Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৮ রবিবার, আগষ্ট ২০১৯ | ৩ ভাদ্র ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

বাংলাদেশের জমি পাওয়ার আশা বাড়ছে: ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০১৯, ০৬:০২ PM
আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০১৯, ০৬:০২ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত


ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব জানিয়েছেন, উত্তর পূর্বাঞ্চল ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশের জমি পাওয়ার আশা বাড়ছে। এটি হবে দুই দেশের যৌথ বিমানবন্দর। এই বিষয়ে উদ্যোগ নেবে দুই দেশের সরকার। আগরতলায় সাংবাদিকদের এই কথা বলেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম কলকাতা 24×7।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনদিকে বাংলাদেশ দিয়ে ঘেরা ত্রিপুরা। এই রাজ্যে বিজেপি ও আইপিএফটি জোট সরকার তৈরির পর আগরতলা বিমানবন্দরের আধুনিকীকরণে জোর দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি আগরতলা বিমানবন্দর সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক মানের করার কাজ নিয়ে জমি সংক্রান্ত বিতর্ক তৈরি হয়। বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য সীমান্ত লাগোয়া বাংলাদেশের জমি প্রয়োজন। সেই জমি মিলবে কিনা তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

বিতর্ক উঠেছে বিমানবন্দর সংলগ্ন বাংলাদেশের জমি নিয়েই। যে জমির প্রয়োজন তা পড়ছে বাংলাদেশে। সেই জেরে জমি জটিলতার ফাঁস শক্ত হয়ে চেপে বসছে। বাংলাদেশ সরকার কি জমি দেবে? দেখা দিচ্ছে এই প্রশ্ন। সবমিলে ভিনদেশি জমির গেরোয় উত্তর পূর্বাঞ্চল ভারতের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ এয়ারপোর্ট।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান নয়াদিল্লি সফর করছেন। ঢাকার সংবাদ মাধ্যমের খবর, আগরতলা বিমানবন্দরের আধুনিকীকরণের জন্য যে বাড়তি জমি সেটা নিয়ে বাংলাদেশ সরকার চিন্তা ভাবনা করছে।

যদিও দেশির প্রাক্তন অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের দাবি, কোনও অবস্থায় এই জমি বিদেশি রাষ্ট্রের হাতে দেওয়া ঠিক নয়।

আগরতলা বিমানবন্দর হল ভারতের সঙ্গে থাকা প্রতিবেশী দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত লাগোয়া একমাত্র এয়ারপোর্ট। বাংলাদেশ বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিবেশী দেশের চাহিদা মতো জমি পড়ছে আখাউড়া উপজেলায়। সেখানকার প্রায় ১ কিলোমিটার পর্যন্ত জমি দরকার আগরতলা বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য। এই জমি মিলবে কিনা সেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তবে বিষয়টি কূটনৈতিক উপায়েই সমাধান হবে বলে মনে করছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী।

ব্রিটিশ শাসিত ভারতে রাজন্য শাসিত ত্রিপুরার রাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুর ১৯৪২ সালে তৈরি করান বিমানবন্দরটি। দেশ ভাগ হতেই এই বিমানবন্দরটি পড়ে গিয়েছিল পূর্ব পাকিস্তানের সীমান্তে। পরে বাংলাদেশ তৈরি হয়। তখন থেকে বাংলাদেশের সীমান্ত রেখার খুব কাছে রয়েছে আগরতলা বিমানবন্দর।

ত্রিপুরায় বাম জমানার শেষে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি ও আইপিএফটি জোট সরকার। ২০১৮ সালে নতুন নামকরণ করা হয় মহারাজ বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুর বিমানবন্দর।

সেই সঙ্গে শুরু হয় এই এয়ারপোর্টকে আন্তর্জাতিক মান দেওয়ার উদ্যোগ। এরপরেই ভারত ও বাংলাদেশের তরফে হয় বৈঠক। এই বৈঠকে আগরতলা বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশের কাছে জমি চেয়ে প্রস্তাব করা হয়। কোন পদ্ধতিতে এই জমি নেওয়া সম্ভব তা নিয়েই জটিলতা।

জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে তত্কালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ঢাকা সফরে গিয়ে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিলেন। আর বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে উদ্ধৃত করে ঢাকার সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে, জটিল এই জমি নেওয়ার পদ্ধতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কিছু মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা জরুরি।

Bootstrap Image Preview