Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২০ মঙ্গলবার, আগষ্ট ২০১৯ | ৫ ভাদ্র ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

ঘরে বসে সহজেই করুন প্রেগনেন্সি টেস্ট!

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ মে ২০১৯, ০৫:০৪ PM
আপডেট: ২৫ মে ২০১৯, ০৫:০৪ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত


আপনি মা হচ্ছেন কিনা? এই প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য সাধারণত আমরা ডাক্তার কাছে যাই অথবা বাজারে প্রেগনেন্সি টেস্ট করার জন্য যেসব কাঠি পাওয়া যায় তার মাধ্যমে নিশ্চিত হই। তবে আপনি জানেন কী? আপনি চাইলে ঘরোয়া উপায়ে পরীক্ষা করতে পারেন আপনি মা হচ্ছেন কিনা?

প্রাথমিক যে উপায়ঃ

১) পিরিয়ড কি নির্দিষ্ট সময়ে হয়েছে? প্রতিমাসের একটি নির্দিষ্ট সময়ে নারীদের পিরিয়ড হয়ে থাকে (সাধারণত ২৮ দিন পর পর)। সেক্ষেত্রে, খেয়াল রাখুন আপনার পিরিয়ড ঠিক সময়ে হচ্ছে কিনা। যদি ২৮ দিন পর পিরিয়ড না হয়, তাহলে হয়তো আপনি গর্ভধারণ করেছেন। অন্যান্য লক্ষণগুলো মিলিয়ে নিতে পারেন তখন।

২) সামান্য রক্তপাত পিরিয়ডের সময় যদি স্বাভাবিক রক্তপাতের বদলে খুব সামান্য পরিমাণ রক্তপাত হয়ে বন্ধ হয়ে যায়,এই চিহ্নটিকে অবহেলা করবেন না। এটি হতে পারে গর্ভধারণের লক্ষণ।

৩) মাথা ঘোরা, বমি ও হজমে সমস্যা সাধারণত সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি প্রচন্ড দূর্বল, মাথা ঘোরা ও বিষন্ন লাগে এবং সেই সাথে প্রায়ই হজমে সমস্যা বা কোষ্ঠকাঠিন্য্য দেখা দেয়। হতে পারে, আপনার গর্ভধারনের অন্যতম লক্ষণ এটি।

৪। ক্রমাগত ক্লান্তি যদি হঠাৎ করে সারাক্ষণ নিজেকে ক্লান্ত মনে হয় এবং সময়ে অসময়ে কেবল ঘুমোতে ইচ্ছে করে, যা আপনার স্বাভাবিক রুটিনের বাইরে, অন্যান্য লক্ষণগুলোর সাথে এই লক্ষণটি জানিয়ে দেয় আপনি হয়তো গর্ভধারণ করেছেন।

৫। বার বার প্রস্রাবের চাপ খেয়াল করুন, আপনি কি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশীবার, বার বার প্রস্রাবের চাপ অনুভব করছেন? গর্ভধারণের অন্যতম লক্ষণ এটি।

৬। স্তনে পরিবর্তন গর্ভধারণ করার ফলে আপনার স্তনের আকৃতি কিছুটা বৃদ্ধি পাবে ও নিপল গাঢ় রঙ ধারণ করেছে কিনা খেয়াল রাখুন।

খ) নিশ্চিত হবার জন্যেঃ

৭। প্রেগন্যান্সি স্ট্রিপ সাধারণত ঔষধের দোকানগুলোতেই প্রেগন্যন্সি পরীক্ষার স্ট্রিপ পাওয়া যায়। প্রথম পিরিয়ডের ডেট মিস করার পরদিনই এটি দিয়ে টেস্ট করুন। সাধারণত সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম প্রস্রাবে স্ট্রিপটি ডুবিয়ে রেখে পরীক্ষাটি করা সম্ভব। বিস্তারিত নির্দেশনা প্যাকেটেই লেখা থাকে। সাধারনত প্রথম ১ মাসেই এটি ভালো নির্ণয়ের কাজ দেয়। আর এ থেকে আপনি নিশ্চিত হতে পারেন আপনি গর্ভধারণ করেছেন কিনা। তবে যদি ফলাফল নেগেটিভ হয় আর সেই সাথে আপনার পিরিয়ড বন্ধ থাকে, তাহলে কিছুদিন পর আবারো পরীক্ষা করুন।

তবে প্রেগনেন্সি টেস্ট কিট ছিল না বা আবিষ্কারই হয়নি, তখন কী ভাবে নির্ধারণ করা হত যে কোনও নারী গর্ভবতী কিনা?

ইতিহাস বলছে, আছ থেকে প্রায় ৬০০০ বছর আগে মানুষের প্রসাব বা মূত্র পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভাবস্থা শনাক্ত করার পদ্ধতি আবিষ্কার হয় মিশরে। যদি কোনও নারীর সময় মতো মাসিক বা ঋতুস্রাব না হতো, তাহলে ধারনা করা হত সে গর্ভবতী। এ ক্ষেত্রে ওই নারী গর্ভবতী কিনা তা নিশ্চিত হতে তাকে সুরা (অ্যালকোহল) ও খেজুর খাওয়ানো হত, যতক্ষণ না সে বমি করত। যদি সে নারী খুব দ্রুত বার বার বমি করত তাহলে ধারনা করা হত সে গর্ভবতী। এরপর আসে গম-বার্লি পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে কোনও নারী গর্ভবতী কিনা তা নিশ্চিত হতে তাকে একটি পাত্রে রাখা গম-বার্লির উপর প্রশ্রাব করতে বলা হতো। যদি মূত্রে থাকা ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বৃদ্ধির ফলে বীজ অঙ্কুরিত হতো, তা হলে মনে করা হতো যে ওই নারী মা হতে চলেছেন।

আসুন জেনে নেই ঘরোয়া পদ্ধিতে যেভাবে করবেন প্রেগনেন্সি টেস্ট।

ব্লিচ পরীক্ষাঃ একটা প্লাস্টিকের বাটিতে প্রশ্রাবের সঙ্গে ব্লিচ মেশান। যদি ফেনা হতে শুরু করে, তা হলে বুঝতে হবে আপনি মা হতে চলেছেন।

টুথপেস্ট পরীক্ষাঃ একটা প্লাস্টিকের বাটিতে প্রশ্রাবের সঙ্গে এক চামচ টুথপেস্ট মেশান। যদি টুথপেস্ট নীল হয়ে যায়, তা হলে বুঝতে হবে আপনি সন্তানসম্ভবা।

ভিনিগার পরীক্ষাঃ প্লাস্টিকের কাপে ভিনিগার ও প্রশ্রাব মেশান। যদি বুদবুদ তৈরি হয় আর মিশ্রণের রঙে পরিবর্তন ঘটে, তা হলে বুঝতে হবে আপনি সন্তানসম্ভবা।

চিনিঃ একটা বাটিতে প্রশ্রাবের সঙ্গে দু’-তিন চামচ চিনির দানা মেশান। যদি চিনি গলে না গিয়ে দলা পাকাতে বা জমাট বাঁধতে শুরু করে, তা হলে বুঝতে হবে আপনি সন্তানসম্ভবা।

তবে এই সব পদ্ধতিতে প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা সম্ভব আপনি সন্তানসম্ভবা কিনা। নিশ্চিত হতে অবশ্যই চিকিত্সকের পরামর্শ নিন।

Bootstrap Image Preview