Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৫ মঙ্গলবার, জুন ২০১৯ | ১০ আষাঢ় ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

দুদকের সেই পরিচালক বাছির সাময়িক বরখাস্ত

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ জুন ২০১৯, ০৭:৪৪ PM
আপডেট: ১০ জুন ২০১৯, ০৭:৪৪ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত


তদন্তের মুখে থাকা পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানের কাছে তথ্য ফাঁস করায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সোমবার (১০ জুন) কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

ডিআইজি মিজানুর ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত জানুয়ারির শুরুর দিকে তাঁকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। বিয়ে গোপন করতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারকে গ্রেপ্তার করানোর অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। তখন তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।

মিজানুরের বিরুদ্ধে এক সংবাদ পাঠিকাকে প্রাণনাশের হুমকি ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রয়েছে। গত বছরের ৩ মে অবৈধ সম্পদসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে মিজানুরকে দুদক কার্যালয়ে প্রায় সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে মিজানুর রহমান ও তার প্রথম স্ত্রী সোহেলিয়া আনারের আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ কোটি টাকারও বেশি সম্পদের খোঁজ পায় দুদক। মিজানুরের নামে ৪৬ লাখ ৩২ হাজার ১৯১ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৭২ লাখ ৯০ হাজার ৯৫২ টাকার অসংগতিপূর্ণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের খোঁজ পাওয়ার কথা দুদকের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। তদন্ত শুরু হওয়ার এক বছরের মাথায় দুদক পরিচালকের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার এই অভিযোগ পাওয়া গেল।

এ ব্যাপারে দুদক পরিচালক ইকবাল মাহমুদ বলেন, অনুসন্ধানের তথ্য অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে প্রকাশ করায় চাকরির শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হল। ঘুষ লেনদের অভিযোগের বিষয়ে আলাদা একটি বিভাগীয় তদন্ত করা হবে।

তিনি আরো জানান, ডিআইজি মিজানের দুর্নীতি তদন্তে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুলিশের বিতর্কিত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে এনামুল বাছিরকে বরখাস্ত করা হয়নি বলেও জানান দুদক চেয়ারম্যান।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, কমিশনের শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও তথ্য পাচারের অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করা হবে।

এ ঘটনায় দুদক সম্পর্কে মানুষের আস্থা সংকট দেখা দেবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কমিশনে ৮৭৪ জন কর্মকর্তা রয়েছে। সবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া সম্ভব নয়। আমরা দুদক পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। আর সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি ও ব্যবস্থা নিয়েছি। তাই আমি মনে করি জনগণের আস্থা সংকটের কিছু নেই।

পুলিশের বিতর্কিত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান সম্পর্কে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ঘুষ দেওয়া ও নেওয়া সমান অপরাধ। এখানে ঘুষের প্রকৃত লেনদেন হয়েছে কিনা সেটিরও তদন্ত করবে দুদক। অন্যায় করলে কেউ ছাড় পাবে না।

Bootstrap Image Preview