Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৮ রবিবার, আগষ্ট ২০১৯ | ৩ ভাদ্র ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

মিন্নির ঘনিষ্ঠজনদের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ জুলাই ২০১৯, ০৮:০৬ PM
আপডেট: ১৭ জুলাই ২০১৯, ০৮:০৬ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত


বরগুনায় প্রকাশ্যে রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রেপ্তার তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার বিকাল সোয়া তিনটার দিকে মিন্নিকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চান এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মো. হুমায়ুন।

পরে শুনানি শেষে মিন্নির পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী।

আদালতে আসামি পক্ষে আইনজীবী ছিলেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাসির, জিয়া উদ্দিন ও মোস্তফা কাদের।

এর আগে মঙ্গলবার দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর মিন্নিকে গ্রেপ্তার দেখায় বরগুনা জেলা পুলিশ। রাত সাড়ে নয়টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা জানান বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন।

তিনি জানান, সকাল সাড়ে নয়টার পর তার বাসা থেকে পুলিশ মিন্নিকে নিয়ে আসে। দিনভর জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত হত্যায় তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এদিকে রিফাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির ঘনিষ্ঠজনদের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা।

ঘনিষ্ঠজন ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, স্বামী রিফাত শরীফকে ‘শিক্ষা’ দিতে চেয়েছিল স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। কারণ সে নয়ন বন্ডের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। এ জন্য রিফাতকে একটু ‘টাইট’ (শাস্তি) দিতে নয়ন বন্ডকে দায়িত্ব দিয়েছিলো মিন্নি। সে অনুযায়ী সাজানো হয়েছিলো ছক।

সূত্র বলছে, ঘটনার দিন ছক অনুযায়ী কলেজ গেইটে কালক্ষেপণ করে মিন্নি। তবে রিফাতকে ‘টাইট’ দেওয়া যে হত্যায় রুপ নিবে তা মিন্নির ধারণায়ও ছিল না। সেজন্যেই ঘটনার দিন যখন রিফাতকে নয়ন বন্ডের গ্যাংরা টেনে হেচড়ে নিয়ে যায়, তখন মিন্নিকে নির্লিপ্তভাবে হাটতে দেখা যায়। ভেবেছিলেন নয়ন বন্ডরা তাকে সামান্য শিক্ষা দিয়ে ছেড়ে দেবে। কিন্তু মারধরের এক পর্যায়ে হঠাৎ যখন নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী যখন চাপাতি দিয়ে অতর্কিতভাবে রিফাতকে কোপাতে থাকে, তখনই মিন্নি ঝাপটে ধরে রিফাতকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। সে চেষ্টায় ব্যর্থ হয় মিন্নি।

গোয়েন্দা সূত্র আরও জানায়, ঘটনার আগের দিন রাতে নয়নের সাথে মিন্নির প্রায় ১৫ মিনিট কথা হয়। সেই সূত্র ধরেই মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) মিন্নিকে বরগুনা সদরের নিজ বাড়ি থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়। প্রায় ১৪ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা সাতজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

এ মামলায় মিন্নিসহ এ পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ২ জুলাই ভোরে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। এখন পর্যন্ত এজাহারভুক্ত তিনজনসহ সাত আসামি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনায় বর্তমানে ছয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

Bootstrap Image Preview