবর) উল্টো তিনিই ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) হুমকি দিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘তুরস্কের এই অভিযানকে আগ্রাসনের তকমা দেওয়া হলে, আঙ্কারা থেকে অবিলম্বে ৩৫ লক্ষাধিক শরণার্থীকে সরাসরি ইউরোপেই ফেরত পাঠানো হবে।’

অপরদিকে সিরিয়ার কুর্দি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে তুর্কি হামলা অব্যাহত থাকায় দেশটির ওপর অচিরেই এক বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এমনকি ন্যাটো বাহিনীতে তুরস্কের সদস্য পদ থাকা নিয়েও এবার আলোচনা শুরু হয়েছে বলে এরই মধ্যে দাবি করেছে ইউরোপের দেশ ফ্রান্স। খবর ‘ব্লুমবার্গে’র।

ফরাসি ইইউ বিষয়ক মন্ত্রী এমিলি ‘দ্য মনতচালিন’ গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, ‘আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ এক বৈঠকে চলমান তুর্কি আগ্রাসনের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে। যদিও এই একই ইস্যুতে ফিনল্যান্ড এবং নরওয়ে এরই মধ্যে তুর্কি প্রশাসনের কাছে নিজেদের সমরাস্ত্র বিক্রি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।

এর আগে গত বুধবার (৯ অক্টোবর) সিরিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন সমর্থিত কুর্দিবাহিনীর ওপর সশস্ত্র অভিযান শুরু করে তুরস্ক। যা এখনো অব্যাহত আছে।

Bootstrap Image Preview