Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৮ বৃহস্পতিবার, জুলাই ২০১৯ | ৩ শ্রাবণ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

পরিচয় মিলেছে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিহত ৩৭ বাংলাদেশির

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ মে ২০১৯, ১১:২৩ AM
আপডেট: ১৪ মে ২০১৯, ১১:২৩ AM

bdmorning Image Preview


লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবে নিহত ৬০ অভিবাসীর মধ্যে ৩৭ জন বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে।

সোমবার (১৩ মে) ২৭ বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।

নিহতরা হলেন- নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার জয়াগ গ্রামের নাসির, ঢাকার টঙ্গীর কামরান, সিলেটের জিল্লুর রহমান, কিশোরগঞ্জ জেলার জালাল উদ্দিন, সুনামগঞ্জের মাহবুব, মাদারীপুর জেলার সজিব, সিলেট বিয়ানীবাজারের রফিক ও রিপন, শরীয়তপুরের পারভেজ, কামরুন আহমেদ মারুফ, মৌলভীবাজার কুলাউড়ার শামিম, কিশোরগঞ্জ জেলার আল-আমিন, ফেন্সুগঞ্জ সিলেটের লিমন আহমেদ,আব্দুল আজিজ ও আহমেদ,সিলেট দক্ষিণ সুরমার জিল্লুর, বাইল্যাহার মৌলভীবাজারের ফাহাদ, সিলেট ফেন্সুগঞ্জের আয়াত, হাউড়তোলা সিলেটের আমাজল, সিলেটের কাসিম আহমেদ,সিলেট বিশ্বনাথের খোকন, রুবেল, সিলেটের মনির,বিশ্বনাথ সিলেটের বেলাল, সুনামগঞ্জের মাহবুব, নাদিম, সিলেট গোলাপগঞ্জের মারুফ প্রমুখ।

নৌকা ডুবি থেকে বেঁচে যাওয়া শিশির বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে ফোনে জানান, বেঁচে যাওয়া ৬ জনের বাড়ি শরিয়তপুর জেলার নরিয়া থানার চারুগা গ্রামে। তারা হলেন, রাজিব, উত্তম, পারভেজ, রনি, সুমন ও জুম্মান।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পারিবারিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপন বিভাগের দায়িত্বরত পরিচালক ইমাম জাফর শিকদার বলেন, তিউনিসিয়া রেড ক্রিসেন্টে প্রাদেশিক প্রধান ডা: মাঙ্গি সিলাম এর মাধ্যমে জীবিত ৪ বাংলাদেশি নাগরিকের সাথে ফোনালাপের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য মতে ২৭ জন বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়াও ৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ৫ জনের মৃতদেহ সোমবার সকাল পর্যন্ত দুর্ঘটাস্থলের কাছাকাছি নেভি ক্যাম্পে রয়েছে। তিনি বলেন, বেঁচে যাওয়া ১৬ জনের মধ্যে ১৪ জন বাংলাদেশি, ১ জন মিশরীয় ও ১ জন মরক্কোর নাগরিক রয়েছে।

এদিকে, নৌকা ডুবিতে নিহত ও জীবিত বাংলাদেশিদের তথ্য আদান প্রদানের জন্য চালু করা হয়েছে দুটি হট লাইন নম্বর : ৮৮-০২-৪৯৩৫৪২৪৬ ও ০১৮১১৪৫৮৫২১। ৪৯৩৫৪২৪৬ এই নম্বরটি অফিস চলাকালিন প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এবং ০১৮১১৪৫৮৫২১ নম্বরটি ২৪ ঘন্টা খোলা থাকবে বলে জানিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, জাতীয় সদর দফতর, ৬৮৪-৬৮৬, বড় মগবাজার অথবা ৬৪টি জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটে আহত ও নিহতের স্বজনরা সরাসরি যোগাযোগ করে তথ্য সংগ্রহ ও রেড ক্রিসেন্টের সেবা নিতে পারবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নৌকা ডুবি, সশস্ত্র সংঘাত এবং অভিবাসনের ফলে যদি কারো পরিবারের সদস্য পরিবার থেকে বিছিন্ন হয়ে পড়ে তাদের পারিবারিক যোগাযোগ পুন :স্থাপনে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়াও অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে বিশ্বের বিভিন্ন কারাগারে আটক বাংলাদেশী নাগরিক এবং বাংলাদেশের কারাগারে আটক বিদেশী নাগরিকদের পারিবারিক যোগাযোগ পুন:স্থাপনে কাজ করছে সোসাইটি আরএফএল বিভাগ।

অভিবাসন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) এ ঘটনাকে জানুয়ারির পর সবচেয়ে ভয়াবহ বলে আখ্যায়িত করেছে। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে মিডিয়ায় গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে।

ওদিকে ইতালিতে অবৈধ অভিবাসী প্রবেশ প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির উগ্র ডানপন্থি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তিও সালভিনি। তিনি আরোপ করেছেন ‘ক্লোজড পোর্টস’ পলিসি। এর অর্থ হলো, সমুদ্রে উদ্ধার হওয়া কোনো অভিবাসীকে তার দেশে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।

শরণার্থী বিষয়ক জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনএইচসিআর ভূমধ্যসাগরে এমন ভবিষ্যত ট্রাজেডি এড়ানোর জন্য অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে।

ভূমধ্যসাগর বিষয়ক ইউএনএইচসিআরের বিশেষ দূত ভিনসেন্ট কোচেটেল বলেন, ওই অঞ্চলে আমাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান জোরদার করা জরুরি। যদি এখনই আমরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিই তাহলে কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে আরো এমন ট্রাজেডি দেখতে হবে আমাদের।

Bootstrap Image Preview