Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৬ মঙ্গলবার, জুলাই ২০১৯ | ১ শ্রাবণ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

কর্মী ছাঁটাইয়ের পর এবার ‘বিক্রি’ হচ্ছে পাঠাও!

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০১৯, ০৯:৪৭ PM
আপডেট: ২৭ জুন ২০১৯, ০৯:৪৭ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত ছবি


সম্প্রতি ‘অদক্ষতা’ ও ‘অযোগ্যতার’ অভিযোগ তুলে ৩০০ কর্মীকে ছাঁটাই করার পর এবার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে বিক্রি হয়ে যেতে পারে পাঠাও। এছাড়াও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) পদ থেকেও সরে যেতে হতে পারে বর্তমান সিইও এবং পাঠাও এর অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা হুসাইন এম ইলিয়াসকে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) পাঠাও কর্মীদের উপর বিভিন্ন অভিযোগ তুলে প্রায় ৩০০ কর্মীকে তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে পাঠাও কর্তৃপক্ষ। আর এর পরই নতুন করে গুঞ্জন উঠেছে তহবিল সংকটের কারণে এবার বিক্রি হয়ে যেতে পারে এশিয়ার অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল এই টেক স্টার্টঅ্যাপটি।

বেশ কয়েকটি সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, মাঝারি থেকে উচ্চ পর্যায়ের অন্তত ৩০০ কর্মীকে ছাঁটাই করেছে তারা। চাকরিচ্যুতদের মধ্যে পাঠাওয়ের ফুড অ্যান্ড রাইড কোর সার্ভিসের প্রধানও রয়েছেন।

এছাড়াও চট্টগ্রাম ও সিলেটের জ্যেষ্ঠ নির্বাহীদেরও পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা এমন তথ্য জানিয়েছেন।

অপরদিকে, পাঠাওয়ের অর্থবিভাগ বলছে, বিনিয়োগকারীরা সরে যাওয়ায় মাত্র কয়েকটি মাস চলার মতো তহবিল আছে তাদের। এতে এই চাকরিচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়াও দায়িত্বশীল সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে পাঠাওয়ের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা ১০ কোটি মার্কিন ডলার তোলার চেষ্টা করেও প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। ফলে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় বর্তমান বিনিয়োগকারীরা প্রধান নির্বাহী হুসেইন এম ইলিয়াসসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নির্বাহীকে পদত্যাগ করতে বলেছেন। কিন্তু হুসেইন এম ইলিয়াস পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেছেন। বছর তিনেক আগে ২০১৫ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া জনপ্রিয় এই রাইড-শেয়ারিং ব্যবসার সহপ্রতিষ্ঠাতা হলেন তিনি।

এ বিষয়ে পাঠাওয়ের মধ্যম পর্যায়ের সদ্য সাবেক এক কর্মকর্তা বলেন, পাঠাওয়ের সঙ্গে সিইও স্যারের চুক্তির মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে আসছে। প্রায় চার বছর যাবত তিনি এই পদে আছেন। এরইমধ্যে অর্থাভাব ও নতুন বিনিয়োগ না থাকার মতো বিষয় দেখা দিয়েছে। তিনি চাইছেন কর্মী ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে কোম্পানির ব্যয় কম দেখিয়ে ভ্যালুয়েশন বাড়ানোর। যেন তিনি পাঠাওকে কোনো বিনিয়োগকারীর কাছে বিক্রি করতে পারেন। বিক্রি করে দিলে আর চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে হয় তিনি সিইও পদ হারাবেন নয়তো নিজেও পদত্যাগ করতে পারেন।

এছাড়াও কর্মীদের হঠাৎ বরখাস্ত করার বিষয়ে বরখাস্ত হওয়া এক কর্মী জানান, মঙ্গলবার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের সব ধরনের সরঞ্জাম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যেসব কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হবে বুধবার তাদের লাইনও বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে এবং বরখাস্তের চিঠি হস্তান্তরের পর কর্মীদের দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে বলা হয়।

এ বিষয়ে বুধবার বিকালে একটি জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে পাঠাও বলেছে, তারা ব্যবসায়িক বিকাশের নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে কিছু কৌশলগত নীতি অবলম্বন করছে।

এতে তাদের ব্যবসার মূল শাখাগুলো আরও শক্তিশালী হয়ে দক্ষতা বাড়াবে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যয় বৃদ্ধি রোধে সহায়তা করবে বলে পাঠাও কর্তৃপক্ষ আশা করছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পরিবর্তনের এই প্রভাব পাঠাও এর সাংগঠনিক অবকাঠামোসহ এর ব্যবসার সর্বস্তরে মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর ঘটাবে।

অপরদিকে বিভিন্ন ঘটন অঘটনের পর পাঠাওয়ের জনপ্রিয়তা এবং দৈনিক রাইড সংখ্যাও আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে ইদানীং।

পদত্যাগে বাধ্য হওয়া এক জ্যেষ্ঠ নির্বাহী এ বিষয়ে বলেন, পাঠাওয়ের দৈনিক রাইড সংখ্যা কমে ২০ হাজারে নেমে এসেছে। কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটি হচ্ছে বিধি না মানা। জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার এটি অন্যতম কারণ।

প্রসঙ্গত, রাজধানীতে মোটরসাইকেল ও ট্যাক্সিসেবা দিয়ে শুরু হয় পাঠাওয়ের যাত্রা। প্রথমেই ভালো চমক দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এরপর বছর দুয়েকের মাথায় ইন্দোনেশীয় রাইড-শেয়ারিং কোম্পানি জিও-জেইকে থেকে বড় ধরনের অর্থ পেয়েছে তারা। যেটা পরিমাণ অবশ্য প্রকাশ করা হয়নি। পরবর্তীতে অলটার গ্লোবাল ও ওপেনস্পেস এতে জড়িয়ে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত সমস্যা দূর করতে ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে বাইক সার্ভিস ছাড়াও কার সার্ভিস, কুরিয়ার সার্ভিস ও ফুড পার্সেল সার্ভিস রয়েছে পাঠাওয়ের। গত বছর নেপালেও ব্যবসা শুরু করেছে পাঠাও।

পাঠাওয়ের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট জানিয়েছে, বিদেশি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশে সেবা দিচ্ছে পাঠাও লিমিটেড। ইতিমধ্যে তারা পাঁচ কোটি ট্রিপ দিয়েছে। আর ৫০ লাখ বার তাদের অ্যাপ ডাউনলোড করা হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় এক পর্যায়ে গত বছর ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট-এই তিন শহরে পাঠাওয়ের রাইড নম্বর একদিনে তিন লাখ ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু উবার ঢাকায় মোটরসাইকেল সেবা দেয়া শুরুর পর এটির জনপ্রিয়তা কমে গেছে।

Bootstrap Image Preview