Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ শনিবার, অক্টোবার ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

৩০ বছর পর পরিচালনায় ফিরলেন সি.বি. জামান

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট ২০১৯, ০১:৪৮ PM
আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০১৯, ০১:৪৮ PM

bdmorning Image Preview


গত রবিবার (৪ আগষ্ট) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনাড়ম্বর পরিবেশে প্রযোজনা-পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান ‌'এসএইচকে গ্লোবাল' এর ’এডভোকেট সুরাজ’ চলচ্চিত্রের পরিচালক হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পর চলচ্চিত্র পরিচালনায় ফিরলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তী পরিচালক সি.বি. জামান।

চুক্তিপত্রটিতে স্বাক্ষর করেন স্বনামধন্য পরিচালক সি.বি. জামান এবং এসএইচকে গ্লোবাল এর চেয়ারম্যান শামস হাসান কাদির। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন এসএইচকে গ্লোবাল এর সিইও ইমদাদুল ইসলাম (যিকরান), স্বনামধন্য পরিচালক শিল্পী বিশ্বাস এবং সি.বি. জামান এর ছেলে সি.এফ. জামান (চৌধুরী ফরহাদুজ্জামান)।

এ বিষয়ে পরিচালক সি.বি. জামান বলেন, ‘আমার মুক্তিপ্রাপ্ত সর্বশেষ ছবি কুসুম কলি, যেটা ১৯৯০ সালে মুক্তি পেয়েছে। এরপর অনেক প্রযোজকই আমার কাছে এসেছে ছবি বানানোর জন্য তবে সেগুলির গল্প এবং প্ল্যান আমার পছন্দ না হওয়ার কারণে এতদিন ছবি পরিচালনা করিনি। এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটির প্ল্যান এবং ''এডভোকেট সুরাজ'' চলচ্চিত্রের গল্প আমার কাছে ভালো লাগায় আবারও ৩০ বছর পর পরিচালনা শুরু করলাম।‘

এ প্রসঙ্গে এসএইচকে গ্লোবাল এর চেয়ারম্যান শামস হাসান কাদির বলেন, ‘আমাদের দেশের কালচার হচ্ছে, আমরা গুণীজনদের সম্মান দেই উনারা আমাদের কাছ থেকে চলে যাওয়ার পর। অথচ উনারা আমাদের মাঝে থাকা অবস্থায়ই উনাদেরকে সম্মান জানানোটা আমাদের উচিত। সেই ধারা চালু করারই প্রথম প্রয়াস আমাদের জীবন্ত কিংবদন্তী সি.বি. জামান স্যারকে আমাদের ''এডভোকেট সুরাজ'' চলচ্চিত্রের পরিচালক হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা।‘

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা শুধু উনাকেই না বাংলাদেশের সিনিয়র পরিচালক, শিল্পী-কলাকুশলীদের একটা লিস্ট করেছি, ধারাবাহিকভাবে উনাদেরকে নিয়ে একসাথে কাজ করবো।‘

উল্লেখ্য, পরিচালক সি.বি. জামান নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেন ১৯৬৬ সালে লাহোর ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে এ্যাসিস্টেন্ট ডিরেক্টর হিসেবে। ১৯৭৩ সাল হতে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সরাসরি চলচ্চিত্র পরিচালনার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। এ সময়ে তিনি নির্মাণ করেন একে একে ঝড়ের পাখি (১৯৭৩), উজান ভাটি (১৯৮২), পুরস্কার (১৯৮৩), শুভরাত্রি (১৯৮৫), হাসি (১৯৮৬), লাল গোলাপ (১৯৮৯) ও কুসুম কলি'র (১৯৯০) মতো কালজয়ী চলচ্চিত্র।

ব্যবসায়িক সফলতার পাশাপাশি ‘পুরস্কার’ ছবিটি ১৯৮৬ সালে ৯টি ক্যাটাগরির ভেতরে ৬টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও শুভরাত্রি বাচসাস পুরস্কারে ভূষিত হয়। জাতীয় পুরস্কার পাবার পাশাপাশি ‘পুরস্কার’ চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিকভাবে ভারতের 'গোয়া ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল', 'দিল্লি ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল' ও রাশিয়ার 'তাশখান্দ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে' প্রদর্শিত ও প্রশংসিত হয়। শুধু তাই না, সেইসাথে প্রথম বাংলা চলচ্চিত্র হিসেবে জাপানের 'এনএইচকে টিভি' পুরস্কারের কপিরাইট কিনে নেয় এবং নিজেদের দেশে তা প্রদর্শিত করে।

এছাড়াও তৎকালীন সময়ে তাঁর সহকারীদের মধ্য থেকে বেশ কয়েকজন পরবর্তীতে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে সফলতার সাথে নিজেদের নাম উজ্জ্বল করেন যার মধ্যে হানিফ আকন দুলাল, সালাহ্‌উদ্দীন লাভলু, শিল্পী চক্রবর্তী ও জাকির হোসেন রাজু অন্যতম।

এছাড়াও তিনি বেশ কয়েকটি স্বল্প দৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন, যার মধ্যে ডিএফপি'র 'নুরুর সমস্যা' প্রামান্যচিত্রটিতে প্রথমবারের মতো তিনি ক্যামেরার সামনে আনেন আজিজুল হাকিম ও সালাহ্‌উদ্দীন লাভলু'র মতো অভিনেতাদের। তিনি কাজ করেছেন অনেকের সাথেই কিন্তু তাঁদের মধ্যে খান আতাউর রহমান ছিলেন এমন একজন মানুষ যাকে তিনি নিজের গুরু ও সবচাইতে কাছের বন্ধু হিসেবে ভাবেন। 'নবাব সিরাজউদ্দৌলা' থেকে শুরু করে 'এখনো অনেক রাত' পর্যন্ত খান আতা'র প্রায় সব ছবিতেই তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। শুধু তাই না, তিনি ও খান আতাউর রহমান তাহের চৌধুরীকে সাথে নিয়ে গড়ে তোলেন 'প্রমোদকার' চলচ্চিত্র গোষ্ঠী। এই প্রমোদকার নামেই তাঁরা একত্রে পরিচালনা করেন বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ৪ চলচ্চিত্র; 'ত্রিরত্ন' (১৯৭৪), 'সুজন সখী' (১৯৭৫), 'দিন যায় কথা থাকে' (১৯৭৯) ও 'হিসাব-নিকাশ' (১৯৮২)।

Bootstrap Image Preview