Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৩ সোমবার, সেপ্টেম্বার ২০১৯ | ৮ আশ্বিন ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ দমনে জনপ্রতিনিধিদের সহযোগীতা চাই : ডিএমপি কমিশনার

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০১৯, ০২:৫৬ PM
আপডেট: ১৩ জুন ২০১৯, ০২:৫৬ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত


সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদেরও সহযোগীতা চাই। আজ ১৩ জুন দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনের মিলনায়তনে 'সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধিদের করণীয়' শীর্ষক দিনব্যাপী সেমিনারে বিশেষ অথিতি হিসেবে উপস্থিত হয়ে একথা বলেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

এসময় তিনি আরো বলেন তাদের সহযোগীতা পেলে এ সমস্যা একেবারেই নির্মূল হয়ে যাবে। উক্ত সেমিনারে প্রধান অথিতি ছিলেন ডিএসসিসির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, হলিআটিজানের ঘটনার পরে মহানগরে কোনো অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ কৃতিত্বের দাবিদার শুধু পুলিশ নয়। নগরীর জনগনও এ কৃতিত্বের দাবিদার। একটি সুখি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মানের শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে জনগন যেভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগীতা করছে সেভাবে যদি জনপ্রতিনিধিরাও সহযোগীতা করে তাহলে জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাসবাদ থাকবে না এদেশে। তাই এজন্য জনপ্রতিনিধিদের অবশ্যই জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জনগনকে বলতে চাই, আপনারা ভয় পাবেন না। জঙ্গিবাদের কোনো ভয়-ভীতি বা হুমকিতে। কারণ আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। আমরা সবসময় বলি ভীত হওয়ার কোনো। জঙ্গীরা মাথা ছাড়া দিয়ে উঠার কোনো সুযোগ নেই। তাই ভয় পাওয়ার কারণ নেই। তবে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ অপশক্তি রোধে আমাদের সচেষ্ট থাকতে হবে। উগ্রবাদ প্রতিরোধে আমাদের এক দশক সময় লেগেছিল। তাই জঙ্গিবাদ প্রতিরোধেও জনপ্রতিনিধিদদেরতে সচেতন হতে হবে। এজন্য আমরা বিট পুলিশিংসহ প্রত্যেক থানাকে কেন্দ্র করে তিনশতাধিক পুলিশিং কমিউনিটি ফোরাম গঠন করেছি। মাদক, ইভটিজিং, অজ্ঞানপার্টিসহ সকল অপকর্ম প্রতিরোধে আমরা জনপ্রতিনিধিদের সহযোগীতা চাই।

পাড়াপাড়ায়-মহল্লামহল্লা জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আমরা কাজ করতে পেরেছি। তাই এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড প্রতিরোধে আমরা সক্ষম হয়েছি। এবার ঈদে ছিনতাই কিংবা অজ্ঞান পার্টির খপ্পর তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এসব ঘটনা আগের চেয়ে অনেক কমেছে। নাগরিকদের নিয়ে আমরা যে পেট্টোলিং চালু করেছি সেটি শুধু পুলিশের একার পক্ষে বাস্তবায়ণ সম্ভব নয়। প্রয়োজন জনগনের সমন্বিত প্রয়াস।

কমিশনার বলেন, রাজনৈতিক নয় অথচ আন্দোলনের নামে একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী ২০১৫ সালের জানুয়ারী ফেব্রুয়ারিতে হরতাল-অবরোধের নামে তাজা মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। ডিউটিরহ পুলিশ সদস্যদেরকে পুড়িয়ে মেরেছে। তাদের কাছ থেকে রেহায় পায়নি ভাই হারা বোনটিও। কিন্তু এ সন্ত্রাস দমন করা হয়েছে। তবে পুলিশ একা করেনি। দেশের সকল পেশাজীবী জনগনের সহযোগিতা ছিল। তাই এমন ঘটনা যেনো পুনারাবৃত্তি না হয় সেজন্য সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।

সেবার মান বৃদ্ধির বিষয়ে কমিশনার বলেন, আগে নগরির অসুবিধা সমাধানে চিঠি চালাচালি করতে করতে দুদিন পার হয়ে যেতো। কিন্তু এবার আমরা সিটি করপোরেশন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটা হোয়াটস এ্যাপ গ্রুপ চালু করেছি। এর মাধ্যমে নগরির কোথাও সড়কে পানি জমলে, কিংবা রাস্তা ভাঙা বা অন্য যে কোনো সমস্যায় সবাই মুহুর্তের মর্ধ্যেই সেখানে পৌঁছে গিয়ে কাজ করতে সক্ষম হচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে নাগরিক দুর্ভোগ প্রতিরোধে সকল ব্যবস্থা গ্রহন।

বিচার ব্যবস্থার প্রতি তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আমরা সন্ত্রাসীদের অভিযান করে গ্রেফতার করি। তাদেরকে জেল হাজতে পাঠিয়ে বিচারের প্রত্যাশা করি। কিন্তু বিচার কাজের দীর্ঘ সূত্রতার কারণে অপরাধীরা জামিনে বেরিয়ে ফের একই কাজে লিপ্ত হয়। তাই অভিবাকরাও সতর্ক থাকতে হবে আপনার সন্তান আবদ্ধ রুমে ইন্টারনেটে কি করছে সে বিষয়। কারণ ইন্টারনেটে শান্তির ধর্ম ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে ধর্মের নামে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে কেউ কেউ। আর এটিকে ঘিরেই সৃষ্টি হচ্ছে দ্বন্দ-সংঘাতের।

Bootstrap Image Preview