Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৮ বুধবার, সেপ্টেম্বার ২০১৯ | ৩ আশ্বিন ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

বেতন আটকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের চাকরি ছাড়তে বললেন ডা. জাফরুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ মে ২০১৯, ১০:৪১ PM
আপডেট: ২১ মে ২০১৯, ১০:৪১ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত


চলতি মাসের ২১ তারিখ অতিবাহিত হলেও এপ্রিল মাসের বেতন পাননি সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় চার শতাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের অন্যতম ট্রাস্টি ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ডা. লায়লা পারভীন বানুর নির্দেশে শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এপ্রিল মাসের বেতন আটকে রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে রমজান মাসে তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছেন অনেক শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

মূলত বৈধ উপাচার্যের দাবিতে গত ১৬ মার্চ শিক্ষার্থীদের নিজেদের মধ্যে সমন্ময় করে আন্দোলন শুরু করে। ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সময় নিলেও সমাধান না আসায় ৬ এপ্রিল থেকে আন্দোলন শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বৈধ ভিসির অপেক্ষায় শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন এখনো চলমান।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) অনুমোদিত উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে ৪২তম দিন পার হলেও এখনো ধোয়াশায় রয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় সেশনজটের আশঙ্কায় চিন্তিত হয়েছে পড়েছে সাধারণ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা।

এদিকে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষক-কর্মকর্তারা-কর্মচারীদের চলিত মাসের বেতন বন্ধ রেখেছে। ফলে রমজান মাস ও ঈদ সামনে থাকায় বেতন বন্ধের ঘোষণায় বিপাকে পড়েছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক এবং প্রশাসনিক ভবনের সব শিক্ষক-কর্মকর্তা নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত রয়েছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে চাকরি হারানোর ভয়ে অধিকাংশ শিক্ষক কথা বলতে রাজি হননি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিক্ষক-কর্মকর্তার বেতন বন্ধ করে দেয়াকে হঠকারী ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন শিক্ষক ও কর্মকর্তারা।

জানা যায়, ১১ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বেতন বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়। নোটিশ দেয়ার ৫ মিনিট পর সেই নোটিশ উঠিয়ে নেয়া হয় এবং একই তারিখ সংবলিত সংশোধিত নোটিশে বেতন স্থগিতের কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে সেমিস্টার ফি প্রদান না করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক অবনতির কথা উল্লেখ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসন বিভাগের একজন শিক্ষক বলেন, অধ্যাপক ডা. লায়লা পারভীন বানু ২০১৭ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তার নিয়োগ অনুমোদিত না হওয়ায় সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা ৬ এপ্রিল বৈধ উপাচার্যের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। কিন্তু এই আন্দোলনের সঙ্গে আমাদের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সম্পর্ক নেই। তাহলে কেন আমাদের বেতন আটকে রাখা হলো?

ইংরেজি বিভাগের একজন শিক্ষক বলেন, বৈধ উপাচার্য নিয়োগ দিতে ব্যর্থ হলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, আন্দোলন করল শিক্ষার্থীরা আর বেতন বন্ধ হলো শিক্ষক-কর্মকর্তাদের- এটা আসলে অমানবিক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভিসি, রেজিস্ট্রার এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের মধ্যকার দ্বন্দ্ব ঘিরে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যেকে নিজ নিজ ক্ষমতা প্রদর্শনে ব্যস্ত।

