Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২১ রবিবার, জুলাই ২০১৯ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

বৈশাখকে পুঁজি করে চড়া দামে বিক্রি ইলিশ

রায়হান শোভন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০১৯, ০৩:৫৬ PM
আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০১৯, ০৪:১৫ PM

bdmorning Image Preview


দরজায় কড়া নাড়ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। আর পহেলা বৈশাখ মানেই যেনো পান্তা-ইলিশ খাওয়ার ধুম। কিছু মানুষের এই ভ্রান্ত ধারণাকে পুঁজি করেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কারাসাজিতে বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ।

আজ শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ানবাজার, হাতিরপুল বাজার, মিরপুর-৬নং বাজার ও মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজারে পর্যাপ্ত ইলিশের সরবরাহ থাকলেও সরবরাহ কম থাকার অজুহাত দেখিয়ে অনেকটা ইচ্চমতো হাকা হচ্ছে ইলিশের দাম। তবে দাম বেশি হলেও ক্রেতারাও থেমে নেই। বেশি দাম দিয়েই কিনছেন ইলিশ। বাজারে প্রতিটি ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ থেকে ২৫০০ টাকায়। যা সপ্তাহখানেক আগে বিক্রি হয়েছে ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকায়। প্রতি পিস ৯০০ থেকে ১কেজি ওজনের ইলিশের দাম হাকানো হচ্ছে ৩২০০ থেকে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ২৫০০ টাকায়। বাজারে সামান্য পরিমাণ বড় সাইজের ইলিশ থাকলেও দাম হাকানো হচ্ছে ৫০০০ থেকে ৫৫০০ টাকা।

ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে ব্যাপক ইলিশের চাহিদা রয়েছে। তবে যে পরিমাণ ইলিশের চাহিদা বাজারে রয়েছে সে পরিমাণ সরবরাহ বাজারে নেই। তাই ইলিশের দাম কিছুটা বেশি।

কারওয়ানবাজারের মৎস্যব্যবসায়ী শের মোহাম্মদ বিডিমর্নিংকে বলেন, বৈশাখ উপলক্ষে বাজারে ইলিশের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম। তাছাড়া আমরাতো আর মাছ ধরে আনি না। আমরা ঘাট থেকে যেমন দামে আনি তেমন দামেই বিক্রি করি।

মিরপুর-৬নং বাজারের মৎস্যব্যবসায়ী করিম মিয়া বিডিমর্নিংকে বলেন, সারা বছরে এই পহেলা বৈশাখেই ইলিশের বেচাকেনা সবচেয়ে ভালো হয়। বছরে এই এক সপ্তাহেই একটু দাম বেশি রাখা হয়। আর সারা বছরইতো ন্যায্যমূল্য ইলিশ বিক্রি করা হয়। অন্য সবার মত আমাগোওতো বৈশাখ আছে। এই সময় একটু লাভ না হইলে পোলাপান নিয়ে বৈশাখ করমু কেমনে।

হাতিরপুল বাজারে গিয়ে দেখা যায় কারওয়ানাবাজারের থেকে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ জানতে চাইলে বাজারের মৎস্যব্যবসায়ী আসলাম সিকদার বিডিমর্নিংকে বলেন, বৈশাখ উপলক্ষে এক সময় আমরা দুই তিন মাস ধরে ফ্রিজে ইলিশ সংরক্ষণ করতাম। গত দুই বছর ফ্রিজে ইলিশ রেখে অনেকেই ধরা খেয়েছেন। এ কারণে এবার মজুদের পরিমাণ কম। যার ফলে বাজারে ইলিশের দাম কিছুটা চড়া।

প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়ে ইলিশ না খাওয়ার জন্য আহ্বান জানানোর পর বিগত দুবছর ইলিশের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রিত ছিল। কিন্তু এ বছর ফের দেখা গেছে ইলিশের বাজারে অস্থিতিশীল অবস্থা।

বৈশাখে কেনো ইলিশ খেতে হবে এমন প্রশ্নের জবাবে কারওয়ানবাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারী কোম্পানির কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বিডিমর্নিংকে বলেন, বৈশাখে ইলিশ খেতে হবে এমন কোনো বাধাধরা নিয়ম নেই। তবে আমরা সেই ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি পহেলা বৈশাখ মানেই পান্তা-ইলিশ ও বাহারি রকমের ভর্তার পসরা। কিন্তু এটা আসলে কোনো নিয়ম না যে ইলিশ খেতেই হবে।

হাতিরপুল বাজারে দেখা হয় গৃহিণী শেলী চোধুরীর সাথে। ৩৫০০ টাকা খরচ কিরে কিনেছেন দুটি ইলিশ মাছ। তিনি বলেন, বাচ্চারা বায়না ধরেছেন পহেলা বৈশাখে ইলিশ খাবে। তাই দামের দিকে আর তাকাইনি। যদিও অন্যান্য সময়ের চেয়ে ইলিশের দাম অনেক বেশি।

ইলিশের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার কারণে অনেকেই মুখ গোমরা করে ইলিশ না কিনেই ফিরেছেন বাড়ী তেমনই একজন শুক্কুর মিয়া। তিনি বিডিমর্নিংকে বলেন, আমি প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার বাজার করতে হাতিরপুল বাজারে আসি।গত সপ্তাহে ইলিশ কিনব বলেও কেনা হয়নি। যে দাম তাতে আর ইলিশ কেনা হলো না। আজ শুক্রবার ইলিশের নিয়ত করে আসলাম কিন্তু দাম পাক্কা দ্বিগুণ। আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের ইলিশ খাওয়া সাজে না।

Bootstrap Image Preview