Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৩ সোমবার, সেপ্টেম্বার ২০১৯ | ৮ আশ্বিন ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

অসুস্থ অর্থমন্ত্রী, বাজেট পেশ করছেন প্রধানমন্ত্রী

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০১৯, ০৪:৪৪ PM
আপডেট: ১৩ জুন ২০১৯, ০৪:৪৪ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত


অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অসুস্থ থাকায় তার পক্ষে জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পেশ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার কিছু সময় পর ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন শুরু করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাজেট বক্তৃতার শুরুর পর বারবার থেমে যাচ্ছিলেন অর্থমন্ত্রী।একপর্যায়ে ওষুধ খাওয়ার জন্য স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে ৫ মিনিট সময় চেয়ে নেন তিনি।স্পিকার সময় মঞ্জুর করেন। পরে অর্থমন্ত্রী জানান আজ বাজেট বক্তৃতা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এরপর বিকাল ৪টা থেকে বাজেটের বাকি অংশ উপস্থাপন শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। শুরুতে দাঁড়িয়ে বাজেট বক্তৃতা শুরু করলেও পরে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে অসুস্থ অর্থমন্ত্রী নিজ আসনে বসে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পেশ করছেন।

এটি স্বাধীন বাংলাদেশের ৪৮তম এবং বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট। অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল তার প্রথম বাজেটে খরচের যে হিসাব ধরেছেন, তা বাংলাদেশের মোট জিডিপির ১৮.১ শতাংশের সমান।

এবার সোয়া পাঁচ লাখ কোটি টাকার বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হচ্ছে দুই লাখ ১১ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা। যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত উন্নয়ন বাজেটের প্রায় ২২ শতাংশ বেশি।

এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার দুই লাখ দুই হাজার ৭২১ কোটি টাকা। এরই মধ্যে এডিপি অনুমোদন করা হয়েছে।

এবার পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ১০ হাজার ২৬২ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত অনুন্নয়ন বাজেটের চেয়ে ১৬ শতাংশের বেশি।

এর মধ্যে ৬০ হাজার ১০৯ কোটি টাকা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধেই যাবে। যা মোট অনুন্নয়ন ব্যয়ের ১৯ শতাংশের বেশি।

কামাল আশা করছেন, নতুন অর্থবছরের সম্ভাব্য ব্যয়ের ৭২ শতাংশ তিনি রাজস্ব খাত থেকে পাবেন।

তার প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব খাতে আয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এই অংক বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ১৯ শতাংশের বেশি।

তার আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ওই প্রস্তাবে সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এতে আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ২ শতাংশ হবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছে। চলতি রাজস্ব বছরের প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করেই এমনটা ধরা হয়েছে।।

জানা গেছে, সমাজে বৈষম্য কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। ফলে বয়স্ক ভাতার সম্প্রসারণ করেছেন তিনি। চলতি অর্থবছরে ৪০ লাখ সুবিধাভোগী ছিলেন এ খাতে। আগামী অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৪৪ লাখে উন্নীত করার ঘোষণা দেবেন অর্থমন্ত্রী। চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ আছে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা করা হচ্ছে।

বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতাভোগীর সংখ্যা ১৪ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১৭ লাখে উন্নীত করা হচ্ছে। বরাদ্দ ৮৪০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০ কোটিতে উন্নীত করা হচ্ছে। অন্যদিকে আগামী বাজেটে বেকারদের জন্য প্রথমবারের মতো ‘উদ্যোক্তা তহবিল’ গঠন করা হচ্ছে। এই তহবিল গঠনের উদ্দেশ্য হলো নতুন উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এ ছাড়া রপ্তানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে আগামী বাজেটে বিশেষ উদ্যোগ থাকছে।

এ ছাড়া তৈরি পোশাকপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে যেভাবে প্রণোদনা পেয়ে আসছে, আরও কয়েকটি পণ্যের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এদিকে পুঁজিবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ ঋণ ব্যবস্থার প্রস্তাব থাকবে।

Bootstrap Image Preview