Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২১ শনিবার, সেপ্টেম্বার ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

প্রেমিকার সঙ্গে নোবেলের 'প্রতারণা'; স্ট্যাটাসটি মারজুক রাসেলের নয়

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০১:৫৮ PM
আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০১:৫৮ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত ছবি


কলকাতার ‘সা রে গা মা পা’ অনুষ্ঠান থেকে আলোচনায় আসেন  মাইনুল আহসান নোবেল। বিভিন্ন শিল্পীর গলাকে নকল করে তাদের জনপ্রিয় সব গান গেয়ে তিনি পরিচিতি পান ও আলোচনায় আসেন। প্রচারণার ডামাঢোলে নোবেলকে নিয়ে মাতামাতির শেষ নেই। কিন্তু আচরণ ও আলাপচারিতায় অপরিপক্কতার প্রমাণ দেয়া নোবেল এরইমধ্যে নানা বিতর্কের জন্ম দিয়ে অনেকের কাছে ‌‌বিরক্তিরও পাত্র।

এরইমধ্যে একটি মেয়ের নামে খোলা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছে বেশকিছু ছবি ও একটি অভিযোগ। সেই অভিযোগে বলা হয়েছে নোবেল প্রেমিকার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। আদতে এ ধরনের অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে এসবের মাঝে দেশীয় সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস। যেখানে নোবেলকে 'অশালীন' আক্রমণ করা হয়েছে।

দেখা গেছে, 'মারজুক রাসেল' নাম দিয়ে খোলা একটি ফেসবুক পেইজ থেকে ওই স্ট্যাটাসটি ১৩ শে আগস্ট পোস্ট করা হয়েছে। এরইমধ্যে স্ট্যাটাসটি ভাইরাল হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও তর্কযুদ্ধের সৃষ্টি হয়েছে। ২৬ হাজার লাইক হয়েছে ওই স্ট্যাটাস, শেয়ার ও মন্তব্য পড়েছে কয়েকহাজার। তবে পোস্টটি মারজুক রাসেলের নয় বলে তিনি জানিয়েছেন।

মারজুক রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, 'আমি কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আক্রমণ করে লিখি না, যারা আমাকে অনুসরণ করেন তারা জানেন। এছাড়াও লেখার যে কোয়ালিটি, আমি পড়েছি- আমার লেখার ধরন আর সেই পোস্টের লেখা প্রচুর অসঙ্গতি রয়েছে।'

পোস্টে লেখা হয়েছে, 'নোবেল এর মত এমন অনেক ছাগল এর আগেও বাংলাদেশে আত্মপ্রকাশ করেছিলো, আজ তাদের একটারও নাম নিশানা নেই। এটাও হারিয়ে যাবে কালের গর্ভে!  কারন? মৌলিকতা আর নিজস্বতা; -যা ওদের মাঝে ছিল না, নোবেল এরও নেই। যশ, খ্যাতি আর পয়সার লোভ মানুষকে ধ্বংস করে।  অ্যামেচার ভোকাল দিয়ে, অন্য শিল্পির কণ্ঠকে নকল করার চেষ্টা করে জনপ্রিয় গানগুলোকে ধর্ষণ করে এই নোবেল যাদের মনে স্থান করে নিয়েছে তাদের জন্য আমার করুনা হয়, তাদের রুচিবোধকে ঘৃণা হয়।' 

মারজুক রাসেল বানানে সচেতন। এই পোস্টে প্রচুর কমন বানান ভুল রয়েছে। 'মতো'  'কারণ' 'শিল্পী' 'করুণা'র মতো বানান ভুল করা হয়েছে। ভুল বানানে কোনো পোস্ট করেন না বলে জানান মারজুক রাসেলের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী। আর এই লেখাটি খুবই পুওর- মন্তব্য করেন তিনি। 

মারজুক রাসেল বলেন, 'আমি নিজেও জানতাম না এতো লাইক সম্বলিত আমার নামে পেইজ রয়েছে। অনেকগুলো আইডিও রয়েছে। এগুলো নিয়ে মাথা ঘামাতাম না। এখন দেখি এগুলো ঠিক করতে হবে। আমার আইডি নিয়েই আমি থাকি, আর একটা পেইজ রয়েছে। যেটার কখনও পরিচর্যা করিনি। এগুলো খেয়াল করতে হবে মনে হচ্ছে।'

নোবেল প্রসঙ্গে মারজুক রাসেল বলেন, 'ওর বিষয়ে তো আমার কোনো বক্তব্য নেই। আমি আর কী বলবো?'

