Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২০ শুক্রবার, সেপ্টেম্বার ২০১৯ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

ভিপি নুরের পর নারী আইনজীবীকে পেটালেন সেই উপজেলা চেয়ারম্যান

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৭:৩৬ PM
আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৭:৩৬ PM

bdmorning Image Preview


এবার প্রকাশ্যে এক নারী আইনজীবীকে পেটালেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলাকারী পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিন শাহ্। শুধু তাই নয়, ঘটনার সময় উপস্থিত দুই শতাধিক লোকের সামনে ওই নারী আইনজীবীকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে বিবস্ত্র করার হুমকি দেন তিনি।

এ ছাড়া ওই নারী আইনজীবীর শ্বশুর ইউপি চেয়ারম্যানকে ফোনে গালাগালি ও পায়ের রগ কাটা ও পা ভেঙ্গে দেয়ার হুমকি দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল চৌধুরী যুগান্তরকে অভিযোগে জানান, তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণে বেশ কিছুদিন নিজ জেলার বাইরে ছিলেন। বুধবার তিনি বাসায় আসেন। বৃহস্পতিবার তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে গলাচিপা উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন শাহ্ কল করে তাকে উপজেলা চত্বরে যেতে বলেন।

এ সময় তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ জানিয়ে উপজেলা চত্বরে যেতে আপত্তি জানান। এতে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠে অকথ্য ভাষায় চেয়ারম্যানকে গালমন্দ করেন। এ সময় চেয়ারম্যান দুলাল চৌধুরী তার প্রতিবাদ করলে শাহিন শাহ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে হাত-পায়ের রগকাটা এবং ভেঙ্গে দেয়ার হুমকি দেন।

একপর্যায় ইউপি চেয়ারম্যান ফোনের লাইন কেটে দেন। এ ঘটনা পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোতিউল ইসলাম চৌধুরীকে জানালে তাকে আইনি সহায়তা নেয়ার পরামর্শ দেন বলে জানান দুলাল চৌধুরী।

পরে ঘটনাক্রমে গলাচিপা উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপস্থিত হন ইউপি চেয়ারম্যানের পুত্রবধূ নারী আইনজীবী উম্মে আসমা আঁখি। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান আঁখিকে বলেন, তোর শ্বশুর কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের লতিফ গংদের পুকুরের মাছ বিষ দিয়ে মারছে। তুই তার জরিমানা দিবি। এ সময় তার উত্তরে আঁখির শ্বশুর ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং বুধবার রাতে তিনি বাসায় এসেছেন বলে জানান আঁখি।

এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান আঁখিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করলে আঁখি প্রতিবাদ করেন। এতে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন ক্ষিপ্ত হয়ে প্রকাশ্যে আঁখিকে চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি মারেন। এ ঘটনা দেখে অন্তত ২ শতাধিক মানুষ উপজেলা চত্বরে জড়ো হয়।

এতে উপজেলা চেয়ারম্যান সংযত না হয়ে আঁখির ওপর আরও চড়াও হন। একপর্যায়ে উপস্থিত লোকের সামনে আঁখিকে বিবস্ত্র এবং মানহানি করার হুমকি দেন।

আঁখি যুগান্তরকে বলেন, আমি কয়েক মাস আগে অস্ত্রোপচার করে সন্তান প্রসব করেছি। তাই শারীরিকভাবে আমি এখনও সুস্থ হয়ে উঠতে পারিনি। এমন অবস্থায় তিনি আমার ওপর এভাবে নির্যাতন চালালেন। আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন, যা প্রকাশযোগ্য নয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গলাচিপা উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ পদে থাকা এক ব্যক্তি বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন শাহ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তার তোপের মুখে সবকিছু থোড়াইকেয়ার।

কথায় কথায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাধারণ মানুষকে প্রকাশ্যে চড়-থাপ্পড় লাথি, অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন। এ ঘটনায় একটি মহল স্থানীয় এমপিকে জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি, বরং তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের মাত্রা আরও বেড়েছে।

এ প্রসঙ্গে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. রফিকুল ইসলাম জানান, লোকমুখে ঘটনা শুনেছি। ইউপি চেয়ারম্যান ও তার পরিবারকে নিরাপদে থাকার জন্য বলেছি। তাদের সার্বিক নিরাপত্তা দেয়া হবে। ডিসি ফোনে এ বিষয়টি তাকে নিশ্চিত করেছে বলে জানান ইউএনও।

এ ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন শাহ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মাছ মারা নিয়ে একটু ঝামেলা হয়েছে আর কিছুই নয়।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলা চালান গলাচিপা উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন শাহ। এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে চরমভাবে হুমকির শিকার হন যুগান্তরের পটুয়াখালী প্রতিনিধি।

Bootstrap Image Preview