প্রশাসনিক ভবনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ভিসি এক প্রকার প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে হাত করে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বেতন আটকে রেখেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও সাধারণ ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা শেখ খোদা নুর রনি বিডিমর্নিংকে বলেন, ভিত্তিহীনভাবে শিক্ষকদের বেতন বন্ধ করা হয়েছে। এ যৌক্তিক আন্দোলনের শুরুতেই শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন না আটকানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আমরা স্মারকলিপি দিয়েছি। আর এখন তো সেমিস্টার ফি দেওয়ার সময় না। সেমিষ্টার ফি নির্দিষ্ট সময়ে দেওয়া হয়েছে।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জিয়াসমিন আক্তার বলেন, ‘বৈধ ভিসি আন্দোলন’ চলমান থাকায় আমাদের ক্লাস-পরিক্ষা সব বন্ধ রয়েছে। এটা নিয়ে অনেকেই সংশয়ে আছে যে আমারা সেশন জটে পরব কিনা। এটা যদি হয়ে যায় তাহলে আমাদের মাস্টার্সে ভর্তি হতে আরো সময় চলে যাবে।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী দিপ বাসাকের বাবা ভজন চন্দ্র বসাক জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছেলেদের অধিকাংশই নিম্ন বা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তাদের বাবা-মা তাদের জন্য যে মাসিক টাকা পাঠান তার জন্য মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কষ্ট করে টাকা উপার্জন করে পাঠাতে হয়। এমনকি অনেক সময় না খেয়ে থেকে টাকা পাঠান। তাদের একটা স্বপ্ন থাকে ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শেষ করে একটা ভাল চাকরি করলে তাদের আর কষ্ট থাকবে না। কিন্তু সেশন জটে পড়ে চার বছরের অনার্স-মাস্টার্স করতে যখন সাত আট বছর লেগে যায়, তখন দেখা যায় সার্টিফিকেট পাওয়ার চাকরি পাওয়ার মতন সময় থাকে না। তখন মা বাবার কি কষ্ট হয় তা কখোনো ভেবে দেখেছেন? তাই প্রশানের উচিত খুব দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা।

আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এনায়েতুল্লাহ কৌশিক বলেন, বৈধ ভিসি না থাকায় আমরা চাকরির ক্ষেত্রে সমস্যায় পরতেও পারি। আমার পরিচিত কয়েকজন এমন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। আমার মনে হয় বিশ্ববিদ্যারয়কে ‍বিষয়টা দ্রুত সমাধান করা উচিত।

রাজনীতি ও প্রশাসন বিভাগের একজন প্রভাষক বলেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সারাদেশে গণতন্ত্র, মানবিকতা এবং জবাবদিহিতার দীক্ষা দিয়ে বেড়ালেও নিজের প্রতিষ্ঠানে এগুলোর অস্তিত্ব নেই। এখানে তিনি কতিপয় অনুসারীদের দিয়ে রাজার রাজত্ব চালান। এ কারণেই রমজান মাসে তার আজ্ঞাবহ স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিদেরকে দিয়ে বেতন বন্ধ করে দেয়ার মতো হঠকারী, অমানবিক, অনৈতিক ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

মেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন শিক্ষক বলেন, এমনিতে আমাদেরকে কোনো উৎসব ভাতা দেয়া হয় না। তার ওপর আবার বেতন বন্ধ। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে ঈদের আগে আমরা বেতন পাব না। এমন অবস্থা সত্যি অমানবিক এবং লজ্জার।

বেতন বন্ধ হওয়ায় এবং চলতি মাস প্রায় শেষ হওয়ার উপক্রম হলেও এ সমস্যার কোনো সুরাহা না হওয়ায় আইন বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, আমরা এক অনিশ্চয়তার ভেতরে বসবাস করছি। অথচ আমরা প্রতিদিন অফিস করছি। ছাত্র-ছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিলে আমরা ক্যাম্পাসের বাইরে রাস্তায় সারাদিন দাঁড়িয়ে থেকেছি। অথচ আমাদের কষ্ট-শ্রমের মূল্য দেয়া হচ্ছে না। বেতন না পাওয়ায় শিক্ষক-কর্মকর্তারা যেমন অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন তেমন সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছেন।

এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, এটা নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলুন। শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে সত্যিকারের যেটা সেটা জানুন। রেজিস্ট্রার তো উপাচার্যের হুকুমের দাস, সেটা আপনারা ভালো করেই জানেন। যদিও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার একটু আলাদা, আমি অনেক কিছু করে থাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য। যদিও ভিসি বলেন আপনাকে আমি বিশ্বাস করি না, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি যদি রেজিস্ট্রারকে বিশ্বাস না করেন তবে বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে চলবে? ছাত্রদের সঙ্গে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য রেজিস্ট্রারের নাম ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের অন্যতম সদস্য ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, টাকা না থাকলে শিক্ষকদের বেতন দেব কোথায় থেকে? প্রত্যেক মাসে মাসেই টিউশন ফি আছে। সব বাকিই পড়ে। অনেকেই দিতে পারে না। আমরা ট্রাস্টিরা তো কোনো বেতন-ভাতা নিই না। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ১০ কোটি টাকা দিয়েছে। জায়গা দিয়েছে ১০ একর। শিক্ষকরা ভেবেছেন এটা উপাচার্যের সমস্যা। ভাই, টাকা না থাকলে বেতন কোথায় থেকে দেব?

