Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২০ শনিবার, জুলাই ২০১৯ | ৫ শ্রাবণ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

ধনীদের চেয়ে ৫০০ বছর পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে গরিবরা

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ মে ২০১৯, ০৬:০৮ PM
আপডেট: ১৩ মে ২০১৯, ০৬:০৮ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত


আল্লাহ তাআলা দুনিয়াকে পরকালের শষ্যক্ষেত্র হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। যারা এ দুনিয়ায় তাঁর দেখানো পথে চলবে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ মতে জীবন পরিচালনা করবে তারাই সফলকাম। তারাই জান্নাত লাভ করবেন।

এই ধরাতে মানুষ সৃষ্টির সেরা। আমরা জান্নাতের সুসংবাদ পেয়ে, জাহান্নামের আযাবের কথা শুনে কেন যে ভয় পাই না? কিসে আমাদের বাধা দিয়ে রেখেছে! হে আল্লাহ!

তোমার খাস বান্দা যারা, তারা সর্বক্ষণ তোমাকে পাওয়ার আশায় দিবানিশি অবিরাম লুটিয়ে পরেছেন জায়নামাজে। একমাত্র তোমাকে পাওয়ার আশায়, তোমার দরবারে কাটিয়েছেন নিদ্রাহীন রজনী। দিয়েছেন আমাদেরকে আলোর দিশা।

কুরআন নিয়ে গবেষণা করেছেন, তরজমা করেছেন, বই লিখেছেন। জীবনের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত শুকনো রুটি খেয়ে রোযা রেখেছেন অবিরত। আমরা আজ আখেরাতের কথা ভুলে গিয়ে দুনিয়ায় কিছু পাওয়ার আশায় অন্ধ হয়ে আছি।

একটুও চিন্তা করিনা যে, আমি যখন মরে লাশ হয়ে যাব, তখন এই পৃথিবীতে আমার কোন মূল্যই থাকবে না। আমি বড়ই অসহায় হয়ে যাব। তখন তো আমার টাকা-পয়সা, ধন-দৌলত কোন কাজে আসবে না। সন্তান-সন্তুতি, আত্মীয়-স্বজন কেহ আমার সঙ্গী হবে না।

তখন আমার নেক আমলই আমার সঙ্গী হবে, আর বাকিসব পরে থাকবে। তাই জীবন থাকতে আখেরাতের জন্য কিছু অর্জন করে নিই। হাদিসে আছে যারা নিজেকে চিনল এবং আখেরাতের জন্য (আল্লাহর হুকুম পালন করে) আমল করল তারাই বুদ্ধিমান। [মুসনাদে আহমদ : ৩৪/৪৮৮, তিরমিযি : ৪/৪৯৯, শুআবুল ঈমান : ২১/৪৭১]

আমাদের সমাজে ধনী ও দরিদ্র এই দুই শ্রেণীর মানুষ বাস করে। ধনীরা তাদের অবস্থানকে মজবুত করার জন্য যেমন বেশি বেশি ধন-সম্পদ লাভের চেষ্টা করে; তেমনি দরিদ্ররা তাদের দুঃখ-কষ্ট দূর করার জন্য ধন-সম্পদের প্রতি আগ্রহী হয়। কিন্তু এটা পরীক্ষিত সত্য যে, বেশি ধনসম্পদ থাকলেই মানুষ সুখী হতে পারে না। কারণ অতিরিক্ত ধন-সম্পদ মানুষকে আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে।

এছাড়া ধন-সম্পদ মানুষকে অহংকারী করে তুলতে পারে। আল্লাহ তাআলা তো কে গরীব, কে ধনী, কে ফর্সা, কে কালো, কে সুন্দর কে কুৎসিত তা দেখবেন না। আল্লাহ তাআলা দেখবেন তার বান্দার অন্তর, আমল, আখলাক-চরিত্র। যারা ঈমানদার গরীব তারা ধনিদের থেকে পাঁচশত বছর আগে বেহেস্তে যাবে।

