Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৫ রবিবার, ডিসেম্বার ২০১৯ | ১ পৌষ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

মেয়র একথা কীভাবে বলেন, প্রশ্ন হাইকোর্টের

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ জুলাই ২০১৯, ০৯:৩২ PM
আপডেট: ১৭ জুলাই ২০১৯, ০৯:৩২ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত ছবি


ঢাকা শহরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণে দুই সিটি করপোরেশনের পদক্ষেপে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন আদালত। 

আদালত বলেছেন, ‘মশার জন্য আমরা পদক্ষেপ নিতে বলেছিলাম, নেননি। আমরা কথা বললে তো বলেন বড় বড় কথা বলছি।

গণমাধ্যমে রিপোর্ট এসেছে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে শিশুসহ ২১ থেকে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে কয়েক হাজার। এ পরিস্থিতিতে একজন মেয়র বলেন এখন পর্যন্ত কিছুই হয়নি। আমাদের প্রশ্ন, উনি এ কথা কীভাবে বলেন। আমরা তো দেখতি পাচ্ছি এটা মহামারি আকারে রূপ নিতে বাকি নেই। আচরণ চেঞ্জ করেন।

ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণে দুই সিটি করপোরেশন কী কী পদপে নিয়েছে সে সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ওপর শুনানিকালে আজ বুধবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব মন্তব্য করেন।

শুনানি শেষে ডেঙ্গুর জীবানুবাহী এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ বা নিধনে অকার্যকর ওষুধ আমদানি, সরবরাহ ও কেনায় দুর্নীতিতে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে কার্যকর ওষুধ আমদানি করে তা ছিটানোর ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে এক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা নিতে বলা হয়েছে আদেশে। আগামী ২০ অগাস্ট এই আদেশর অগ্রগতি প্রতিবেদন দুই সিটি করপোরেশনকে আদালতে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। ওই দিন এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হবে।

গত ২ জুলাই হাইকোর্ট ঢাকা শহরে ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে ঢাকার দুই সিটি (উত্তর ও দক্ষিণ) করপোরেশনের মেয়র ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রতি আদেশ দেন। রাজধানীতে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের দাবিতে করা এক রিট আবেদনের শুনানিকালে ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণের ওই আদেশ দেওয়া হয়।

সে অনুযায়ী আজ সিটি করপোরেশনের আইনজীবী নুরুন্নাহার নুপুর আদালতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, সিটি করপোরেশন প্রতিদিন ওয়ার্ডভিত্তিক মশা নিধনের ওষুধ ছিটাচ্ছে। মশা নিধনে সিটি করপোরেশন যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে।

এ পর্যায়ে এডিস মশা নির্মূলে সিটি করপোরেশনের ক্রয়কৃত ওষুধের মান নিয়ে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদনের বিষয়টি আদালতের কাছে উপস্থাপন করেন রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে প্রতি বছর ২০ থেকে ২২ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকছে অথচ ওষুধে কাজ হচ্ছে না।’ এ সময় হাইকোর্ট বলেন, ‘যদি ওষুধে মশা নিধন না হয় তাহলে তা ক্রয় করা হলো কেন? তাহলে ওষুধ ক্রয়ে দুর্নীতি হয়েছে। সেক্ষেত্রে কি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? তদন্ত করে বের করতে হবে কারা দায়ী এ ধরনের ওষুধ ক্রয়ের জন্য।’ তবে এ বিষয়ে কোনো জবাব দিতে পারেননি আদালতে উপস্থিত দুই সিটি করপোরেশনের আইনজীবী নুরুন্নাহান নূপুর।

আদালত বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আমরা বলে আসছি মশা নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ নিন। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেননি। তখন থেকে ব্যবস্থা নিলে আজ এমনটা হত না। আপনারা এফিডেভিট দিয়ে বলছেন সারা বছরই মশার ওষুধ ছিটান। আমাদের প্রশ্ন কোথায় ছিটান, কে ছিটায় সেটা কেউ জানে না। অথচ জনগণ কর দিচ্ছে কিন্তু কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছে না।

আদালত বলেন, ‘এই মশার উপদ্রব চলবে তো সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, সে পর্যন্ত তো অনেক লোক আক্রান্ত হবে। মশা নির্মূলে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ মানুষ তো মারা যাচ্ছে। ছোটো-ছোটো বাচ্চারা আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিদিন খবরে দেখছি, মানুষ মারা যাচ্ছে। যার সন্তান মারা গেছে সেই বোঝে কষ্টটা কী।

এ সময় সিটি করপোরেশনের আইনজীবী নুরুন্নাহার নূপুর বলেন, ‘এগুলো দেখলে-পড়লে খারাপ লাগে।’ তখন বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের বলেন, ‘দুনীতিবাজদের খারাপ লাগে না। কারণ তারা বাড়িঘর দেশের বাইরে করে। তাদের ছেলে-মেয়েরা দেশের বইরে থাকে, ওইখানে পড়ালেখা করে। জরুরি ব্যবস্থা করেন।

মশা মারার ওষুধে যদি কাজ না হয় তার মানে অকার্যকর ওষুধ কেনা হয়েছে। ওখানে দুর্নীতি হয়েছে! দুর্নীতি হয়ে থাকলে কারা কারা এর জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। আর কার্যকর ওষুধ না থাকলে তা আনার ব্যবস্থা করেন।

রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘সরকারি ক্রয় নীতি মেনে ওষুধ ক্রয় করতে গেলে অনেক সময় দরকার। তাই আদালতের নির্দেশনা দেওয়া দরকার জরুরি ভিত্তিতে যাতে কার্যকর ওষুধ ক্রয় করে মশা নির্মূলে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্ট উপরোক্ত আদেশ দেন।’

  
 

Bootstrap Image Preview