এসময় তিনি আরও বলেন, ছাত্ররা একটা আজগুবি সিদ্ধান্তে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিষয়ে ছাত্রদের নাক গলানোর অধিকার নেই। গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ ৩০০ জন শিক্ষক রয়েছেন। কয়টা বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে এমন? তাহলে কি নিয়ে ছাত্রদের আন্দোলন? টিউশন ফি সবচেয়ে কম, জায়গা জমি সবচেয়ে বেশি, খেলাধুলায় ভালো করলে তাতেও টিউশন ফি মাফ আছে। পড়াশোনায় ৯০ ভাগ ক্লাস উপস্থিতি ওপরে টিউশন ফি ছাড় দেয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের তো টাকা নেই, সামর্থ্য নেই। শিক্ষকরা অন্য জায়গায় চাকরি নিতে পারেন। অন্য জায়গায় চাকরি নিয়ে নেক শিক্ষকরা। আর ছাত্ররা ক্লাস করে না, শিক্ষকরা ক্লাসে যান না। শিক্ষকরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারেন না। শিক্ষকরা রাস্তায় এসে কেন বলেননি, ‘ছেলেরা তোমরা পাগলামি করিও না।’

এসব প্রসঙ্গে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) ডা. লায়লা পারভীন বানুর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সাথে শীঘ্রই বসবে। তবে কবে নাগাদ বিষয়টা নিয়ে সমাধানে পৌঁছবে তা বলতে পারছে না। ফলে শিক্ষার্থীরা অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে।

এ আন্দোলনের পুরো দৃশ্যপট তুলে ধরা হলো।

২৬ মার্চ মঙ্গলবার

এদিন ক্যাম্পাসে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা সমাজবিজ্ঞান ও সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান মোহাম্মদ রুবাইকে প্রশাসনিক ভবনে নিয়ে আটকে রাখে। পরে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে মারধরের স্বীকার হওয়া শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

পরে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী চলমান ‘বৈধ উপাচার্য’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ভবনের দেয়ালে ‘ভিসি দিবি কিনা বল’ এবং ‘আমরা অসাম্প্রদায়িক কিন্তু হিজাব আলাদা ব্যাপার’ লেখার কারণে তাকে নিরাপত্তাকর্মী কর্তৃক মারধর এবং লাঞ্ছিত করা হয়।

২৭ মার্চ বুধবার

২৬ মার্চ মঙ্গলবার শিক্ষার্থী হাসান মোহাম্মদ রুবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে এক জরুরি সভায় জানায়, সে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী কর্তৃক কোন ধরনের মারধরের এবং লাঞ্ছনার শিকার হননি।

তিনি দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সমস্যা এবং বৈধ উপাচার্যের আন্দোলনের অংশ হিসেবে একটি পক্ষ এমন গুজব রটাচ্ছেন।

২৮ মার্চ বৃহস্পতিবার

এদিন বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্টার মোঃ দেলোয়ার হোসেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের এক মানববন্ধনে উপাচার্যের বিষয়ে কার্যকরী সিদ্ধান্তে আসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাস্টি বোর্ডের সভা পর্যন্ত সময় নিয়েছিলেন।

১ এপ্রিল সোমবার

বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান উপাচার্যসহ সমসাময়িক সকল সমস্যা নিয়ে কাজ করতে গঠিত হয় 'সাধারণ ছাত্র পরিষদ'। এতে রাজনীতি ও প্রশাসন বিভাগের রনি আহমেদকে আহ্বায়ক ও একই বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুবুর রহমান রনিকে যুগ্ম-আহ্বায়ক করে সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট এ কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করা হয়।

