Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৭ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বার ২০১৯ | ২ আশ্বিন ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

বেল্ট খুলতে বললেন নিরাপত্তাকর্মী, প্যান্ট খুলে দিলেন কেবিন ক্রু

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০১৯, ০৬:০৬ PM
আপডেট: ১৩ জুন ২০১৯, ০৬:০৬ PM

bdmorning Image Preview


বেসরকারি এয়ারলাইনস ইউএস-বাংলার একজন নবীন কেবিন ক্রু নিরাপত্তা তল্লাশির সময় বেল্ট খুলতে বলায় জামা-প্যান্ট দুটোই খুলে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে এ ঘটনা ঘটে। তবে ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ বলছে, ঘটনাটি নিছক ভুল-বোঝাবুঝি।

বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেলা ১১টার দিকে নিরাপত্তাকর্মীরা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রু শাহফিকুর রহমানকে বেল্ট খুলতে বলেন। এ সময় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে জামা-প্যান্টই খুলে ফেলেন। নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণও করেন। পরে তাকে বিমানবন্দরের এভিয়েশন সিকিউরিটির সদস্যদের হেফাজতে নেওয়া হয়। শেষমেশ মুচলেকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেয় ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের জানান, ওই কেবিন ক্রুর প্যান্টের ভেতর আরেকটি থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট ছিল। আর্চওয়েতে বেল্ট খোলার পরও ধাতব বস্তু থাকার শব্দ হচ্ছিল। তখন আনসার সদস্যদের তিনি জানান, থ্রি কোয়ার্টার প্যান্টের বাটনের কারণে শব্দ হতে পারে। তখন আনসার সদস্যরা তাকে প্যান্ট খুলে থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট দেখাতে বলেন। এ কারণেই তিনি প্যান্ট খুলে দেখিয়েছেন। মামুন বলেন, আনসার সদস্যদের আচরণে আমাদের কেবিন ক্রু বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন, তখন রাগ দেখিয়ে তিনি কিছু কথা বলেন। পরবর্তী সময়ে আমাদের প্রতিনিধি ও এভসেকের প্রতিনিধিরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তারা এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, কেবিন ক্রুদের প্রবেশে আলাদাভাবে অনুমতি লাগে না। তাদের পোশাক ও আইডি কার্ড সঙ্গে থাকলেই হয়। আগে কখনো অনুমতির প্রয়োজন হয়নি।

এয়ারপোর্ট আর্মড ব্যাটালিয়ন পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কেবিন ক্রুদের প্রশিক্ষণের জন্য বিমানবন্দরে নিয়ে আসে ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ। ১৯ জন কেবিন ক্রু প্রথমে যথাযথ নিরাপত্তা তল্লাশি ছাড়াই প্রি-বোর্ডিং চেকিং গেট অতিক্রম করেন। নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের ডেকে পুনরায় তল্লাশির মাধ্যমে ভেতরে প্রবেশের অনুরোধ জানান। তবে কেবিন ক্রুরা বিমানবন্দরে প্রবেশের কোনো অনুমোদিত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা বিমানবন্দরের পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। একই সঙ্গে তাদের ওই স্থান থেকে সরিয়ে দেন।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, নিরাপত্তা তল্লাশিতে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, কোট, ঘড়ি, জুতা খুলে এক্স-রে মেশিনে স্ক্রিনিংয়ের জন্য ট্রেতে রাখার নিয়ম। কেবিন ক্রু শাহফিকুর রহমান সবকিছুই রাখেন। তাকে কোমরের বেল্ট খুলে ট্রেতে রাখতে বলা হয়। তখনই ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি জামা ও প্যান্ট খুলে ফেলেন। এতে হতবাক হয়ে যান নিরাপত্তাকর্মী ও যাত্রীরা। পরে এভসেক সদস্যরা তাকে ভেতরে ঢুকতে না দিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে নেন। এ সময় তিনি এভসেক সদস্যদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করতে থাকেন। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে এভসেক কন্ট্রোল রুমে নেওয়া হয়। ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে তারা এসে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে নাÑএমন মুচলেকা দিয়ে তাকে নিয়ে যায়।

Bootstrap Image Preview