Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৫ মঙ্গলবার, জুন ২০১৯ | ১০ আষাঢ় ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন রোধে বিশেষায়িত সেল চাই

সজীব সরকার
প্রকাশিত: ২১ মে ২০১৯, ০৩:৩৭ PM
আপডেট: ২৫ মে ২০১৯, ০৯:০৮ PM

bdmorning Image Preview


আমি একজন শিক্ষক। সমাজে শিক্ষকের যে সীমাহীন মর্যাদা, তার প্রতি এক ধরনের মোহ থেকেই শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলাম। কিন্তু আজ আর শিক্ষক হিসেবে অহংকার বোধ করি না, রীতিমতো লজ্জা বোধ করি। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা যেভাবে তাদের ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করছেন, তাতে নিজেকে শিক্ষক পরিচয় দিতে আজ লজ্জা হয়, ঘৃণার উদ্রেক হয়।

শিক্ষার্থীদের জীবনে শিক্ষকদের অসীম অবদানের কথা মাথায় রেখে বাবা-মায়ের পরই শিক্ষকদের স্থান দেয়া হয়। একজন শিক্ষকের যেখানে তার শিক্ষার্থীর জীবন গড়ে দেয়ার কথা, সেখানে আমরা দেখছি, কিছু শিক্ষক তার ছাত্রীদের জীবন বরং ধ্বংস করে দিচ্ছেন। যে ক্লাসরুম একজন ছাত্রীর একইসঙ্গে বিদ্যার্জনের পুণ্যতীর্থ ও নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা, সে ক্লাসরুম তার জন্যে আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠছে।

মনে হতে পারে, নিজে শিক্ষক হয়েও আমি অন্য শিক্ষকদের বিরুদ্ধে লিখছি; কিন্তু না, আমি শিক্ষকদের বিরুদ্ধে লিখছি না, আমি লিখছি আমার ছাত্রীদের পক্ষে। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব ছাত্রীর পক্ষে আমি এই লেখাটি লিখছি। অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ করে স্কুল ও মাদ্রাসায় কম বয়সী ছাত্ররাও শিক্ষক বা অন্য কারো দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়; এই লেখা তাদেরও পক্ষে।

স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়-মাদ্রাসা-কোচিং সেন্টারসহ বাংলাদেশের সব 'শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষায়িত একটি সেল চাই' যেটি ওই প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন রোধে কাজ করবে। নিপীড়নের পর এটি কেবল কাউন্সেলিং বা বিচারের ব্যবস্থাই করবে না, এ ধরনের ঘটনা যেন কখনোই না ঘটে, তা নিশ্চিত করতেও কাজ করবে এই সেল। সরকারি আদেশে এই ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

আর এই সেলের একটি আলাদা অফিস কক্ষ থাকতে হবে এবং তা থাকবে যথেষ্ট দৃশ্যমান অবস্থানে যেন প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের পরপরই তা চোখে পড়ে। স্বাভাবিক দৃষ্টিসীমার বাইরে বা সহজ কথায় চোখের বাইরে থাকলে তা মনের বাইরেও চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে!

শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করতে যৌন নিপীড়ন রোধে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষায়িত সেল বাধ্যতামূলক করা হোক- এই দাবি করছি। আর ক্রমেই দেশের সব প্রতিষ্ঠানে একই ব্যবস্থা নেয়ারও পরামর্শ দিচ্ছি। পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনকেও যথাযথ উপায়ে নিরাপত্তার আওতায় আনা হোক- এই দাবিও থাকলো; এজন্যে বিশেষ করে বাসের মতো গণপরিবহনগুলোকে প্রাথমিকভাবে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা যেতে পারে।

কেবল এসব উদ্যোগ এ ধরনের নিপীড়ন ঠেকাতে শতভাগ সফল হবে, অবশ্যই তা নিশ্চিত করে বলা যায় না; এজন্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকসহ সবার সচেতন হতে হবে, আইনের সঠিক ও দ্রুত প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু এই উদ্যোগের ফলে নিপীড়নের প্রবণতা ও সুযোগ কিছুটা হলেও কমবে- তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

আশা রইলো, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসমূহ আশু পদক্ষেপ নেবে। এজন্যে সচেতন নাগরিকদেরও সমর্থন জানাতে এবং উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হোক শিক্ষার্থীর অভয়ারণ্য, শিক্ষক হোক শিক্ষার্থীর শুভসাধক।

সজীব সরকার : সহকারি অধ্যাপক; জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ; স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। লেখক ও গবেষক।
[email protected]

Bootstrap Image Preview