Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৭ রবিবার, নভেম্বার ২০১৯ | ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

আনন্দ নেই কৃষক পরিবারে

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৫ মে ২০১৯, ০২:৪৬ PM
আপডেট: ২৫ মে ২০১৯, ০২:৪৯ PM

bdmorning Image Preview
ছবিঃ বিডিমর্নিং


সপ্তাহ পেরোলেই পুরো দেশ মেতে উঠবে ঈদ আনন্দ। নানা শ্রেণী পেশার মানুষজন এই শ্রোতে ভাসলেও থেকে থাকবে নওগাঁর আত্রাইয়ের কৃষকেরা। শুধু আত্রাই নয় পুরো দেশে এমন কৃষক পরিবারের ইদ নেই। ধানের মূল্য কম হওয়ায় উপজেলার কৃষক পরিবারের ঈদ আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। চরম অর্থকষ্টে দিন কাটছে আত্রাইয়ের কৃষকেরা।

অর্থাভাবে বেশিরভাগ পরিবারেই এখনো কেনা হয়নি নতুন জামাকাপড়। কোন কোন পরিবার বিভিন্ন দোকানের ঋণ পরিশোধ করতে কিছু পরিমাণ ধান বিক্রি করে কোন রকমে জীবনধারণ করছেন। আবার অনেকেই ঋণের দায়ে ছেড়েছেন নিজ গ্রাম। সে সব পরিবারের সদস্যরা গৃহকর্তার ফেরার আশায় দিন গুনছেন।

ফলে আত্রাই উপজেলার কৃষকসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষের মাঝে ঈদ নিয়ে নেই বাড়তি কোন উচ্ছাস। ধানের মূল্য কম হওয়ায় উপজেলার কৃষি পরিবারের বেশির ভাগই এবার বঞ্চিত হবেন ঈদ আনন্দ থেকে। ফলে ক্রেতা শূণ্য আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের দোকান-পাট।

উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোতে এ সময়টিতে জামজমাট বিকিকিনি হলেও এ বছর অন্য দৃশ্য। ঈদের বর্ণিল সাজে দোকানগুলো সাজলেও ক্রেতা কম। কারণ একটাই ধানের মূল্য কম। 

রোদ পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে কৃষকেরা দুই বেলা দুই মুঠো ভাতের জন্য পরিবার বাঁচাতে যাদের সর্বক্ষণিক দৌড়ঝাঁপ ঈদ বাজারের দিকে তারা কি আর খেয়াল রাখবে। ঈদ এলেও তারা এখন চরম অসহায়। একদিকে হাতে নেই টাকা। তাদের ছেলে-মেয়েরা ঈদের নতুন জামা কাপড়ের আবদার করলে তারা শুধুই আফসোস করছেন।

উপজেলার শাহাগোলা গ্রামের আজাদ সরদার জানান, কঠোর পরিশ্রম করে এবারে তিনি ২৫শতাংশ জমিতে বোরো চাষ করেছিলেন। এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফলনও বাম্পার হয়েছে। আর মাত্র কয়েকদিন পর ঈদ। ঈদ আসার আগেই ধান ঘরে আসার মহাখুশি হয়েছিলেন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু সেই ধান ঘরে উঠার আগেই ধানের বাজার মুল্যের দরপতন হওয়ায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।

শুধু আজাদ সরদার নয়, ঈদের আনন্দ মলিন হতে হতে বসেছে আত্রাই উপজেলার কৃষক পরিবার। এ বছর লোকসানের মুখে পড়ে কৃষিকাজে আস্থা হারাচ্ছেন আত্রাই উপজেলাসহ এ অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষক। তাই লোকসান থেকে বাঁচতে সরকারের কাছে ধানের ন্যায্য মুল্যের দাবী জানিয়েছেন সাধারন কৃষকরা।

উপজেলার বজ্রপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ মন্ডল বলেন, এ বছর ঋন করে ধান আবাদ করে প্রায় অর্ধেক টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। আগামীতে তিনি আর ধানের আবাদ করবেন না বলেও জানান। এই লোকসান তিনি পুরন করবেন কিভাবে ? বছরে মাত্র একবার রমজানের ঈদ আসে। আসন্ন ঈদের বাজারে পড়েছে ধানের মন্দা ভাব। ঈদে পরিবারের সবাই নতুন কাপড় পড়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করি। এবার সেই ঈদ আনন্দ আমাদের নেই। শুধু ঈদ বলেই নয়। ধান মারাই শুরু হলে স্থানীয় বাজার গুলোতে বিকিকিনি কয়েক গুনে বেড়ে যায়। কিন্তু এ বছর ঈদেও জমে উঠেনি ঈদ বাজার। ঈদের ব্যবসা নিয়েও চিন্তিত ব্যবসায়ীরা। ঈদের বাজারে এখনো ক্রেতার শুন্যতা বিরাজ করছে। বিগত দিনে রমজান শুরু হলেই ঈদের আগাম কেনা কাটা শুরু হয়ে যেত এ উপজেলায়। কিন্তু ধানের বাজারে দরপতনের প্রভাবে মার্কেট গুলো ক্রেতা শুন্য হয়ে পড়েছে।

উপজেলার ভবানীপুর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ জানান, আমাদের এ উপজেলায় ধান মারাই শুরু হলেই আমাদের বিক্রি বেড়ে যায়। কিন্তু এবছর ঈদেও আশানুরুপ ক্রেতা নেই মার্কেট গুলোতে। ধানের দাম কম থাকায় কেনাকাটায় আগ্রহ নেই কৃষকদের। ঈদের জন্য বাহারি ডিজাইনের কাপড় নিয়ে বসে থাকলেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। এবারের ঈদের বাজার তেমন একটা জমবে বলেও মন্তব্য করেন এ কাপড় ব্যবসায়ী।
 

Bootstrap Image Preview