সোশ্যাল মিডিয়ায় যাচাই করে দেখা গেছে, মারজুক রাসেলের নামে বেশকিছু আইডি ও পেইজ খোলা হয়েছে। যেগুলোসবগুলোই ভুয়া। ভক্তদের এসব থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এই কবি, গীতিকার ও অভিনেতা।

এদিকে মারজুক রাসেলের  ২০০৪ সালে লেখা  আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া একটি অপ্রকাশিত গান প্রকাশ হয়েছে সম্প্রতি।  ওই বছর‘ফিসফাসফিস’ নামজের অ্যালবাম আয়োজন করেছিলেন কবি, গীতিকার ও অভিনেতা মারজুক রাসেল। অ্যালবামের সব গানের কথা লিখেছিলেন তিনি। অ্যালবামের শিল্পীরা ছিলেন আইয়ুব বাচ্চু, আসিফ আকবর ও পান্থ কানাই। ১২টি গান দিয়ে সাজানো হয় অ্যালবাম। কিন্তু ‘ভাবসসূত্র’ শীর্ষক আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া গানটি টেকনিক্যাল কারণে প্রকাশ হয়নি তখন। ১৪ বছর পর এ গানটি প্রকাশ হলো ১৬ আগস্ট শিল্পীর জন্মদিনে।

অন্যদিকে নোবেল আলোচনায় রয়েছে 'নগ্ন' ছবি দিয়ে। সম্প্রতি এক কিশোরীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশ হয়েছে ছবিগুলো। সেইসঙ্গে নোবেলকে মাদকসেবী, নারীলোভী আখ্যা দিয়ে ওই কিশোরী আবেগঘন একটি স্ট্যাটাসও দিয়েছেন। যেখানে নোবেলের সঙ্গে তার প্রেম ও শারীরিক সম্পর্কের নামে প্রতারণার অভিযোগ করেছেন তিনি।

অল্প সময়ের মধ্যেই নোবেলকে নিয়ে লেখা স্ট্যাটাস ও নগ্ন ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তে। সেগুলো পোস্ট করে অনেকেই নোবেলের চারিত্রিক দুর্বলতার সমালোচনা করছেন।

এ বিষয়ের সত্যতা জানতে নোবেল ভক্তদের আগ্রহের শেষ নেই! স্ক্যান্ডাল ফাঁস হওয়ার পর থেকেই নোবেল একপ্রকার লোকচক্ষুর আড়ালে হারিয়ে গেছেন। তাহলে কি ধরে নেয়া যায় এ অভিযোগ সত্য? আর যদি সত্য প্রমাণিত হয় তাহলে সেটা হবে নোবেলের ক্যারিয়ারের জন্য একটা বিরাট ধাক্কা।

নোবেলের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী কিশোরীর আবেগঘন স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো...

ওই ছাত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছে, ‘নোবেল, বাংলাদেশের লাখো মেয়ের ভালোবাসা। লাখো ছেলের আইডল। কিন্তু একমাত্র গোপালগঞ্জবাসীরাই চিনে ওর আসল রূপ। আজ আমি আপনাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবো ভোলাভালা চেহারার পিছে লুকিয়ে থাকা এক হিংস্র জানোয়ারের সাথে যাকে আপনারা সবাই নোবেলম্যান নামে চিনেন। আমার মত অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের মিথ্যা প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে ইজ্জত নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার উপর যদি নোবেল থাকতো, তাহলে তা এই সারাগামাপা খ্যাত মাদকাসক্ত নোবেল-ই পেতো। মাদক আর নারীর নেশায় আসক্ত নোবেলকে আজ যখন কোটি মানুষ আইডল মানে, তা দেখে আসলেই দেশের ফিউচার জেনারেশান নিয়ে খুব ভয় হয়। মাদকাসক্ততার কারনে দুইবার রিহ্যাবে গিয়ে মাদকের নেশা থেকে কয়েকদিন দূরে ছিল। কিন্ত নারীর নেশার জন্যতো রিহ্যাব নেই। আর এটি কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে আমার মত শত শত মেয়ের জন্য।