৩ এপ্রিল বুধবার

এদিন গণবিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে অধ্যাপক লায়লা পারভীন বানুকে ৬০ দিনের মধ্যে ২০১০ সালের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৩১ ধারা অনুযায়ী নিয়োগে সহায়তাদানের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক-আল-জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ কথা বলা হয়।

৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার

এদিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শর্ত অনুযায়ী উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে প্রশাসন বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে উপাচার্য বিষয়ে যথাযথ সমাধানের আসার প্রেক্ষিতে ধানমন্ডিস্থ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র নগর হাসপাতালে এক জরুরি সভার আয়োজন করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা।

এতে ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষ থেকে যে সমাধান দেওয়া হয়, তা যথাযথ বলে মনে করেনি সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

পরে সন্ধ্যায় উপাচার্য ইস্যুতে ট্রাস্টি বোর্ডের গৃহীত সিদ্ধান্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে যায় না বলে দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে বৈধ ভিসির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে আন্দোলনের ডাক দেন ‘গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ ছাত্র পরিষদ’র আহ্বায়ক রনি আহমেদ।

৬ এপ্রিল শনিবার

বৈধ উপাচার্যের দাবিতে বিভিন্ন রকম প্ল্যাকার্ড লিখে ‘দাবি মোদের একটাই ইউজিসি কর্তৃক বৈধ ভিসি চাই।’ স্লোগানে আওয়াজ তুলে সকাল ৮টা থেকেই আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা।

পরে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে তারা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

৭ এপ্রিল রবিবার

'দেওয়ার মত সময় নাই, বৈধ ভিসি চাই', 'রক্ত লাগলে রক্ত নে, তবুও বৈধ ভিসি দে' এমন স্লোগানে সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান নিতে শুরু করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

সকাল ১০টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাদাম তলা থেকে মিছিল শুরু করে।

এদিন বিক্ষোভ মিছিলের চারদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিও লক্ষ করা যায়।

পরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কিছু অংশ অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে এবং কতিপয় প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। বেলা ২টায় আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন সাধারণ ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক রনি আহমেদ।

৯ এপ্রিল মঙ্গলবার

এদিন বৈধ উপাচার্যের দাবিতে ৬ জন ছাত্রী এবং ৮ জন ছাত্রসহ মোট ১৪ শিক্ষার্থী সকাল দশটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ট্রাস্টি বোর্ডের সাথে আলোচনায় বসার দাবিতে অনশনে বসেন।

এতে ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষ থেকে আলোচনার কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অনশন চারিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সন্ধ্যার পরে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙাতে আসেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার মো. দেলোয়ার হোসেন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক করম নেওয়াজ, ইংরেজি বিভাগের প্রধান ড. আমজাদ হোসেন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মীর মুর্ত্তজা আলী বাবু, সহকারি রেজিস্টার আবু মুহাম্মদ মুক্কামেল।

১১ এপ্রিল

এদিন বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের সাথে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল বৈঠক করলেও কোনো সমাধান আসেনি। ফলে শিক্ষার্থীরা আরো কঠোর আন্দোলনের ডাক দেয়। একই সাথে ২৫ এপ্রিলের সেমিষ্টার ফাইনাল পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণাও দেয় তারা।

১৩ এপ্রিল শনিবার

‘উপাচার্য নিয়োগের আগ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম বন্ধ’ শিরোনামে নোটিশ টানাতে থাকে আন্দোলনকারীরা।

এদিন বিশ্ববিদ্যালয় ভবনের ভেতরে কোনো বাস প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষকদেরও প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

তবে কিছুটা সময় অতিবাহিত হওয়ার পরে অনেক বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয় ভবনে প্রবেশ করে অবসর সময় অতিবাহিত করতে লক্ষ্য করা যায়।