হাদিসের কিতাবগুলোতে গরিব ও অসহায় মানুষের ফজিলত ও মর্যাদাসংক্রান্ত অসংখ্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে। হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেছেন, রসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, এরূপ বহু লোক যাদের মাথার চুল উস্কখুস্ক, মানুষের দরজা থেকে বিতাড়িত- তারা আল্লাহর নামে শপথ করলে আল্লাহতায়ালা তা পূরণ করেন (মুসলিম শরিফ)। অর্থাৎ তারা আল্লাহর কাছে এত দামি যে, তারা যা বলেন, মুখে যা উচ্চারণ করেন, আল্লাহতায়ালা তা কবুল করে নেন।

অপর হাদিসে এসেছে, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, অভাবগ্রস্ত লোকেরা ধনী লোকদের পাঁচশ বছর আগে বেহেশতে প্রবেশ করবে এবং তা হবে কেয়ামতের অর্ধ দিন (তিরমিজি)। আমরা জানি, কেয়ামতের একদিন দুনিয়ার এক হাজার বছরের সমান। তাই কেয়ামতের অর্ধদিন হলো দুনিয়ার পাঁচশ বছর। আর্থিকভাবে যারা দুর্বল প্রিয়নবী (সা.) তাদের প্রশংসা করেছেন।

হজরত আবু দারদা (রা.) নবী করীম (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, রসুলে আকরাম (সা.) বলেছেন, তোমাদের দুর্বলদের মধ্যে আমাকে তালাশ করবে। কেননা দুর্বলদের দরুণই তোমাদের (সবলদের) জীবিকা দান করা হয়। অথবা বলেছেন, সাহায্য দান করা হয় (আবু দাউদ)। গরিব ও অভাবী লোকেরা জান্নাতে বেশি যাবে।

এ বিষয়ে প্রিয়নবী (সা.) বলেন, আমি বেহেশতের দিকে দৃষ্টিপাত করে দেখলাম যে, তার অধিবাসীদের অধিকাংশই গরিব মিসকিন। আর দোজখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, তার অধিকাংশ অধিবাসী নারী। অন্য হাদিসেও এর সমর্থন পাওয়া যায়।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, গরিব মুহাজিররা কেয়ামত দিবসে ধনবানদের ৪০ বছর আগে বেহেশতে পৌঁছে যাবে (মুসলিম)।

হজরত সহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একবার এক ব্যক্তি রসুলুল্লাহ (সা.) এর কাছে দিয়ে গমন করল। তিনি তখন তার কাছে উপবিষ্ট এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করলেন, যে লোকটি এই মাত্র চলে গেল তার সম্পর্কে তোমার ধারণা কী?

সে বলল যে, ইনি তো অন্যতম সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি। আল্লাহর কসম, ইনি এরূপ যোগ্য ব্যক্তি যে, যে কোনো পাত্রীর কাছে তার বিবাহের পয়গাম গেলে ওই পাত্রী তার সঙ্গে বিবাহে রাজি হবে। তখন রসুলুল্লাহ (সা.) কিছুক্ষণ নীরব রইলেন। অতঃপর আর এক ব্যক্তি ওই স্থান দিয়ে চলে গেল।

রসুলুল্লাহ (সা.) তার সম্পর্কেও কাছে বসা লোকটিকে জিজ্ঞাসা করলেন। বললেন, এ লোক সম্পর্কে তোমার ধারণা কী? সে বলল, এ ব্যক্তি তো এক দরিদ্র মুসলমান। সে তো এরূপ অযোগ্য যে, যে কোনো পাত্রীর প্রতি সে বিবাহের পয়গাম পাঠালে কেউই তা গ্রহণ করবে না।

আর সে যদি কারও ব্যাপারে কোনো সুপারিশ করে তাও কবুল করা হবে না। কোনো কথা বললে সে কথাও শোনা হবে না। তখন রসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি যার প্রশংসা করলে, সারা জগৎ তার মতো লোকে পরিপূর্ণ থাকলেও তাদের সবার তুলনায় ওই লোকটি উত্তম। যাকে তুমি অযোগ্য বলছ (বোখারি, মুসলিম)।

Bootstrap Image Preview