Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৭ শনিবার, আগষ্ট ২০১৯ | ২ ভাদ্র ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

বাবুরহাটে জমে উঠেছে কাপড়ের পাইকারি বাজার

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ মে ২০১৯, ০৮:০৬ PM
আপডেট: ১৪ মে ২০১৯, ০৮:০৬ PM

bdmorning Image Preview


পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সারা দেশের পাইকারি ক্রেতাদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে দেশের অন্যতম বৃহত্তর শেখেরচরের বাবুরহাট পাইকারি কাপড়ের বাজার।

সরজমিনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত শেখেরচরের বাবুরহাটে গিয়ে দেখা গেছে, রোজার দুই সপ্তাহ আগে থেকেই দেশীয় এই কাপড়ের বাজারটিতে বেচাকেনা শুরু হয়েছে। এখন চলছে শেষ সময়ের কেনাবেচা। বাজারটির ছোট-বড় সাত হাজার দোকানে শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রিপিস, থান কাপড়, বিছানার চাদর, শার্ট পিস, প্যান্ট পিস, পাঞ্জাবির কাপড় ও গামছাসহ দেশীয় প্রায় সব ধরনের কাপড়ের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা।

রাজশাহী, বগুড়া, সিলেট, চট্টগ্রাম, ফেনী, বরিশাল, পিরোজপুর, চাঁদপুর, পটুয়াখালী, জামালপুর, ভোলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল ও মানিকগঞ্জসহ দেশের নানা প্রান্তের পাইকারি ক্রেতাদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে বাজারটি। দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানোর জন্য ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওপর ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনে তোলা হচ্ছে শত শত কাপড়ের গাইট (আঁটি)।

স্থানীয় কাপড় ব্যবসায়ীরা জানান, এই দেশীয় কাপড়ের বাজারটিতে রোজার শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কাপড়ের খুচরা ও পাইকারি ক্রেতারা আসতে শুরু করায় বেচাকেনা শুরু হয়েছে পুরোদমে। ক্রেতাদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে প্রতিবছরই ঈদ উপলক্ষে এখানকার কাপড়ের ডিজাইনে আনা হয় বৈচিত্রতা। দেশের কাপড় উৎপাদনকারী প্রায় সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শোরুম রয়েছে এখানে।

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগ কারখানাও নরসিংদী কেন্দ্রিক। ফলে এখানকার উৎপাদিত কাপড়ের গুণগত মান ভালো ও দামেও সাশ্রয়ী। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানে তৈরিকৃত যাবতীয় কাপড়ের সমারোহ থাকে এখানে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় ও ন্যায্য দামে চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের দেশীয় কাপড় পাওয়ার কারণে এই হাটকে ঘিরে পাইকারি ক্রেতাদের আগ্রহও বেশি।

সিলেটের হাসান মার্কেটের খুচরা কাপড় ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম বলেন, বাবুরহাট থেকে রমজানের শুরুতে যে কাপড় কিনে নিয়েছিলাম, তা শেষ পর্যায়ে। তাই আবার এসেছি শেষ সময়ের ঈদের বাজারটি ধরতে।

সিলেটের শ্রীমঙ্গল থেকে আসা পাইকারি ক্রেতা হাজি মো. শাহ আলম মিয়া বলেন, বাবুরহাটে লুঙ্গি থেকে শুরু করে সব ধরণের দেশীয় কাপড় সুলভ মূল্যে পাওয়া যায়। একসঙ্গে সব ধরনের কাপড় ও ন্যায্য দাম সুবিধার জন্যই আমরা নিয়মিত এখানে আসি। এ বছর ঈদ উপলক্ষে দোকানের জন্য অতিরিক্ত কাপড় কিনেছিলাম, বিক্রি ভালো তাই আবার আসতে হয়েছে বাবুরহাটে।

শেখেরচর-বাবুরহাট বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, বাজারটিতে নিয়মিত (শুক্রবার ও শনিবার) সাপ্তাহিক হাটে ৬০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা বেচাকেনা হলেও এবারে ঈদ উপলক্ষে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। এ বছর ঈদ উপলক্ষে ১৩০০ কোটি থেকে প্রায় ১৭০০ কোটি টাকার কাপড় বেচাকেনা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সন্তোষজক বিক্রির কারণে ব্যবসায়ীরাও খুশি।

ঈদ উপলক্ষে দিন ও রাতে এই হাটের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারসহ যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

Bootstrap Image Preview