আন্দোলনকারীদের নোটিশে বলা হয়, ‘বৈধ উপাচার্য চাই’ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এবং উচ্চ আদালতের রায়কে সম্মানপূর্বক রায় চূড়ান্তভাবে বলবৎ যোগ্য না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিলের সুযোগ না হারানো পর্যন্ত অথবা রাষ্ট্রপক্ষ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না করা পর্যন্ত সর্বোচ্চ আগামী ২মে পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক, অ্যাকাডেমিক এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম সাধারণ শিক্ষার্থীদের কর্তৃক বন্ধ ঘোষণা করা হলো।

নোটিশে আরও বলা হয়, ১৫ এপ্রিল (সোমবার) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেইট অতিক্রম করে কোনো শিক্ষক, কর্মচারী, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রবেশ করিতে দেওয়া হবে না। এক্ষেত্রে প্রতি বৃহস্পতিবার প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সনদপত্র উত্তোলনসহ জরুরি কাজ সম্পাদন করার জন্য শুধু পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং প্রশাসনিক অফিস খোলা থাকাবে।

১৭ এপ্রিল বুধবার

‘রক্ত লাগলে রক্ত নে, বৈধ একটা ভিসি দে’, ‘মোদের কেন ভিসি নাই, জবাব দাও জবাব চাই’সহ বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগানে আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ ট্রাস্টি বোর্ডের ওপর চাপ বলবৎ রাখতে সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান নিতে থাকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

২৭ এপ্রিল শনিবার

এদিন রাতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) অনুমোদিত উপাচার্যের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি দেয়।

চিঠিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বৈধ উপাচার্য জনিত সমস্যার সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।

২৯ এপ্রিল সোমবার

শ্রমিক দিবস এবং ৩ মে শুক্রবার ছুটি থাকায় শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈধ উপাচার্যের দাবিতে আন্দোলন ৪ (চার) দিনের জন্য স্থগিত করা হয়।

২ মে বৃহস্পতিবার

এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) ডা. লায়লা পারভীন বানু কর্তৃক শিক্ষার্থীদের গ্রেফতারের হুমকি সংক্রান্ত একটি ফোনালাপ ভাইরাল হয়।

এতে তিনি (ডা. লায়লা) বলেন, আন্দোলন বন্ধ করে ক্লাসে না ফিরলে ‘অন্য কেউ এসে গ্রেফতার করে নিয়ে যাবে’। এছাড়া তার পেছনে সরকার, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) আছে উল্লেখ করেন এবং শিক্ষার্থীদের মামলা, হামলা এমনকি বহিষ্কারের ভয় দেখান।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা তার পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলনের ঘোষণা দেয়।

৪ মে শনিবার

সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের হুমকি দেয়ার প্রতিবাদে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।

সাধারণ ছাত্র পরিষদের সমন্বয়ক শেখ রনি জানান, ‘এমন উপাচার্যের অধীনে আমরা নিজেদের নিরাপদ মনে করছি না। তিনি ভুল স্বীকার করে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত এবং পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

৫ মে রবিবার

এদিন মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলকারীরা কর্মসূচি পালন করে। বন্ধ থাকে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম। চরম ভোগান্তিতে পড়ে শিক্ষক, কর্মকতা-কর্মচারীবৃন্দ। আন্দোলনে কঠোরতা আনতে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টদের।

৬ মে সোমবার

দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) ডা. লায়লা পারভীন বানুকে অবরুদ্ধ করে রাখে আন্দোলনকারীরা। তারা ডা. লায়লা পারভিন বানুর পদত্যাগ এবং শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়ার অপরাধ স্বীকার করে দুঃখবোধ প্রকাশ করার দাবি জানায়।

পরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মীর মর্ত্তুজা আলী, রেজিস্ট্রার দেলোয়ার হোসেন। এরপরে উপাচার্য নিয়ে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের জন্য তারা আলোচনায় বসেন।

গোপন বৈঠক

বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পিএইচএ ভবনে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ডা. লায়লা পারভীন বানুর সাথে প্রশাসনীয় কর্মকর্তাদের সাথে গোপন বৈঠকের সংবাদের ভিত্তিতে পিএইচএ ভবন ঘেরাও করে শিক্ষার্থীরা।