নোবেলের সাথে আমার পরিচয় হয় গতবছরে, যখন আমার বয়স মাত্র ১৫। প্রেম ভালোবাসা এগুলো তত বুঝতামনা। নোবেল আমাকে বুঝতে শিখায় ভালোবাসা কি। বয়স কম থাকার কারনে ওর প্রতিটা ফাঁদে খুব সহজেই পরে যাই। এই ফাঁদে শুধু আমি পরিনি। আমার মত আরো অনেক মেয়েই পরেছে। মেয়েগুলো বেশিরভাগি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিল। কিন্ত নোবেলের বিরুদ্ধে মুখ খুলার সাহস সব মেয়েগুলোর দিন দিন নোবেলের জনপ্রিয়তা বাড়ার সাথে সাথে ক্রমশ কমতে থাকে। আজ আমি কিছুটা সাহস নিয়ে আসলাম। আমি ডিপ্রেশানে চলে গিয়েছি। মাঝে মাঝে নিজের জীবনটা দিয়ে দিতে মন চায়। কিন্ত আত্মহত্যা মহাপাপ বলে তা পারিনা। যদিও আমার আত্মাটা নোবেল আরো আগেই মেরে ফেলেছে।

আপনারা সবাই ভাবছেন নোবেল এগুলো কেমনে করে? আমি যদি বলি ওর এই সকল কুকর্ম ওর বাবা মা ও জানে তাহলে বিশ্বাস করবেন? প্রত্যেকটা মেয়েকে ও ওর বাসায় নিয়ে যায় ফিজিক্যালি ইনভল্ব হওয়ার জন্য। ওর বাবা মার সাথেও পরিচয় করায় বন্ধু হিসেবে। অন্যদিকে মেয়েটাকে আশ্বাস দেয় যে বাবা মার সাথেতো পরিচয় হয়েছেই। বিয়েও করবে মেয়েটাকে। এখনতো সব করা যায়। আমিও এই ফাঁদে পা দিয়েছি। ওর পিপাসা মিটলে ওর ওই বাবা মার সামনেই মেয়েটাকে অপমান করে বের করে দেয়। আর ওর বাবা মা কিছুই বলেনা। তাই ওর এমন হওয়ার পিছে ওর পরিবারো দায়ী!! নোবেলের নিজের একটা বোন আছে। কিভাবে সে অন্যের বোনের জীবন এভাবে ধ্বংস করে আমার জানা নেই। অনেকেই বলবেন ওর নামে কেস করতে। ওর নামে কেস করেও লাভ নেই। পুলিশ ওর বাবার পকেটে থাকে।

সবশেষে বলবো যে আমি জানি এই সমাজ আমাকেই খারাপ বলবে। আমি-ই গালি খাবো নোবেলের ফ্যানদের থেকে। কারণ আমাদের সমাজে সব দোষ মেয়েদেরই হয়। এই পোস্ট দিয়ে নোবেলের কিছুই হবেনা এটাও আমি জানি। কিন্তু যাই হোক না হোক, আমার ভিতরের মৃত আত্মাটার কিছুটা শান্তি হবে এই জানোয়ারটাকে সবার সামনে তুলে ধরতে পারলে। ওর আসল চেহারা বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষের দেখা উচিৎ। ওর মত ছেলে লাখো ছেলের আইডল হোক, এটি মেনে নেওয়া যায়না। শত মেয়ের জীবন নষ্টের কারণ কোন মেয়ের ক্রাশ হতে পারেনা।

ওর ব্যাপারে সর্বশেষ জানলাম যে ঈদের আগের দিনও মাতাল হয়ে গোপালগঞ্জের একজনের উপরে মোটরসাইকেল উঠিয়ে দেয়। তার মানে রিহ্যাবে গিয়েও লাভ হয়নি। ও এখনো মাদক সেবন করে। আর নারীর নেশা কাটানোর জন্যতো রিহ্যাব ও নেই। এই নেশা ওর কাটবেনা!!

আপনাদের বিশ্বাস করানোর জন্য কিছু ছবি দিলাম। ছবিগুলো কিছু ও তুলেছে কিছু আমি আমার আর ওর ছবি, ওর বাসার রুমের ছবি (বিশ্বাস না হলে ওর বাসায় গিয়ে দেখে আসেন), কিউট হয়ে ঘুমিয়ে থাকার ছবিটিও দিলাম।’

Bootstrap Image Preview