Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ০৭ শনিবার, ডিসেম্বার ২০১৯ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

বোরোতে লোকসান হওয়ায় আউশ আবাদ করছেন না কৃষকরা

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০১৯, ০৮:৫৮ PM
আপডেট: ১৮ জুন ২০১৯, ০৮:৫৮ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত ছবি


নওগাঁর রাণীনগরে ইরি বা বোরো ধানের ন্যায্য দর না পেয়ে লোকসান হওয়ায় এবার চলতি মৌসুমে আউশ (বর্ষালী) ধানের আবাদ সর্বনিন্মে নেমে গেছে। বীজতলা প্রস্তুত থাকলেও ধান রোপণ করছেন না কৃষকরা।

রাণীনগর উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের আউশ (বর্ষালী) মৌসুমে এ উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার ২শ’ ৮০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ করা হয়েছিল। ওই মৌসুমে ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিকটন নির্ধারণ করা হলেও তা অতিক্রম করে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হয়। কিন্তু এ মৌসুমে আউশ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার হেক্টর নির্ধারণ করা হলেও এখন পর্যন্ত ২শ’ হেক্টর জমিতেও ধান রোপণ করা হয়নি। এলাকায় বীজতলা প্রস্তুত থাকলেও ধান রোপণ করছেন না কৃষকরা।

স্থানীয় ও কৃষকরা বলেছেন, গরু-ছাগল বিক্রি করে, সমিতি বা এনজিও থেকে ঋন নিয়ে রোদ বৃষ্টিতে হার ভাঙ্গা পরিশ্রম করে ধান উৎপাদন করতে হয়। এক বিঘা জমিতে ধান উৎপাদন করতে হাল চাষ থেকে শুরু করে লাগানো, সেচ দেয়া, কিটনাশক প্রয়োগ, ধান কাটা এবং মাড়াইসহ যে পরিমান খরচ হয় সে তুলনায় বিক্রি করতে গেলে লাভ না হয়ে বরং হাজার হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

এছাড়াও কৃষকদের মতে, গত রোপা-আমন মৌসুম থেকে লোকসানের কবলে পরেছেন তারা। কখনো ধানে রোগবালাইয়ের কারনে ফলন কম আবার কখনো দরপতনসহ বিভিন্ন কারনে লাগাতার লোকসান হচ্ছে ধান চাষ করে। তাই এবার প্রায় ৭৫-৮০% কৃষকরা আউশ (বর্ষালী) ধানের আবাদ করছেন না।

আউশ ধানের অঞ্চলখ্যাত উপজেলার কালীগ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান, বড়িয়া পাড়ার দুলাল মৃধা, সিলমাদার গ্রামের মুনছুর রহমান ও হরিপুর গ্রামের নিশি চন্দ্র জানান, গত আউশ মৌসুমে জমিতে ধান রোপণ করে ফলন একটু কম হলেও দাম ভাল পাওয়ায় বেশ লাভ হয়েছিল। কিন্তু এবার ইরি আবাদের ধান বিক্রি করতে প্রতি মণ ধানে সরকারের নির্ধারিত দামের চাইতে আড়াইশ থেকে সাড়ে তিনশ টাকা কম দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে বিঘাপ্রতি সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে।

এছাড়াও তারা দাবি করছেন, যেখানে ইরি ধানেরই দর পাওয়া যাচ্ছেনা সেখানে আউশ ধানের দর পেয়ে লাভবান হতে হওয়ার নিশ্চয়তা কে দেবে? তাই ভালো দামের অনিশ্চয়তার কারণে চলতি মৌসুমে আউশ ধান আবাদ করছেন না কৃষকরা।

এ বিষয়ে রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ২০১৮ সালের আউশ মৌসুমে প্রায় ৩২শ’ ৮০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছিল। এবার চার হাজার হেক্টর জমিতে ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। যদিও আমরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে আউশ আবাদ করতে কৃষকদের নানা ভাবে উদ্বুদ্ধ করছি তার পরও খুব বেশি সাড়া মিলছেনা।

Bootstrap Image Preview