পরে চাপে পড়ে প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মেজবাহ উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়। সমস্যার সমাধানে এ আলোচনা মঙ্গলবার সকাল এগারটায় আবার শুরু হওয়ার কথা জানায়।

৭ মে মঙ্গলবার

শিক্ষার্থীদের ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে আলোচনায় বসে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন। দুই ঘণ্টার আলোচনা নিয়ে সাধারণ ছাত্র পরিষদের উপদেষ্টা মহসিন হোসেন গণমাধ্যমকে জনায়, ‘আমরা নতুনভাবে আমাদের দাবিসমূহ ৭টি দফায় লিখিতভাবে প্রশাসনের নিকট পেশ করেছি। তারা এ ব্যাপারে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।’

৭ দফা দাবিসমূহের মধ্যে বলা হয়, ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের বক্তব্য প্রত্যাহার, হাইকোর্টের নির্দেশ পালনে ৬০ দিন শেষে উপাচার্য নিয়োগ সংক্রান্ত ব্যাপারে ট্রাস্টি বোর্ডের কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ৬০ দিনের মধ্যে উপাচার্য নিয়োগ সম্পন্ন না হলে সর্বোচ্চ ৭ (সাত) দিনের মধ্যে নতুন প্যানেল তৈরী, সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীদের নেয়া যৌক্তিক কোনো কার্যক্রমের বিরোধিতা করে কোনো পদক্ষেপ না নেয়া।

এছাড়াও পূর্বের দেয়া স্মারকলিপি বহাল রেখে ছাত্র পরিষদের কার্যক্রমের সুবিধার্থে একটি রুমের ব্যবস্থা করার দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।

৮ এপ্রিল বুধবার

‘অন্য যে কেউ এসে ধরে নিয়ে যাবে’ মুঠোফোনে দেওয়া এমন মন্তব্য নিয়ে দুপুরে উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) ডা. লায়লা পারভীন বানু নিজ বাসভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে দুঃখবোধ ব্যক্ত করেন।

‘অন্য যে কেউ এসে ধরে নিয়ে যাবে’ মুঠোফোনে দেওয়া এমন মন্তব্য করে ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন সাভারের গণবিশ্ববিদ্যালয়ের (গণবি) উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) ডা. লায়লা পারভীন বানু। দুপুরে নিজ বাসভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিকটে এ দুঃখবোধ ব্যক্ত করেন তিনি।

গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ ছাত্র পরিষদ এর প্রতিষ্ঠাতা শেখ খোদা নুর রনি জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এখন থেকে ওনাদের অফিস করতে পারবেন। তবে পূর্ণাঙ্গ উপাচার্য না আসা অবধি আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

এদিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠনকৃত ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সাথে টানা তৃতীয় দিনের মতো আলোচনায় বসে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দল।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উপাচার্য নিয়োগের কাজ বেশ অগ্রগতির দিকে জানিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানায়। জবাবে শিক্ষার্থীরা সকলের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে শনিবার তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে বলে প্রশাসনকে অবহিত করে।

৯ মে বৃহস্পতিবার

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফেরা না ফেরার ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ভোটগ্রহণ করে। এতে শতকরা ৯৯ ভাগেরও বেশি শিক্ষার্থী উপাচার্য সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ক্লাসে ফিরে যেতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা, ক্লাসে ফিরে গেলে উপাচার্য সমস্যার সমাধান নিয়ে আবার টালবাহানা শুরু হতে পারে। এজন্য ভবিষ্যতের কথা ভেবে তারা পূর্ণাঙ্গ সমাধান নিয়ে তবেই ক্লাস, পরীক্ষাতে অংশগ্রহণ করতে চায়।

১১ মে শনিবার

রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের চলতি মাসের বেতন বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এতে বলা হয়, গত এক মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। ছাত্ররা বৈধ উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে ক্লাস বর্জন করছে ও সেমিস্টার ফি দেওয়া থেকে বিরত রয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। এ অবস্থায় শিক্ষক-কর্মকর্তাদের চলতি মাসের বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। রমজান মাস ও ঈদ সামনে থাকায় বেতন বন্ধের ঘোষণায় বিপাকে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা।

Bootstrap Image Preview