Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২২ মঙ্গলবার, অক্টোবার ২০১৯ | ৬ কার্তিক ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ মে ২০১৯, ০৩:৩৩ PM
আপডেট: ২৯ মে ২০১৯, ০৩:৩৩ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত ছবি


বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ ইন্তেকাল করেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়া, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা এবং হৃদরোগে ভুগছিলেন। তিনি সর্বশেষ বিরল স্টিভেন-জনসন সিনড্রোমে আক্রান্ত হন। তাকে গত ২০ মে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত ২৭ মে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন।

সৈয়দ আবু জাফর আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম। বিবৃতিতে তারা বলেন, দেশের রাজনীতিতে যখন সৈয়দ আবু জাফর আহমেদের মতো প্রজ্ঞাবান ও আদর্শনিষ্ঠ নেতার খুব প্রয়োজন, ঠিক এমন সময়ে তার প্রস্থান জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

বিবৃতিতে নেতারা সৈয়দ আবু জাফর আহমেদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। তাতে জানানো হয়, আজ বুধবার সকাল ১০টায় সৈয়দ আবু জাফর আহমেদের মরদেহ সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয় মুক্তিভবনে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হবে।

সৈয়দ আবু জাফর আহমেদের সংক্ষিপ্ত জীবনী

কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ ১৯৫৪ সালের ১১ জুলাই মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা সৈয়দ মনোয়ার আলী এবং মা সৈয়দা আমিরুন্নেসা খাতুন। সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ দর্শনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে উচ্চতর পড়াশোনার জন্য তিনি ১৯৭৯ সালে জার্মানি যান।

ছাত্রজীবন থেকেই সৈয়দ আবু জাফর প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। ছাত্ররাজনীতির পাশাপাশি সিলেটের বিভিন্ন পেশাজীবী-সামাজিক-সাংস্কৃতিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সোচ্চার ছিলেন। ১৯৭০ সালে তিনি মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রসংসদের সাহিত্য সম্পাদক, মৌলভীবাজার জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পরবর্তী সময়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

সিলেটে চা শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে ১৯৭২ সালে সৈয়দ আবু জাফর প্রথম কারাবরণ করেন। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার অব্যবহিত পরই আবার ১৯৭৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি গ্রেফতার হন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় ফের তিনি গ্রেফতার হন এবং বিনা বিচারে দীর্ঘ এক বছর জেলজীবন কাটান। এ ছাড়া এরশাদবিরোধী আন্দোলনেও তিনি ছিলেন সমান সক্রিয়। গণতন্ত্রের ওই উত্তাল আন্দোলন-সংগ্রামে তার সোচ্চার ভূমিকার জন্য তিনি বেশ কয়েকবার গ্রেফতার-নির্যাতনের শিকার হন।

প্রগতিশীল রাজনীতির পাশাপাশি শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনেও সৈয়দ আবু জাফরের ছিল সমান বিচরণ। ছাত্রজীবন থেকেই সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৯০ সাল থেকে মৌলভীবাজারের জনপ্রিয় সাপ্তাহিক মনুবার্তার সম্পাদক-প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পত্রিকাটির প্রকাশনা সম্প্রতি বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি সিপিবির দশম ও একাদশ কংগ্রেসে দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

Bootstrap Image Preview